মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মঞ্চনাটক

আগের সংবাদ

রেলে কেন এত দুর্ঘটনা প্রশ্ন মন্ত্রীর

পরের সংবাদ

চলচ্চিত্রে মুক্তি সংগ্রাম

অনুপম হায়াৎ

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ , ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটক, অনেক পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও সংবাদচিত্র। শোষক শ্রেণি উৎখাত করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই এসব সিনেমা নাটকের লক্ষ্য ছিল। মুক্তি সংগ্রামে প্রথম সার্থক চলচ্চিত্র নির্মাতা হচ্ছেন জহির রায়হান। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’ ও ‘এ স্টেইট ইজ বর্ন’ নির্মাণ করেন। যুদ্ধের পরিস্থিতি ধারণ করে আলমগীর কবির নির্মাণ করেন ‘লিবারেশন ফাইটার্স’ ও বাবুল চৌধুরী নির্মাণ করেন ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’ নামে প্রামাণ্যচিত্র। মানবিকতায় সমৃদ্ধ এসব ছবি বিশ্ব জনমত গঠনে সহায়তা করে। পাশপাশি নাটকও মুক্তিকামী বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীনতার চার দশকে সারা দেশের বিভিন্ন নাট্যদল মঞ্চে এনেছে আনুমানিক পাঁচ শতাধিক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। নাটক-চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সাময়িকীর আয়োজন।

বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার ও তাত্ত্বিক আইজেনস্টাইন চলচ্চিত্রকে গ্রেনেডের মতো শক্তিশালী মনে করতেন। কারো মতে ক্যামেরা হচ্ছে রাইফেল। যে চলচ্চিত্রে জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সত্তা- মূল্যবোধ অধিকার ইত্যাদির অংশগ্রহণ প্রতিফলিত হয় এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনে নির্মিত হয় সেসব চলচ্চিত্রকে মুক্তি সংগ্রামের চলচ্চিত্র বলা যেতে পারে। বাংলাদেশে এ কথাটির প্রথম ব্যবহার লক্ষ করা যায় জহির রায়হানের ‘স্টপ জেনোসাইড’ ছবিতে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নির্মিত ও মুক্তিপ্রাপ্ত এই প্রামাণ্যচিত্র টাইটেলে তিনি ইংরেজিতে ব্যবহার করেছেন ফিল্ম অন বাংলাদেশ ন্যাশনাল লিবারেশন ওয়্যার, অর্থাৎ বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের চলচ্চিত্র।

জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের চলচ্চিত্র কথাটি নতুন কোনো ধারণা নয়। আধুনিককালে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তিশালী মাধ্যম চলচ্চিত্র হাতিয়ার হিসেবে বহু দেশের সংগ্রামীরা ব্যবহার করেছেন সাম্রাজ্যবাদী শাসক-শোষকদের বিরুদ্ধে। এসব চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে প্রতিকূল পরিবেশে বা গোপন আস্তানায় অথবা মুক্তাঞ্চলে। শোষক শ্রেণি উৎখাত করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই এসব ছবির লক্ষ্য। ল্যাটিন আমেরিকার একটি দেশেও জাতীয় মুক্তি সংগ্রামভিত্তিক এ ধরনের বিপ্লবী চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

বাংলাদেশে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে প্রথম সার্থক চলচ্চিত্র নির্মাতা হচ্ছেন জহির রায়হান। পাকিস্তান সামরিক জান্তার হিংস্র দানবীয় দৃষ্টির মধ্যেও তিনি ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০) এবং ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ (১৯৭১ অসমাপ্ত) চলচ্চিত্রে মুক্তি সংগ্রামের চেতনাকে ফ্রেমের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। একটি পারিবারিক নাটকের আড়ালে তিনি ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিতে ১৯৬৮-৬৯ সালে প্রবল গণ ও ছাত্র আন্দোলন, একুশের অবিস্মরণীয় গান (আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি), প্রভাত ফেরি, মিছিল, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, রবীন্দ্রনাথের গান (আমার সোনার বাংলা, যা পরে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হয়), নজরুলের জেল ভাঙার গান (কারার ঐ লৌহ কপাট ভেঙে ফেল), ইত্যাদি তুলে ধরেন। ছবিটি ছিল আসলে রূপক, প্রতীকধর্মী। এতে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আগাম ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল। পাকিস্তানের ২৫ বছরের ইতিহাসে ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছিল প্রথম রাজনৈতিক চলচ্চিত্র। ঐ ছবিতে প্রথম উচ্চারিত হয় ‘অন্ন চাই-বস্ত্র চাই-বাঁচার মতো বাঁচতে চাই’, ১১ দফা জিন্দাবাদ ইত্যাদি স্লোগান ছবিটির রাজনৈতিক বক্তব্যে গতিশীল হয়েছিল, তৎকালীন সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার রাও ফরমান আলী- তিনি নির্মাণ পর্বে ছবিটির কাজ বন্ধ রাখা এবং শুটিংকৃত অংশ আটকের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেন্সর বিধিতে কোনো নির্মাণাধীন ছবি আটকানোর নিয়ম নেই। তাই ফরমান আলী সেন্সর বোর্ডের কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রভাবিত করে যাতে ‘জীবন থেকে নেয়া’র ছাড়পত্র দেয়া না হয়। ছবিটির মুক্তির তারিখ নির্ধারিত ছিল ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল, শুক্রবার। আগাম টিকেটও বিক্রি হয়েছিল অনেক। কিন্তু ফরমান আলীর ফরমান না পাওয়ার কারণে ছবিটি ছাড়পত্র পায়নি। ফলে বিক্ষুব্ধ দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে ভাঙচুর চালায় এবং মিছিল করে প্রতিবাদ জানায়। এ অবস্থায় সামরিক কর্তৃপক্ষ ছবিটির ছাড়পত্র দিতে বাধ্য হয়। পরের দিন ছবিটি যথারীতি মুক্তি পায়।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মুক্তি সংগ্রামের ওপর জহির রায়হানের আর একটি চলচ্চিত্রের প্রচেষ্টা ছিল ‘লেট দেয়ার বি লাইট’। বহুভাষিক এ ছবিটির শুটিং শুরু হয় ১৯৭১ সালের প্রথমদিকে। কিন্তু মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় এ ছবির কাজ। তখন থেকে ছবিটি রয়ে গেছে অসমাপ্ত।

জহির রায়হান মহান ভাষা আন্দোলনের ওপর ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের কথাও ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ছবিটি তৈরির অনুমতি দেয়নি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জহির রায়হানকে বিপ্লবী চলচ্চিত্র তথা জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ দেয়া হয়। তিনি পাকিস্তানি অধিকৃত অঞ্চল ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। অন্য কর্মীদের নিয়ে গঠন করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র, এতে স্বল্পদৈর্ঘ্য/প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

এসব ছবি তৈরির উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে সরাসরি চিত্রায়নের মাধ্যমে স্বাধীনতাকে অগ্রসর করা, দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করা, বিশ্ববিবেককে তুলে ধরা, নির্যাতিত ও স্বাধীনতাকামী মানুষের আকাক্সক্ষাকে তুলে ধরা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্মিত জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের চলচ্চিত্রের মধ্যে মাত্র ৪টি প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের কথা আমরা জানতে পারি। এ ৪টি চলচ্চিত্র হচ্ছে জহির রায়হানের পরিচালিত ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘এ স্টেট ইজ বর্ন’ এবং জহির রায়হান প্রযোজিত আলমগীর কবির পরিচালিত ‘লিবারেশন ফাইটারস’ এবং বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’। ‘স্টপ জেনোসাইড’ ছবিটির বিষয়বস্তু, নির্মাণশৈলী, আঙ্গিক ও উপস্থাপনা, নান্দনিকতার ভাস্বর। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা, বিশ্ববিবেকের নিস্পৃহতা, শরণার্থীদের দুঃখ-কষ্ট এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রস্তুতি দেখানো হয়েছে কুশলতার সঙ্গে। ‘স্টপ জেনোসাইড’ জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে চলচ্চিত্রের প্রথম খন্ড।

লেনিনের বক্তব্য ও স্থিরচিত্র দিয়ে ছবিটি শুরু, এরপরেই চলমান দৃশ্য ঢেঁকিতে ধান ভানারত কিশোরী, হঠাৎ কুকুরের ঘেউ ঘেউ, গুলির শব্দ, প্রাণ ভয়ে উড়ন্ত কাকের চিৎকার, অসংখ্য লাশ, ভেঙে পড়ে বার্লিনের দেয়াল। টাইটেল ‘স্টপ জেনোসাইড’ : গণহত্যা বন্ধ কর। টেলিপ্রিন্টারে ঠক ঠক : ডেডলাইন ২০ জুলাই, নিউইয়র্ক। মহিলা কণ্ঠে উচ্চারিত জাতিসংঘের মানবাধিকারের ধারা। কাট টু বাংলাদেশ-আবার ২০ জুলাই, তবে স্থান বনগাঁ সীমান্ত। ইংরেজিতে আলমগীর কবিরের ধারা বিবরণী, সেই সঙ্গে হাজার হাজার শরণার্থীর মিছিল- ছেলে, বুড়ো, শিশু প্রাণ ভয়ে পালাচ্ছে ভিটেমাটি ছেড়ে অত্যন্ত দুর্গম কর্দমাক্ত বৃষ্টিস্নাত পথে ভেঙে ভেঙে। হত্যার দৃশ্য। শরণার্থী শিবিরে ক্লোজআপে বুড়োর বীভৎস অভিজ্ঞতা বর্ণনা, ফরিদপুরে বিনোদ বিহারীর কথা, নাম না জানা ধর্ষিতার নিঃশব্দ চাহনি, কসাই ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে একজনের নিন্দা। এরপরও ক্যামেরার ফ্রেমজুড়ে একটি উলঙ্গ শিশুর মূত্রত্যাগের দৃশ্য যেন পাকিস্তান রাষ্ট্র তলিয়ে যাচ্ছে এই অপবিত্র প্রবাহ ধারায়। কিন্তু পরক্ষণে জন্ম নিচ্ছে নতুন দৃশ্য। গাঁয়ের পথে গাছ গাছালির আড়াল আর পাখির ডাকের মধ্যে মালকোঁচা দেয়া দৃপ্তপদে বন্দুক হাতে এগিয়ে যাচ্ছে একদল মুক্তিযোদ্ধা…।

