মূল্যস্ফীতি বেড়েছে পেঁয়াজের কারণে

আগের সংবাদ

নারীদের কল্যাণে ফারজানা ছবির সংগঠন ‘অনন্যা’

পরের সংবাদ

চট্টগ্রাম-৮ আসনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার নগরীর

মোসলেমের প্রত্যাশা পূরণ

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ , ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ

বারবার চট্টগ্রাম-৮ নির্বাচনী আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে বিফল হলেও এবার উপনির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে উজ্জীবিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন। গত ৭ নভেম্বর জাসদ নেতা সাংসদ মইন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে এ আসনটি শূন্য হয়। কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাংসদ বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও কপাল খুলেছে মোসলেম উদ্দিনের। তবে নামে বোয়ালখালী আসন হলেও এর অধিকাংশই পড়েছে কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে। ফলে নির্বাচনে শুধু বোয়ালখালীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। কারণ এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮-এর মধ্যে মাত্র ১ লাখ ৬৪ হাজার ভোট কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে বোয়ালখালীতে। বাকি ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৮৮ ভোট কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড়ে চট্টগ্রাম নগরীতে।

গত ৭ নভেম্বর মইন উদ্দীন খান বাদল মারা যাওয়ায় সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ আসনের উপনির্বাচন হতে পারে আগামী ১৩ জানুয়ারি। প্রথমবারের মতো এই আসনে ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। ইসির নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে আগামী ১৩ জানুয়ারি উপনির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান। তিনি একাধারে নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। আবু সুফিয়ান বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় মোসলেম উদ্দিনের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও এ আসনে আওয়ামীবিরোধী ভোটও নেহায়েত কম নয়। আবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিতরা মুসসেম উদ্দিনের পক্ষে ঠিক কতটা মাঠে নামবেন সেটি দেখার বিষয়। তবে সব কিছু মিলিয়ে নৌকার কাণ্ডারি মোসলেম উদ্দিনের জিতে আসার সম্ভাবনা বেশি। কারণ গত তিন তিনটি নির্বাচনে মইন উদ্দীন খান বাদল জিতেছেন বেশ বড় ব্যবধানে। তাই এবারো উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মোসলেম উদ্দিনকে হয়তো খুব বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে না।

চট্টগ্রাম-৮ আসনটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩, ৪, ৫, ৬নং ওয়ার্ড এবং বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল ইউনিয়ন, পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়ন, পূর্ব গোমদণ্ডী ইউনিয়ন, শাকপুরা ইউনিয়ন, সারোয়াতলী ইউনিয়ন, পোপাদিয়া ইউনিয়ন, চরণদ্বীপ ইউনিয়ন, আমুচিয়া ইউনিয়ন ও আহল্লা করলডেঙ্গা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। কেন্দ্র ১৮৯টি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নৌকা প্রতীকে সাংসদ হন আওয়ামী লীগের এম কফিল উদ্দিন, দ্বিতীয় সংসদে সিরাজুল ইসলাম, তৃতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির মনজুর মোরশেদ খান, চতুর্থ সংসদে বিএনপির সিরাজুল ইসলাম, পঞ্চম সংসদে বিএনপির সিরাজুল ইসলাম, ষষ্ঠ সংসদে জাতীয় পার্টির হয়ে মনজুর মোরশেদ খান, সপ্তম সংসদ ও অষ্টম সংসদে বিএনপির মনজুর মোরশেদ খান। এরপর থেকে টানা নবম, দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মহাজোটের শরিক জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল সাংসদ হন।