আর্চারিতে স্বর্ণের হ্যাটট্রিক বাংলাদেশের

আগের সংবাদ

মজুরি বৈষম্যেও অদম্য চলনবিলের নারী শ্রমিকেরা

পরের সংবাদ

সবচেয়ে কঠিন কাজের কাজি

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ , ১:১২ অপরাহ্ণ

অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেশনের প্রধান ল্যারি পেজ ও প্রেসিডেন্ট সের্গেই ব্রিন দায়িত্ব ছেড়ে সে ভার তুলে দিয়েছেন সুন্দর পিচাইয়ের কাঁধে। নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব নিয়েছেন সুন্দর পিচাই। গুগলের পাশাপাশি এখন থেকে অ্যালফাবেটের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। প্রযুক্তি জগতের সবচেয়ে জটিল দায়িত্ব সামলানোর ভারও এখন তার কাঁধেই পড়েছে। গুগলের পাশাপাশি আরো ৮টি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে হবে তাকে। নতুন দায়িত্ব সুন্দর পিচাইকে যেমন সম্মান এনে দিয়েছে তেমনি তার সামনে দাঁড় করিয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে কঠিন চাকরিটাই এখন তার।

সুন্দর পিচাইয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গুগল নিয়েই। গত এক বছরে গুগলে বেশ কয়েকবার কর্মী অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এত দিন তিনি গুগলের নেতৃত্বে থাকলেও কর্মী অসন্তোষ তিনি ঠেকাতে পারেননি। গত মাসে গুগলের নিয়মনীতি নিয়ে প্রতিবাদ করায় চার কর্মীর চাকরি চলে গেছে। তবে গুগলের পক্ষ থেকে নিয়মনীতির প্রতিবাদ করায় চাকরি যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি। দেড় বছর ধরে গুগলের নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলেছেন কর্মীরা। এর মধ্যে ছিল চীনে গুগলের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করা। এর বাইরে পেন্টাগনের ড্রোন প্রকল্পে কাজ করতে না চেয়ে বেশ কিছু কর্মী প্রতিবাদ জানান। সুন্দর পিচাইয়ের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কর্মীদের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। তা না হলে এত বড় প্রতিষ্ঠান চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হবে। প্রতিবছর গুগল কর্মীদের নিয়ে গুগলজাইস্ট সমীক্ষা হয়। কাজ করে কর্মীরা কতটুকু সন্তুষ্ট, শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রয়েছে কি না, সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী কি না, জানতে চাওয়া হয় ওই সমীক্ষায়।

এ বছরের শুরুতে তেমনই একটি সমীক্ষা হয়েছিল। ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, সুন্দর পিচাইয়ের জনপ্রিয়তা, তার নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে গুগলের অন্দরেই। মোট ৮৯ শতাংশ কর্মী এই সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পিচাইয়ের নেতৃত্ব, রণকৌশল ও সিদ্ধান্তে কর্মীদের আস্থা প্রদর্শনের পাল্লা ভারী থাকলেও একটা সংখ্যক কর্মীদের মধ্যে পিচাই সম্পর্কে কোথাও একটা ‘শূন্যতা’ তৈরি হচ্ছে। আর এই শূন্যতাকে কিন্তু একটা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গুগল তার কর্মীদের সব ধরনের সুবিধা দেখে। তা সে বিলাসবহুল কাজের পরিবেশ হোক, বেতন বা কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য। বিশেষজ্ঞরা তাই বলছেন, সমীক্ষায় যে উদ্বেগজনক রিপোর্ট উঠে এসেছে, এ রকম চলতে থাকলে বহু প্রতিভাবান ও উজ্জ্বল কর্মীকে হারাবে গুগল এবং সেই ফায়দা নেবে অন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের নৈতিক ব্যবহার এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংস্থার সঙ্গে একটা টানাপোড়েন শুরু হয় গত বছরে। সেই সংঘাত প্রকাশ্যে চলে আসে। যৌন হেনস্তায় অভিযুক্ত আধিকারিকদের মোটা টাকা দিয়ে সংস্থা থেকে বিদায় দেয়া হচ্ছে, এমনই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর কয়েক হাজার কর্মী প্রতিবাদে নামেন। গুগলের মাথার ওপর আরেকটি বড় কাঁটা হয়ে ঝুলছে অ্যান্টি ট্রাস্ট মামলা। গুগলের একক আধিপত্যের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ জন অ্যাটর্নি জেনারেল একত্রে গুগলের বিরুদ্ধে অ্যান্টি ট্রাস্ট ভঙ্গের বিষয়টি তদন্তে সম্মত হয়েছেন। ডটনেট ডেস্ক

বিষয়: