গড়াইয়ে ডুবতে বসেছিল কবিগুরুর বোট ‘পদ্মা’

আগের সংবাদ

হাকিমপুরী জর্দা তুলে নেয়ার নির্দেশ

পরের সংবাদ

স্বর্ণকন্যা ইতির কথা

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ , ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের আরচারিতে সব স্বর্ণ জিতে অনন্য রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশের আর্চাররা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চুয়াডাঙ্গা জেলার মেয়ে ইতি খাতুন। যে কিনা একদিন বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে আরচারি ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিল বলেই আজ নেপাল আর্চারির সোনার মঞ্চে। মেয়েদের রিকার্ভ এককের ফাইনাল ভুটানকে পরাজিত করেন ইতি। একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পুরুষ রিকার্ভ এককে জিতেছেন রোমান সানা।

মাত্র ১১ বছর বয়সেই বাবা তাকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে দিতে যাচ্ছিলেন। পাত্রপক্ষের পছন্দে বিয়ের মঞ্চও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসা ইতি খাতুন বিয়ের আসর ছেড়ে তীর ধনুক হাতে নিয়েছেন। বিয়ের আসর থেকে পালানো সেই মেয়েটাই পোখারায় রোমান সানাকে সঙ্গে নিয়ে আরচারি মিশ্র রিকার্ভে দেশকে সোনা এনে দিয়েছেন। মেয়েদের দলগত রিকার্ভেও সোনা জেতায় অবদান রয়েছে তার। এই ইভেন্টে ইতির সঙ্গে ছিলেন মেহনাজ আক্তার মনিরা ও বিউটি রায়। এই জুটি লঙ্কান আর্চারদের হারায় ৬-০ সেটে। এরপর ব্যক্তিগত ইভেন্টে মেয়েদের রিকার্ভ এককের সেমিফাইনালে ৬-০ সেট পয়েন্টে অলিম্পিকে কোটা পাওয়া আরচার ভুটানের কারমাকে হারান ইতি। ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ছিল ভুটানের সুনাম দেমা। গতকাল ব্যক্তিগত রিকার্ভে স্বর্ণ জিতে ট্রিপল ক্রাউন অর্জনে অনন্য এক ইতিহাস গড়লেন ১৪ বছর বয়সী এই আরচার।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) প্রতিভা অন্বেষণের আবিষ্কার ইতি। চুয়াডাঙ্গা স্টেডিয়ামে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আর্চারির প্রাথমিক বাছাইয়ে প্রথম হয়েছিলেন ইতি খাতুন। চুয়াডাঙ্গার ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এবারই প্রথম অংশ নিয়েছেন এসএ গেমসের মতো বড় আসরে। প্রথমবার বড় প্রতিযোগিতায় সুযোগ পেয়েই মিক্সস ডাবলসে স্বর্ণ জিতে ভীষণ খুশি ইতি। পরে মেহনাজ আক্তার মনিরা ও বিউটি রায়কে সঙ্গে নিয়ে মেয়েদের দলগত রিকার্ভেও সোনা জেতেন তিনি।

ইতিকে একটা সময় তীর ধনুক হাতেই নিতে দিতেন না তারা বাবা ইবাদত আলি। পদক জয়ের পর সেই দুঃখের কথা শুনিয়ে ইতি বলেন, বাবার পক্ষে সংসার চালিয়ে আমাদের পড়ালেখা চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। তাই তিনি প্রায়ই বলতেন, মেয়ে হয়ে জন্মেছিস, কেন খেলবি? তোর খেলাধুলার দরকার নেই। বিয়ে-শাদি দিয়ে দেই, শ্বশুরবাড়ি গিয়ে সংসারে মন দে। কিন্তু আমি কখনই এসব কথা মাথায় নেইনি। তাইতো সাহস করে বিয়ের আসর ছেড়ে আরচারি ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলাম।

ইতির বাবা ইবাদত আলি হোটেলের কর্মচারী। তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় তাকে। মেয়েদের স্কুলের খরচ জোগাতে পারেন না বেশির ভাগ সময়। মেয়েকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন সে জন্যই। কিন্তু সিদ্ধান্তটা যে কত বড় ভুল ছিল, গতকাল তা আবার প্রমাণ করলেন ১৪ বছর বয়সী এই আরচার।

এসআর