‘স্টপ জেনোসাইড’ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য প্রামাণ্য দলিল। মানবিকতায় সমৃদ্ধ এ ছবিটি বিশ্ব জনমত গঠনে সহায়তা করে। ছবিটি (সিডালক) এবং তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির পুরস্কার পেয়েছে।

বলা যায় এ স্টেট ইজ বর্ন হচ্ছে বাঙালিদের স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং পাকিস্তানিদের নির্যাতন নৃশংসতার বিভিন্ন ঘটনার প্রামাণ্য ইতিহাস। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম, জিন্নাহর শপথ গ্রহণ, ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষার দাবি, ১৯৫২ সালে রক্তাক্ত ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের সোহরাওয়ার্দী-হক-ভাসানীর যুক্তফ্রন্ট, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, ৯২-ক ধারা জারি, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব ইস্কান্দারের নেতৃত্বে সামরিক শাসন, ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সালে ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা, ১৯৬৮-৬৯ সালের ছাত্র ও গণআন্দোলন, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ১৯৭১ সালের মার্চের গণ ও অসহযোগ আন্দোলন, পাকিস্তান বাহিনীর আক্রমণ, স্বাধীনতা ঘোষণা, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরের মন্ত্রিসভা গঠন এবং মুজিবনগর সরকারের নেতাদের সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎ স্বাধীন বাংলার রাষ্ট্রীয় কাঠামো- আদর্শ-উদ্দেশ্য-রাজনীতি-অধিকার-অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে রূপরেখা।

ছবির শুরুতে রয়েছে আমার সোনার বাংলা গান, আবহমান বাংলার দৃশ্যাবলি। নতুন করে ক্যামেরায় চিত্রায়িত দৃশ্য ছাড়াও এতে রয়েছে হাতে আঁকা স্কেচ, স্থির চিত্র, লেটারিং, স্টক শট ইত্যাদি। সেই সঙ্গে দেখানো হয় বাঙালিদের সংগ্রাম। ছবিতে ক্লোজআপে একটি লাশের বুক থেকে গল গল করে রক্ত বেরিয়ে আসছে, দেখে চোখ ছলছল করে ওঠে। সেই পাকিস্তান আমলের শত নির্যাতন আর উত্তাল দিনগুলো যেন জীবন্ত ফ্রেম।

জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের ওপর আলমগীর কবির বানিয়েছেন ‘লিবারেশন ফাইটারস’। এ ছবিতে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ ইত্যাদি দেখানো হয়েছে। বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘ইনোসেন্ট মিলিয়ন’ ছবিতে হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার শিকার অসংখ্য বাঙালি ও শরণার্থী শিবিরে নারী-পুরুষ-শিশুদের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।

জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের ছবির প্রায় সবগুলোর বৈশিষ্ট্য আমরা আর একটি প্রামাণ্য চিত্রে খুঁজে পাই। এ ছবিটি হচ্ছে তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদের ‘মুক্তির গান’ (১৯৯৫)। এ ছবির দৃশ্য তোলা হয়েছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় লিয়ার লেভিং নামে একজন মার্কিন চলচ্চিত্রকার যুদ্ধকালীন ট্রাকবাহী একটি সংগীত দলের সঙ্গে ক্যাম্পে ক্যাম্পে, পথে পথে ঘুরে ঘুরে চিত্রগ্রহণ করেছিল। দলটির কার্যক্রম ছিল মুক্তাঞ্চলের যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে গানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা। যুদ্ধের সময়কার এসব ফুটেজ ২০ বছর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উদ্ধার করে এবং আরো অন্যান্য সূত্র থেকে নিদর্শন সংগ্রহ করে ‘মুক্তির গান’ নির্মাণ করেছেন তারেক দম্পতি। এ ছবিটিও আমাদের মুক্তি সংগ্রামের এক প্রামাণ্য দলিল।

বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের চলচ্চিত্রগুলো সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শন অবশ্যই কাম্য। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ‘জীবন থেকে নেয়া’ ও ‘স্টপ জেনোসাইড’ ছাড়া ‘এ স্টেট ইজ বর্ন’ ও ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’-এর কপি ফিল্ম আর্কাইভে নেই এবং এ দুটো চিত্র কখনো প্রেক্ষাগৃহ ও টেলিভিশনে দেখানো হয় না। যুদ্ধদিনের এসব প্রামাণ্যচিত্র বারবার দেখানো এবং দেখা উচিত।

এমএইচ