রুম্পা হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আগের সংবাদ

বিচারের রায় বাংলাতেও থাকা প্রয়োজন

পরের সংবাদ

টিকেট কেটে শো দেখার অভ্যাস করতে হবে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৭, ২০১৯ , ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সুরকার হিসেবে প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। ‘সত্তা’ সিনেমার জন্যই তার ঝুলিতে যোগ হয়েছে নতুন এই অর্জন। তার স্টুডিও ‘বি এমজ ওয়ার্ক স্টেশন’-এ কথা হয় মেলার সঙ্গে। সেখানেই শেয়ার করলেন পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ও আগামীর পরিকল্পনা। সঙ্গে ছিলেন রাব্বানী রাব্বি

প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন। অভিনন্দন…
ধন্যবাদ। নিঃসন্দেহে এটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম প্রাপ্তির একটা। এ জন্য আমি সত্তা ছবির পরিচালক নাজমুল রেজা কল্লোলকে কৃতজ্ঞতা জানাই। কৃতজ্ঞতা জানাই পুরো টিমকে। এ ছবিতে কাজ করার সুযোগ না পেলে তো আমার এ প্রাপ্তিটা হতো না।

পুরস্কার পেয়ে কেমন লাগছে?
পুরস্কার পেলে যে কারো ভালো লাগে। আমারও ভালো লাগছে। পাশাপাশি ভালো কাজ করার একটা দায়িত্ব বেড়ে যায়। পুরস্কার পেলে যদি দায়িত্ববোধ তৈরি না হয়, তবে সেই পুরস্কারের কোনো অর্থ নেই।

বর্তমানে কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
এতদিন শো কম ছিল, এখন আবার শো নিয়ে ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। মধ্যে কিছু শো করেছি, সামনে আরো কিছু শো রয়েছে।

শুনেছিলাম সঞ্জীব চৌধুরীকে নিয়ে অ্যালবাম বের করবে দলছুট…
ইচ্ছে আছে, সঞ্জীব দা’র জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর অ্যালবামটি প্রকাশ করার; কিন্তু তাও এখন একটা প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থায় পড়েছে। অ্যালবাম বের করাও এখন মুশকিলের ব্যাপার।

কেন? বিস্তারিত জানতে চাই
এখন তো সিডি প্রিন্ট হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। কীভাবে অ্যালবাম বের করব, তা এখন ভাবনার বিষয়। শুধু ডিজিটালি না, আমরা চাচ্ছি অ্যালবামটার একটা ফিজিক্যাল এক্সিসট্যান্স থাকুক। একটা বই পিডিএফে পড়া যায়, কিন্তু হাতে ধরে বই পড়ার মধ্যে একটা আনন্দ আছে, একটা উদ্দীপনা আছে। যে উদ্দীপনা ডিজিটালি সম্ভব না। সে কারণেই আমরা চিন্তা করছি যে, ডিজিটালের বাইরে কীভাবে অ্যালবামটার ফিজিক্যাল এক্সিসট্যান্স দেয়া যায়।

অ্যালবাম প্রকাশে আরো কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি?
আসলে আমাদের পুরো অডিও ইন্ডাস্ট্রিই এখন মুখ থুবড়ে পড়া অবস্থায়। সিঙ্গেল রেকর্ড ডিজিটালি বের হচ্ছে, কিন্তু অ্যালবাম বের করার যে চল ছিল, তা চলে গেছে। এরপর একটা গান অনলাইনে প্রকাশের পর কতটুকু মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, সে সম্পর্কে আমরা কেউই কিছু জানি না।

এই অ্যালবাম বের হবে, এমন গুঞ্জন তো অনেকদিনের…
গানের সব কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। অ্যালবামে মোট ৮টি গান থাকবে। অ্যালবামের টাইটেলও সঞ্জীব দা’র নামে। সঞ্জীব দা’কে নিয়ে একটা অ্যালবাম করছি, সেটা কোনোমতে একরকম করে ছেড়ে দিতে চাচ্ছি না। উপযুক্ত সময়ের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। সঠিক পরিবেশ পেলেই অ্যালবাম প্রকাশ করব।

কিছুদিন আগে ‘ব্যান্ড ফেস্ট’-এ পারফর্ম করলেন, কেমন লাগল?
বিশাল সুন্দর উদ্যোগ। আমি ধন্যবাদ জানাই চ্যানেল আইকে; এ ধরনের ফেস্টিভ্যাল আরো লম্বা সময় নিয়ে বেশিদিন ধরে হওয়া দরকার। নিঃসন্দেহে চমৎকার একটা উদ্যোগ। সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, এখানে অনেকগুলো ব্যান্ড আসছে। সবার সঙ্গে সবার দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে। আমরা শিল্পীদের জন্য এটা একটা মিলনমেলা।

আপনারা যেমনটা দেখেছেন, সেই তুলনায় এখন কি কনসার্ট বেড়েছে বলে মনে করেন?
কনসার্ট আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। আসলে সে অর্থে এখন আর কনসার্ট হচ্ছে না। যা হচ্ছে বলতে গেলে, ছোট ছোট ইভেন্ট হচ্ছে।

কনসার্ট কমে যাওয়ার পেছনে কারণ কী?
এর জন্য অনেকগুলো প্রতিবন্ধকতা আছে। দেখা গেছে, আগে যারা কনসার্ট আয়োজন করতেন, তাদের মধ্যে ব্যবসার বাইরেও গানকে ভালোবাসার একটা ব্যাপার ছিল। এখন যারা আয়োজন করেন, তারা সবাই না; তবে বেশিরভাগই সঙ্গীতপ্রেমী না। আর একটা কারণ হলো, নিরাপত্তার অভাব। কনসার্ট করার উপযুক্ত ভেন্যু খুঁজে না পাওয়া। ভেন্যু পেলেও অর্থের অভাবে আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন সব থেকে বড় অনুপস্থিতি হচ্ছে, টিকিট কেটে শো দেখা। টিকেট কেটে শো দেখার প্র্যাকটিসটা শুরু করতে হবে। ফ্রি শো দেখা, ফ্রি গান শোনা এই অভ্যাসটা বাদ দিতে হবে। সবকিছুরই একটা মূল্য আছে। তুমি সিনেমা দেখতে গেলে টিকেট কেটে দেখছো, কিন্তু গান শুনতে গেলে ফ্রি চাচ্ছো; এটা তো হলো না। তাই টিকেট কেটে শো দেখার অভ্যাস করতে হবে। এটা হলে হয়তো অনেকই কনসার্ট আয়োজনের ব্যাপারে উৎসাহী হবে।

একটা ব্যান্ড অথবা শিল্পীর জন্য কনসার্ট কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
একজন শিল্পী বা ব্যান্ডের জন্য কনসার্টে পারফর্ম করা ভীষণ প্রয়োজন। তা না হলে, সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে। তার মধ্যে গান নিয়ে উদ্দীপনা কমে যাবে।

এসআর