শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও হুইল চেয়ার বিতরণ

আগের সংবাদ

আত্রাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

পরের সংবাদ

মহামারির কারণ হতে পারে নিপাহ ভাইরাস

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ , ১২:৫০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে সাধারণত শীতকালে নিপাহ সংক্রমণ দেখা যায়। এর ভাইরাসে আক্রান্তের সময়কাল মূলত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা খুব একটা বেশি না হলেও এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা অনেক। বাংলাদেশে ২০০১ থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নিপাহতে আক্রান্ত হয়েছে ৩১৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২১৭ জন। বলা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে মৃতের হার ৭০ শতাংশ।  ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করে আসছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, আমাদের দেশে খেজুরের কাঁচা রস পানে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। নিপাহ একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক রোগ, যা বাদুড় থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। এ রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে- জ্বরসহ মাথাব্যথা, খিঁচুনি, প্রলাপ বকা, অজ্ঞান হওয়াসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে মারাত্মক শ^াস কষ্ট। নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কিছু পরামর্শও দেন তিনি। সেগুলো হলো- খেজুরের কাঁচা রস পান না করা, বাদুড়ে খাওয়া আংশিক ফল না খাওয়া, আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার পর সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা।

সোমবার (৯ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুরে শুরু হওয়া নিপাহ ভাইরাস বিষয়ক এক সম্মেলনে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিপাহ ভাইরাস ‘মারাত্মক মহামারি’র কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে রয়টার্সে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপাহ আক্রান্তদের চিকিৎসায় এখনো কোনো ওষুধ কিংবা টিকা উদ্ভাবন না হওয়ায় এতে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ।

সম্মেলনের সহ-আয়োজক কোয়ালিয়শন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের (সিইপিআই) প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হ্যাচেট বলেন, নিপাহ ভাইরাস শনাক্তের পর ২০ বছর কেটে গেলেও এই ভাইরাসের কারণে তৈরি হওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি সামলানোর মতো পর্যাপ্ত উপকরণ এখনো বিশ্বে নেই।

তিনি আরো বলেন, এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখনো পর্যন্ত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমাবদ্ধ, তবে এটি মারাত্মক মহামারির রূপ নিতে পারে। কারণ এই ভাইরাসের বাহক টেরোপাস (ফ্লাইং ফক্স নামেও পরিচিত) বাদুড় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়, যেখানে প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। তা ছাড়া যেহেতু মানুষের মাধ্যমেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে, সে ক্ষেত্রে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটির ছড়িয়ে পড়াটাও খুব স্বাভাবিক।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ জানান, নিপাহ ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ৫ থেকে ১৪ দিন পর রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। তাই নিকট সময়ে যারা খেজুরের রস খেয়েছেন বা খাবেন তাদের সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। আক্রান্ত মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে এ রোগ। তাই যারা রোগীদের সেবা দিয়েছেন এবং মৃতদের সৎকার করেছেন, তাদের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। রোগীর সঙ্গে একই পাত্রে খাওয়া বা একই বিছানায় না ঘুমানো, রোগীর ব্যবহৃত কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী ভালোভাবে পরিষ্কার করা, রোগীর কফ ও থুতু একটি পাত্রে রেখে পরে তা পুড়িয়ে ফেলা, রোগীর শুশ্রুষা করার সময় মুখে কাপড়ের মাস্ক, হাতে গ্লাভস পরে নেওয়া, যে এলাকা নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, ওই এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ বন্ধ হওয়ার পর আরো অন্তত ২১ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।