নেপালকে ১৫৬ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ

আগের সংবাদ

কোন্দলে বিপর্যস্ত তৃণমূল

পরের সংবাদ

এখনো কাটেনি রুম্পার মৃত্যু রহস্য

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৭, ২০১৯ , ১২:০১ অপরাহ্ণ

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের দুই বাড়ির মাঝ থেকে উদ্ধার হওয়া বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু এখনো রহস্যঘেরা। মৃত্যুর আগে বিকেলে টিউশনি শেষে চাচাতো ভাইয়ের কাছে মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি ও আংটি রেখে স্যান্ডেল বদল করে তিনি কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়েছিল ও কীভাবে মৃত্যু হয়েছে- সে ব্যাপারে খোঁজখবর করছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এরই মধ্যে রুম্পার বয়ফ্রেন্ড সৈকতের খোঁজ পেয়েছে। তিনিও একই ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।

রুম্পার মৃত্যু হত্যা, না আত্মহত্যা- তা নিশ্চিত হতে ঘটনাস্থলের পাশের ৩টি বহুতল ভবনের বাসিন্দা ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তকারী সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি ডাক্তারি পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত গুরুত্ব পাচ্ছে সুরতহাল রিপোর্টও। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বিজয়নগরে রুম্পাকে দাফন করা হয়েছে। তার বাবা পুলিশ পরিদর্শক রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জের একটি ফাঁড়ির দায়িত্বে আছেন।

রমনা থানা পুলিশ বলছে, রুম্পা কেন ওই স্থানে গেলেন, কীভাবে ভবনের ছাদে পৌঁছালেন ও পড়ে গেলেন এসব বিষয়ে কোনো কুল-কিনারা পাচ্ছে না তারা। তাকে হত্যার পর নিচে ফেলে দেয়া হয়েছে? নিজেই ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন? নাকি পড়ে গেছেন? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অজানা।

রমনা মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেখানকার ৩টি ভবনের যে কোনো একটির ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কী কারণে তিনি ওই স্থানে গেলেন সে বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। তদন্ত চলমান রয়েছে। আশা করি, শিগগিরই রহস্য উন্মোচন হবে। তিনি আরো বলেন, ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকদের ধারণা, মৃত্যুর আগে ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হতে পারেন। অন্যদিকে রুম্পার বয়ফ্রেন্ডের দিকেও আঙুল তুলছেন অনেকেই। হত্যার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, সৈকত নামে এক ছাত্রের সঙ্গে প্রেম করতেন রুম্পা। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটছিল। কারো কারো ধারণা, বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় রুম্পাকে এড়িয়ে চলছিলেন সৈকত। হয়তো ছেলেটির প্রতারণার বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না রুম্পা।

স্বজনরা জানান, পুলিশ ইন্সপেক্টর রোকন উদ্দিনের মেয়ে রুম্পা রাজধানীর মালিবাগ শান্তিবাগ এলাকার ২৫৫ নম্বর ফ্ল্যাটে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন। বাসার পাশেই চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতেন রুম্পা। প্রতিদিনের মতো বুধবার প্রাইভেট শেষ করে বাসার নিচে এসে মাকে ফোন করে চাচাতো ভাইকে দিয়ে এক জোড়া স্যান্ডেল পাঠাতে বলেন তিনি। এরপর চাচাতো ভাইয়ের কাছে মোবাইল, হাতঘড়ি, ব্যাগ ও আংটি দিয়ে একটু পরে ফিরবেন বলে চলে যান। এরপর আর তার খোঁজ পায়নি পরিবার।

এদিকে রুম্পা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্ট্যামফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সিদ্ধেশ^রীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় রুম্পা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করার কথা জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের এ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরাও। তাদের দাবি- এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ফেনীর নুসরাতের মতো এই হত্যাকাণ্ডেরও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন রুম্পার পরিবার, এলাকাবাসী ও সহপাঠীরা।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে থেকে অজ্ঞাত হিসেবে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। একই দিন দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যায় রমনা থানায় তুলে রাখা লাশের ছবি দেখে রুম্পাকে শনাক্ত করে তার পরিবার। গতকাল ভোরে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

এসআর
বিষয়: