রায়েরবাজারে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা

আগের সংবাদ

বিজেএমসির অব্যবস্থাপনার মাশুল দিচ্ছেন শ্রমিকরা

পরের সংবাদ

সহযোগী সংগঠন-শাখা কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব

আ.লীগে আত্মশুদ্ধির চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ , ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ , ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী ও এক ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলন গত মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলন। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগেও আনা হয়েছে নতুন নেতৃত্ব। প্রতিটি সংগঠনেই শীর্ষ দুই পদে এসেছে নেতৃত্বের পরিবর্তন। বাদ দেয়া হয়েছে পুরনো নেতৃত্ব। সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনায় চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবেই তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। এখন নতুন নেতৃত্বের সামনে চ্যালেঞ্জ, নিজ নিজ সংগঠনে আত্মশুদ্ধি অর্জনে কতটুকু সফল হবেন তারা।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণের সম্মেলন হয়েছে গত ৩০ নভেম্বর। ওই দিনই শেখ বজলুর রহমানকে সভাপতি ও এস এম মান্নান কচিকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং আবু আহম্মেদ মন্নাফীকে সভাপতি ও হুমায়ুন কবিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই চার শীর্ষ নেতাকে ঘিরে অনুসারীদের উচ্ছাস এখনো চলছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল নিয়ে নেতাদের বাসা ও দলীয় কার্যালয়ে ভিড় করছেন। আসছেন বিগত সময়ে কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতারাও। ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা। মঞ্চ সাজসজ্জা কমিটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজে হাত দিতে পারছেন না। কেন্দ্রীয় সম্মেলন শেষ হওয়ার পর পরই দুই মহানগরীর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পাশাপাশি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজে হাত দেবেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মন্নাফী বলেন, আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন নিয়ে আমরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছি। তাই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কাজ শুরু করতে পারিনি। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছি। তার কাছে কিছু নাম আছে। সেগুলোসহ আমাদের তিনি বলেছেন, যারা বিতর্কিত, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ভ‚মিদস্যু, ক্যাসিনো কারবারে জড়িত তারা যেন কোনোভাবেই কমিটিতে ঠাঁই না পায়। বিগত কমিটিতে যারা নানা গ্রুপিংয়ের কারণে সব ধরনের যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও বঞ্চিত হয়েছেন। কমিটিতে তাদের প্রাধান্য দেয়া হবে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, শুদ্ধি

অভিযানের যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কমিটিতে পরিবর্তন এনেছেন। আমরা তার মনোভাব বুঝেই মহানগর, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটিগুলো ঢেলে সাজাব। কোনো জায়গায় যেন কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি ঠাঁই না পায়, সে ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব। সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ কোথাও অপকর্ম করার চেষ্টা করলে তাকে সংগঠন থেকে বের করে দেয়া হবে।

আওয়ামী স্বেচাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, শুদ্ধি অভিযানের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ ও তৃণমূলেও আমরা সেই ধারাবাহিকতা রাখতে চাই। তরুণ, মেধাবী, পরিচ্ছন্ন ইমেজ, ত্যাগী, যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই তাদের কমিটিতে রাখব। যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের প্রাধান্য থাকবে। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ২৫১ সদস্যের। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ১৫১ আর জাতীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ১০০ জন। আগে নির্বাহী সংসদের কমিটি ঘোষণা করব। পরে জাতীয় কমিটি ঘোষণা হবে। শতভাগ গঠনতন্ত্র মেনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেননি তিনি।

