বগুড়ায় নতুন নেতৃত্বে মজনু-রিপু

আগের সংবাদ

রাজনীতির আকাশ আলো করা বার্নি স্যান্ডার্স

পরের সংবাদ

জঙ্গিবাদ নির্মূল অভিযান

জেলের ভেতরে ও বাইরে চাই তদারকি

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৭, ২০১৯ , ৬:১৫ অপরাহ্ণ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও জঙ্গি তৎপরতা থেমে নেই। জঙ্গিরা নানাভাবে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতা নীতিও দেশ-বিদেশে প্রশংসিত। কিন্তু সম্প্রতি কারাগার থেকে জঙ্গিদের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার এক আসামি কারাগার থেকে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে হুমকি দিয়েছিল। আবার রায় ঘোষণার আগে আরেক আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন (রাজীব গান্ধী) আদালতে দায় স্বীকার করবে, এমন সিদ্ধান্তও জঙ্গিরা নিয়েছিল কারাগারে বৈঠক করে। পুলিশের সর্বশেষ তথ্য হলো, ‘আইএস টুপি’ জঙ্গিরা পেয়েছেন কারাগার থেকেই। কারাগার থেকে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনার ইতিহাস পুরনো। এর আগে ২০১৪ সালে ত্রিশালে হামলা চালিয়ে জেএমবির তিন নেতাকে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। কারা সদর দপ্তর সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কাশিমপুর কারাগার ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সারাদেশের বিভিন্ন কারাগারে ৫৫৯ জন জঙ্গি রয়েছে। এদের মধ্যে ৪৭৮ জন জেএমবির, হিজবুত তাহরীরের ৮, হরকাতুল জিহাদের ৩৮ ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ৩৫ জন। যার মধ্যে অন্তত ৫০ জন দুর্ধর্ষ জঙ্গি বলে জানা গেছে। এদের নেতৃত্বেই ভয়ঙ্কর জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে কারাগারে।

অতীতের ঘটনাগুলো মাথায় রেখে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এদের অবিলম্বে এক বা একাধিক বিশেষ কারাগারে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। কারণ কারা অভ্যন্তরে এসব জঙ্গি তাদের মতাদর্শ প্রচারের বিরাট সুযোগ পেয়ে যেতে পারে। এমনকি কারাগারে থেকেও তারা বিভিন্ন পর্যায়ে পয়সা ও প্রভাব খাটিয়ে বাইরে যোগাযোগ করছে এমন খবরও সংবাদমাধ্যমে আসছে বারবার। সুতরাং সাধারণ কয়েদিদের কাছ থেকে তাদের আলাদা করার ব্যবস্থা করতেই হবে। বলা যায় দেশে জঙ্গি তৎপরতা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগাম তথ্য নিয়ে বেশকিছু জঙ্গি আস্তানায় সফল অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হচ্ছে। এই তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। জঙ্গি ধরপাকড়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে নতুন করে জঙ্গিবাদে যুক্ত হওয়ার ধারাও। পাশাপাশি জঙ্গি দমন অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকা অবস্থায় নব্য জেএমবি বা অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর গোপন তৎপরতা কীভাবে ও কিসের জোরে চলতে পারছে, তা গভীরভাবে জানার চেষ্টা করা দরকার।

জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তাদের জনবল সংকটও কখনো স্থায়ী হয়নি। আমরা মনে করি, জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধ হলে এদের তৎপরতাও কমে যাবে। জঙ্গিদের যে অর্থ তা খুব একটা দেশের বাইরে থেকে আসে না। অভ্যন্তরীণ লেনদেনের মাধ্যমেই জঙ্গিদের হাতে অর্থ যায়। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। জেলের ভেতরে ও বাইরে জঙ্গি পুনর্বাসনে সমন্বিত ও সুচিন্তিত কার্যক্রম নিতে হবে। জেলখানা থেকে ছাড়া পাওয়া জঙ্গিরা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে, সেজন্য পারিবারিক ও সামাজিক শুশ্রƒষার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও জরুরি।

এমএইচ