অষ্টম স্বর্ণ জিতলো বাংলাদেশ

আগের সংবাদ

বার্সাকে শীর্ষে নিলেন মেসি

পরের সংবাদ

সিরামিক রপ্তানি কমেছে ৭০ শতাংশ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ , ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

দেশের অন্যতম একটি সম্ভাবনাময় খাত হচ্ছে সিরামিক পণ্য। ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে পণ্যটির রপ্তানি। গত অর্থবছরেও এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩২ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে সিরামিক পণ্য রপ্তানিতে বিপর্যয় ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমায় মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশে^র ৫০টির বেশি দেশে রপ্তানি হয় বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য। এর মধ্যে ২০ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে ও ৩০ শতাংশ যায় ইউরোপে। বাকি ৫০ শতাংশ রপ্তানি হয় বিশে্বর অন্যান্য দেশে।
সিরামিকের আন্তর্জাতিক বাজার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের। এতে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব খুবই সামান্য হলেও যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে রপ্তানি চাহিদা ক্রমেই বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু ঘটেছে এর উল্টোটা। চাহিদা বাড়েনি বরং কমেছে। আর চাহিদার ঘাটতি থাকায় মূলত রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বাংলাদেশি সিরামিক পণ্য রপ্তানি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি হয় ৫ কোটি ডলারের। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি ৩২ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। কিন্তু চলতি অর্থবছরের ৪ মাসে (জুলাই-অক্টোবর) মারাত্মক পতন হয়েছে রপ্তানিতে। এ সময় রপ্তানি হয় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের সিরামিক পণ্য, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের ৪ মাসে রপ্তানি কমেছে ৭০ শতাংশ।

এ ব্যাপারে বিসিএমইএর জেনারেল সেক্রেটারি ও ফার সিরামিকস লিমিটেডের পরিচালক ইরফান উদ্দিন বলেন, অর্থবছরের ৪ মাসের রপ্তানি পরিসংখ্যানে সিরামিক পণ্য রপ্তানির প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে না। কারণ ক্রিসমাস উপলক্ষে যে ব্যবসা থাকে, সেই চাহিদা অনুযায়ী জুন-জুলাইয়ের আগে বিপুল পরিমাণ সিরামিক পণ্য রপ্তানি হয়। প্রতি বছর ডিসেম্বরের দিকে স্থানীয় বাজারের ব্যবসা ভালো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা কম থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে রপ্তানি নিয়ে বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে ইউরোপের বাজারেও মন্দার প্রভাবে কমেছে রপ্তানি। ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ৪ মাসে রপ্তানি কমেছে এমন দেশগুলোর মধ্যে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে সিরামিক পণ্য রপ্তানি হয় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক, তাইওয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশে। দেশের সিরামিক খাতে শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫০। আরো প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান এ শিল্পে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে।