বিটিভিতে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে পুতুলের গান

আগের সংবাদ

কিছু বিশ্বাস করার আগে যাচাই করে নিন

পরের সংবাদ

ঢাবি সমাবর্তনের ছবি কেনা যাবে ২ হাজার টাকায়!

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ , ২:২৪ অপরাহ্ণ

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি শিক্ষার্থীর সবচেয়ে আবেগের বিষয়টি হল সমাবর্তন। চার বছরের স্নাতক শেষে শিক্ষার্থীরা এ সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করেন। এখানে শিক্ষা ও গবেষণায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য দেয়া হয় স্বর্ণপদক। যা তারা গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে। স্বাভাবিকভাবেই এ স্মরণীয় মুহুর্ত সবাই ফ্রেমবন্দি করে রাখতে চাইবেন। কিন্তু যেখানে স্বয়ং রাষ্ট্রপতি উপস্থিত, সেখানে নিরাপত্তার কারণে ক্যামেরা বা মুঠোফোন নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ছবি বিক্রির রমরমা ব্যবসা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫২ তম সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠানস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমাবর্তন চলাকালীন সময়ে ছবি তুলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তা বিক্রি করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি। তোলা ছবি বিক্রির জন্য শিক্ষার্থীদের ভিজিটিং কার্ডও দিয়েছেন তারা। প্রতিটি ছবির জন্য ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন। ফটোগ্রাফিক সোসাইটির একাধিক সদস্য বিশেষ নিরাপত্তা পাশের মাধ্যমে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করে এ বাণিজ্য পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন গ্রাজুয়েটের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদক নেয়ার এমন আবেগী মূহুর্তের স্থিরচিত্র নিয়ে বাণিজ্য করার মাধ্যমে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এক রকম জিম্মি করছে শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি সভাপতি আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, আমরা একটি ছবির দাম দু হাজার টাকা করে চাই নি। এটা ঠাট্টাচ্ছলে একজনকে দু হাজার টাকা বলেছি। কিন্তু তিনি এটাকে সিরিয়াসলি নিয়েছেন। পুরো ঘটনাটি আসলে ভুল বোঝাবুঝি।

কারও অনুমতি ছাড়া তার ছবি তোলা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের “সুস্পষ্ট লঙ্ঘন”। তারপরও কেন ছবি তোলা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি আসলে পুরো সমাবর্তনের ছবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তুলেছি। আর এসব ছবি প্রোগ্রামেরই অংশ।

কর্তৃপক্ষের কাছে ছবি তোলার অনুমতি নিয়েছেন, কিন্তু তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির অনুমতি নিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের সুস্পষ্ট কোন জবাব দিতে পারেন নি তিনি। একই বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাফিজ ইমতিয়াজও কথা বললেন সভাপতির সুরে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানকে ফোন দেয়া হলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন, তাই এখন কথা বলতে পারবেন না বলে জানান।

এসআর