যন্ত্র সংগীত শিল্পী সম্মেলন

আগের সংবাদ

চলে গেলেন চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান

পরের সংবাদ

হেমন্তের সাঁঝবেলায় দুই বাংলার নাট্যমেলা

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৯ , ৯:০৪ অপরাহ্ণ

উৎসবমুখর পরিবেশে হেমন্তের সাঁঝবেলাটা শৈল্পিক হয়ে ধরা দিয়েছিল সমগ্র শিল্পকলা একাডেমিতে। শিল্পসুষমার এমন আবহের মধ্য দিয়ে শিল্পকলায় শুরু হলো নাটকের দল প্রাঙ্গণেমোর আয়োজিত নয়দিনের নাট্য উৎসব। গতকাল সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ‘দুই বাংলার নাট্যমেলা ২০১৯’ শিরোনামের এই উৎসবের উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর।

এটি উৎসবের ১১তম আসর। এবারের উৎসবের স্লোগান ‘আমি বাংলায় ভালোবাসি, আমি বাংলাকে ভালোবাসি’। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। আয়োজক নাট্যদলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নূনা আফরোজের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ, পশ্চিমবঙ্গের নাট্যকর্মী প্রকাশ ভট্টাচার্য, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজীদ প্রমুখ।

উদ্বোধনকালে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, নাটকের মাধ্যমে আমার গণমানুষের সামনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে দুই বাংলার সংস্কৃতির বিনিময় ঘটছে। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ উদ্যোগে ভারতের সাথে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের একটা নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে এর সূচণা সেই ৭১এ মুক্তিযুদ্ধের সময়। স্বাধীনতাযুদ্ধে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনীও রক্ত দিয়েছে। যার কারণে তাদের সাথে আমার রয়েছে রক্তের সম্পর্ক। সংস্কৃতির আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা রাখি।

কে এম খালিদ বলেন,১১ হাজার ভারতীয় সৈন্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধে রক্ত দিয়েছে। দুই দেশের মানুষের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়েই আমাদের এই স্বাধীনতা। সংস্কৃতি ও বন্ধুত্বের নানা দিকে ভারতের সাথে আমাদে অনেক মিল রয়েছে। সংস্কৃতির বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এই বন্ধুত্ব আরো পাকাপোক্ত হবে। এর আগে উৎসবের ভিডিও উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী।

রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, আজ (গতকাল) ৬ ডিসেম্বর। এই দিনেই ভারত রিকোগনাইজ করেছিল বাংলাদেশকে। আমি উপস্থিত সবাইকে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৪তম বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি সেই সাথে এই উৎসবের সফলতা কামনা করছি। এ ধরনের উৎসব আরো বেশি বেশি হওয়ার দরকার বলেই আমি মনে করি।

এর আগে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার শুরুতেই অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন প্রাঙ্গণোমোর এর নাট্যকর্মীরা। এরপর ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা, সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি, আমি বাংলায় গান গাই,মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম, কারার ওই লৌহ কপাট, মাগো ভাবনা কেন, তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর,আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতেই দেশেতে জন্ম আমার ও জাতীয় সঙ্গীতের কিয়দংশের সম্মিলনের গানের সাথে কোরিওগ্রাফি পরিবেশন করেন আয়োজক নাট্যদলের কর্মীরা।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় গৌতম সরকার নির্দেশিত কলকাতার প্রাক্সিস নাট্যদলের নাটক ‘আর্ট’।
১৪ ডিসেম্বর শেষ হবে নয়দিনের এই নাট্য উৎসব। এর আগের দিন ১৩ ডিসেম্বর প্রাঙ্গণেমোর নাট্যযোদ্ধার সহযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান করা হবে মামুনূর রশীদের সহধর্মিনী গওহর আরা চৌধুরী, আতাউর রহমানের সহধর্মিনী শাহিদা রহমান ও লিয়াকত আলী লাকীর সহধর্মিনী কৃষ্টি হেফাজকে।

এসএইচ