আস্থার অভাবেই পুঁজিবাজারে জুয়া খেলা হচ্ছে 

আগের সংবাদ

এই বাজারে কেউ ক্ষতির বাইরে নয়

পরের সংবাদ

পুঁজিবাজার কিছু লোকের হাতে জিম্মি

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ , ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, পুঁজিবাজার কিছু লোকের হাতে জিম্মি। এ কারণে পুঁজিবাজারে কোনো ভালো কিছু আশা করা যাচ্ছে না। পুঁজিবাজার নিম্নগতি থেকে উপরে ওঠার কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের আস্থা নেই। বিশেষ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কিছু ব্যক্তি এই বাজারকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। পুঁজিবাজারের গতি ফেরাতে যখনই কোনো জায়গা থেকে টাকা দেয়া হয়, ডিএসইর ওই ব্যক্তিরা টাকা মেরে দেয়। যে কারণে এই বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে একটা কোটাই রাখছে সিন্ডিকেট। তারাই মার্কেটকে ওঠায়, আবার নামায়। কোটারিপানার মতো শক্তি এখন কারো নেই। দ্বিতীয়ত, ডিমিউচিয়ালাইজেশন যেটা হয়েছিল তা সঠিকভাবে হয়নি। কারণ ৪০ শতাংশ ব্রোকারই এডমিনিস্ট্রেশনের সদস্য। তারাই আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসইসি নিজেই দুর্নীতিতে জড়িত হয়ে পড়েছে। যে কারণে তারা কোনো তদারকি করতে পারছে না। বরং তারা দুর্নীতিকে সহায়তা করছে। বিএসইসি ভেঙে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ, এই বিএসইসি ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য এ পর্যন্ত যতগুলো নতুন কোম্পানি এসেছে, তার সবটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই বিএসইসির চেয়ারম্যান পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত মার্কেট কোনোভাবেই উঠবে না।

বাজারকে মানুষের আস্থায় আনতে হলে সরকারকে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু বিএসইসি বদলালেই হবে না, এখানে শক্ত লোক নিয়োগ দিতে হবে। যারা কোনোভাবেই পুঁজিবাজারে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। শেয়ারবাজারসহ সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাত দুর্বৃত্তদের দখলে। ফলে ক্যাসিনোর মতো এখানে বড় অভিযান চালাতে হবে। এক্ষেত্রে অন্য কেউ নয়, প্রধানমন্ত্রীকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

বিনিয়োগকারীদের এমন একটি বার্তা দিতে হবে, কারসাজির মাধ্যমে কেউ তার টাকা হাতিয়ে নিলে বিচার হয়। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শক্ত অবস্থান নেয়া ছাড়া আমি এর সমাধান দেখি না।