যুবলীগের সম্মেলন হয়েছে ২৩ নভেম্বর। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান ও মাইনুল হাসান খান নিখিলকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়ছে। যুবলীগে যে কালিমা লেপন হয়েছিল নতুন কমিটি গঠনে তা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। নতুন কমিটির ওপর তৃণমূলের আস্থা বেড়েছে। শেখ মনির ছেলে দায়িত্ব পাওয়ায় সাধারণ মানুষও আস্থাশীল সংগঠনটির প্রতি।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল বলেন, সম্মেলনের পূর্বে সময় স্বল্পতা ও সাংগঠনিক কিছু সমস্যার কারণে সপ্তম কংগ্রেসে সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুমোদন হয়নি। আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে গঠনতন্ত্র সংশোধনের কাজ চলছে। এটি অনুমোদিত হওয়ার পর কমিটি গঠনে আমরা হাত দেব। যাদের বয়স আছে, সাবেক ছাত্রনেতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী বুদ্ধিজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক সব শ্রেণিপেশার মানুষ জীবনবৃত্তান্ত জমা দিচ্ছেন। সেগুলো বিশ্লেষণ করে দলীয় সভাপতির পরামর্শ নিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করব। যুবলীগের মোট কমিটি ৩৫১ সদস্য বিশিষ্ট। ১৫১ জন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ। আর ২০০ জন সিসি মেম্বার।

নিখিল আরো বলেন, আমাদের চ্যালেঞ্জ বিতর্কমুক্ত কমিটি করা। সেখানে অর্থের বাণিজ্য হবে না। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসায়ী, ভ‚মি দখলকারী, অরাজনৈতিক ও অপকর্মকারীদের স্থান হবে না। যুবলীগকে আমরা নতুন ধারায় যুব সমাজের কাছে নিয়ে যেতে চাই। সংগঠনের আর কোনো নেতা বা কর্মীকে অপকর্ম করতে দেব না।
কৃষক লীগের সম্মেলন হয়েছে ৬ নভেম্বর। কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র চন্দ সভাপতি ও উম্মে কুলসুম স্মৃতিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরইমধ্যে ১১১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছেন তারা। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে আওয়ামী লীগ সভাপতি কমিটি অনুমোদন দেবেন।
কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দ বলেন, কমিটিতে পরিচ্ছন্ন, ত্যাগী ও সাবেক ছাত্রনেতাদের রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কৃষিক্ষেত্রে যারা পদক পেয়েছেন, শিক্ষক, আইনজীবী এবং দ্বিগুণ নারী সদস্যকে আমরা রেখেছি। তৃণমূল থেকেও ২০ থেকে ২৫ জন প্রবীণ নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করব। শুদ্ধি অভিযান সফল করতে সাংগঠনিকভাবে আমরা জিরো টলারেন্স অবস্থানে।

শ্রমিক লীগের সম্মেলন হয় ১১ নভেম্বর। এই সম্মেলনে সভাপতি পদে সাবেক ছাত্রনেতা ফজলুল হক মন্টু, কার্যকরী সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে আজম খসরু নির্বাচিত হন। এ সংগঠনে ফজলুল হক সম্পর্কে খুব একটা অভিযোগ না থাকলেও সাধারণ সম্পাদক খসরুর রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, শ্রমিক লীগে আসার আগে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর এরশাদের শাসনামলে জাতীয় পার্টি এমনকি ফ্রিডম পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। শ্রমিক লীগের সাবেক একজন সভাপতির আত্মীয় হওয়ার সুবাদে ওই নেতার হাত ধরেই শ্রমিক লীগের রাজনীতিতে আসেন খসরু। সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক করায় দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ক্ষোভে শ্রমিক লীগের রাজনীতি থেকেও দূরে আছেন অনেকেই। আর এই সুযোগে খসরু ও তার অনুসারীরা এরইমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। ফুটপাত থেকে শুরু করে রাজধানীর প্রতিটি অবৈধ রিকশা ও লেগুনা স্ট্যান্ড থেকে তার নির্দেশে চাঁদা তোলা হচ্ছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও তার অনুসারীরা বিভিন্নভাবে দখলের পাঁয়তারা করছেন। এরইমধ্যে সুবিধাবাদীদের নিয়ে একটি নিজস্ব বলয়ও তৈরি করেছেন খসরু।
কমিটি গঠন প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে আজম খসরুকে ফোন করা হলে, পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাৎ ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি মোবাইলে কোনো কথা বলবেন না বলে জানান এই প্রতিবেদককে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়