ভারতে ধর্ষণের অভিযোগকারী নারী দগ্ধ অবস্থায় মারা গেছেন

আগের সংবাদ

প্রণোদনা ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ

পরের সংবাদ

১৫ বছর কামরাঙ্গীরচরের একাংশে গ্যাস সংকট

ভুক্তভোগীদের আবেদনে সাড়া নেই তিতাসের

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৭, ২০১৯ , ২:১৮ অপরাহ্ণ

প্রায় ১৫ বছর ধরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের একাংশের বাসিন্দারা গ্যাসের বিড়ম্বনায় দিন কাটাচ্ছে। তিতাস গ্যাস কোম্পানির কাছে বারবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ইতোপূর্বে তিতাসের কর্মকর্তারা আমদানিকৃত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পর সরবরাহ সংকট কাটবে বলে আশ^াস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এলএনজি পাইপলাইনে যুক্ত হওয়ার পরও কামরাঙ্গীরচর এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধান হয়নি।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই গ্যাসলাইন বিচ্ছিন্ন করতে চাচ্ছেন। অনেকেই আবার গ্যাস বিল পরিশোধ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিতাসের কাছে বারবার আবেদন-নিবেদন করেও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় তারা মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দেয়ার চিন্তা করছেন। যে কোনো সময় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন স্থানীয়রা।
সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের কামরাঙ্গীরচরের মুসলিমবাগ, হাসলাই, তারা মসজিদ, কয়লাঘাট, করিমাবাদ, ইব্রাহিম নগর, নুরবাগ, মমিনবাগ ও মাতবর বাজার এলাকার বাসিন্দারা তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন। ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে এই এলাকায় গ্যাস সংযোগ দেয়ার পর থেকেই বাসিন্দাদের বিড়ম্বনা শুরু। ফলে এখনো অনেক বাড়িতে এলপি গ্যাস অথবা লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সংকট নিরসনের লক্ষ্যে কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দারা ২০০৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিতাসের কাছে আবেদন করে। এরপর ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট আবারো সমস্যার কথা তুলে ধরে আবেদন করে। এই আবেদনে তৎকালীন মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশও রয়েছে। কিন্তু তারপরও সমস্যার সমাধান হয়নি। বিভিন্ন সময়ে কামরাঙ্গীরচরবাসীর ভোগান্তি সংবাদ মাধ্যমেও শিরোনাম হয়েছে। কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল পুনরায় তিতাস গ্যাস প্রধান কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছে। কামরাঙ্গীরচর এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও কয়েক দফায় তিতাসের ডিরেক্টর অপারেশন ও মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, ২০১০ ও চলতি বছরসহ তিন দফায় ভুক্তভোগীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিতাসের কর্মকর্তা ওই এলাকায় সরেজমিনে তদন্ত করে খোঁজ নেন। তারা গ্যাসের লাইনে সরবরাহ না থাকার বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পান। কিন্তু তারপরও এখন পর্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ কামরাঙ্গীরচরবাসীর গ্যাস সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজী ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা এখন আর গ্যাস পাওয়ার আশা করছি না। অনেক লেখালেখি হয়েছে। অনেকবার তিতাসের কর্মকর্তা, মন্ত্রী-এমপিদের কাছে গিয়েছি। তারা অনেক আশা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের সমস্যা সমাধান হয়নি। তিতাস গ্যাস কোম্পানি গ্যাস সংকট নিরসনে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহাদাত হোসেন, হাজী হাফেজ বদরউদ্দিন, হাজী মো. আবদুল করিম, হাজী আবদুর রহমানসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্যাস ব্যবহার না করে আমরা বিল দিতে রাজি না। তিতাস আমাদের গ্যাস দিচ্ছে না, কিন্তু বিল নিচ্ছে।