বিমানে ইনফ্লাইট সেবার মান বাড়ানোর নির্দেশ

আগের সংবাদ

বাগদাদে বিক্ষোভে গুলিবর্ষণ, নিহত ২০

পরের সংবাদ

সুন্দরবনে তৎপর পোনা শিকারীরা, হুমকিতে মৎসভাণ্ডার

শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৭, ২০১৯ , ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

কয়রায় সুন্দরবনে অবৈধভাবে পারশে মাছের পোনা আহরণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে কয়েক হাজার জেলে। বন বিভাগের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলেছে তারা। সুন্দরবনে প্রতিটি ট্রলার ঢোকার অনুমতি পেতে আগাম দশ হাজার টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করেছে অবৈধ পারশে মাছের পোনা আহরণকারী জেলেরা। পুরো মৌসুমে টোকেনের মাধ্যমে লেন-দেন হবে টাকা। প্রতিবার (প্রতি টিপে) পারশে মাছের পোনা নিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করলে তাদের দিতে হবে আরও দশ হাজার টাকা।

সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষারত জেলেদের মাধ্যমে জানা যায়, অবৈধ পোনা আহরণ সিন্ডিকেটের নেতা আজিজুল ইতোমধ্যে একাধিক দ্রুতগামী ট্রলার নিয়ে নিষিদ্ধ বন অঞ্চলে প্রবেশ করে পোনা আহরণ শুরু করেছে। তার ইঙ্গিত পেলেই সুন্দরবনে নেমে পড়বে হাজার হাজার অবৈধ পোনা শিকারি।

সূত্রমতে, সুন্দরবন সংলগ্ন উপকুলীয় জনপদ কয়রা, শ্যামনগর, আশাশুনি, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলার কয়েক হাজার পারশে পোনা আহরণকারী জেলে গত চার/পাঁচ বছর ধরে নতুন এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। অল্প পরিশ্রম এবং কম পুঁজিতে অধিক টাকা উপার্জন হওয়ায় উপকূলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমজীবী অবৈধ ওই কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কিছু চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী তাদরে টাকা দিয়ে এ কাজে উৎসাহ দিচ্ছেন।

এ মুহূর্তে ট্রলারে ক্ষুদ্র ফাঁসের জাল নিয়ে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েক হাজার পোনা আহরণকারী জেলে বহর। ২০-২৫ জনের প্রতিটি বহরে (দলে) রয়েছে দুটি দ্রতগামী ট্রলার, তিন-চার সেট ক্ষুদ্র ফাঁসের জাল (নেট জাল) এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জামাদি।

পোনা আহরণকারীদের সঙ্গে সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে সাদামাছ পরিবহনের জন্য বন অভ্যন্তরে ট্রলার প্রবেশের অনুমতি নিয়ে আসছে তারা। ওই অনুমতিপত্র নিয়ে স্থানীয় ফরেস্ট স্টেশন থেকে সাদা মাছ ও কাকড়া ধরার পাশ-পারমিট নিয়ে বনে প্রবেশ করে। টানা চার মাস অবৈধভাবে চলবে গহীন সুন্দরবনে পারশে মাছের পোনা আহরণ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রের মূল হোতা কয়রার বনদস্যুদের এজেন্ট খ্যাত কয়েকটি কোম্পানি সিন্ডিকেট। শুধু মাছ ব্যবসার লাভ গুণে সন্তুষ্ট নন এ ব্যবসায়ীরা। সুন্দবনের অমূল্য সম্পদ হরিণের মাংস বিক্রিকেও বড় ধরনের লাভজনক বাণিজ্যে পরিণত করতে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে নিয়েছেন তারা। বেশ কয়েকটি হরিণ শিকারীর দলও চালাচ্ছেন এই মাছ ব্যবসায়ীরা। আত্মগোপনে থাকা কোম্পানি সিন্ডিকেটের মূল হোতারা পারশে মাছের পোনা আহরণের জন্য আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সুন্দরবনের বড় ভাই খ্যাত কয়রার বাসিন্দা সুন্দরবন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) পদধারী এক নেতার হাতদিয়েই মূলত আরও অনেকের হাতে যায় ওই টাকা।

শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়া বিএনপির ওই নেতা এখন ক্ষমাতাসীন দলের কতিপয় নেতার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেরা জানান, সুন্দরবনের অভায়রণ্য এলাকায় মাছ ধরতে গেলে নৌকা প্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে হয় ওই সিএমসি নেতার কাছে। তিনি বন বিভাগ ও বনদস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা করে টাকা আদান-প্রদান করে থাকেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডক্টর মো. নাজমুল আহসান বলেন, সুন্দরবনের নদ-নদী ও শাখা উপ-শাখায় সাগর থেকে উঠে আসা মা মাছেরা ডিম ছাড়ে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে। ঠিক এ সময় নিষিদ্ধ ক্ষুদ্র ফাঁসের জালের সাহায্যে পোনা আহরণের ফলে মৎস্যভাণ্ডার খ্যাত উপকুলের নদ-নদী মৎস্যশূন্য হওয়ার উপক্রম। ক্ষুদ্র ফাঁসের জালের সাহায্যে এক প্রজাতির পোনা আহরণের সময় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করার ফলে মৎস্য সম্পদ ও জলজপ্রাণি মারাত্মক হুমকির মুখে।

খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন বলেন, সাদামাছ ধরার বৈধ পাস পারমিট নিয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পোনা নিধন করা হচ্ছে কিনা তা আমার জানা নেই। যদি এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা লক্ষ করা যায় তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া অবৈধ কাজের সঙ্গে বনবিভাগের কারো কোনো সম্পৃক্ততা থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএইচ/এন