তীব্র দূষণের কবলে দেশ

আগের সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন সভাপতি সাদেক, সম্পাদক দীপক

পরের সংবাদ

রাজনীতিমুক্ত বুয়েট কি নিরাপদ শিক্ষা জীবনের গ্যারান্টি?

বিভুরঞ্জন সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৯ , ৭:০৮ অপরাহ্ণ

ক্যাম্পাসকে সংকীর্ণ দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করলে সমস্যা সমাধান সহজ হয়। ক্যাম্পাসের বাইরের ‘রাজনৈতিক’ প্রভাবমুক্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পরিচালনা করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রাজনৈতিক দলের আন্দোলন মানেই যেখানে সহিংসতা, ভাঙচুর, সেখানে বুয়েট শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনে কোনো ধরনের সহিংসতার আশ্রয় নেননি।

প্রায় ৩ মাসের অচলাবস্থার পর আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। গত ৪ ডিসেম্বর বুয়েটের শহীদ মিনারের পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়। বুয়েট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি পূরণ করায় আন্দোলন থেকে সরে এসে এ ঘোষণা দেন তারা।

গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এই হত্যাকাণ্ডের খবরে সারাদেশে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের মধ্য দেখা দেয় তীব্র ক্ষোভ। ঘটনার নিন্দা-প্রতিবাদে শুরু হয় আন্দোলন। ওই ঘটনার পর থেকে বুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছেন শিক্ষার্থীরা। আবরার হত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৪ নভেম্বর ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে প্রশাসনকে শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি পূরণের শর্ত দেন। এসব দাবি মানতে ১৮ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের কাছে সর্বোচ্চ ৩ সপ্তাহ সময় চান বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের ওই ৩ দফা দাবি ছিল ক. মামলার অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, খ. বুয়েটের আহসানউল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলে আগে ঘটে যাওয়া র‌্যাগিংয়ের ঘটনাগুলোয় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি এবং গ. সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি ও র‌্যাগিংয়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরি ভাগ করে শাস্তির নীতিমালা প্রণয়নের পর একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে অনুমোদন করে বুয়েটের অধ্যাদেশে সংযোজন।

শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি অনুযায়ী ২১ নভেম্বর শেরেবাংলা হলের ২৬ ছাত্রকে বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। দ্বিতীয় দাবি অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর র‌্যাগিংয়ে অভিযুক্ত আহসানউল্লাহ ও সোহরাওয়ার্দী হলের ২৬ ছাত্রকে হল থেকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে দুই হলের ৯ ছাত্রকে হল থেকে আজীবন বহিষ্কারের পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রম থেকে ৪ থেকে ৭ টার্ম বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া আহসানউল্লাহ হলের ৪ ছাত্রকে সতর্ক করা হয় আর সোহরাওয়ার্দী হলের ১৭ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়। সর্বশেষ গত ২ ডিসেম্বর সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি ও র‌্যাগিংয়ের শাস্তিবিষয়ক নীতিমালা প্রকাশ করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।

৩ দফা দাবি মেনে নেয়ার পর নিজেদের অবস্থান জানাতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মাহমুদুর রহমান (সায়েম)।

বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরদিন ৮ অক্টোবর থেকে হত্যার বিচার এবং একই সঙ্গে একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে প্রথমে ৮ দফা ও পরে সংশোধিত ১০ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন শুরু করি। এর মধ্যে ১৫ অক্টোবর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ভর্তিচ্ছুকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমাদের আন্দোলন দুদিনের জন্য শিথিল করি এবং আন্দোলনের ৯ দিনের মাথায় ১৬ অক্টোবর গণশপথের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের আন্দোলন তুলে নিই। আমাদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে কোনো অপশক্তি যাতে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে না পারে এবং একই সঙ্গে বুয়েট প্রশাসন যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে সে জন্যই মূলত মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন থেকে সরে আসা হয়। এরপর আমরা নিয়মিত বুয়েট প্রশাসনের কাছ থেকে দাবিগুলোর অগ্রগতির আপডেট নিতে থাকি। এর মধ্যে তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে ১৩ নভেম্বর আবরার হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে শুরু থেকেই সচেষ্ট ছিলেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে আইনমন্ত্রী মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেয়ার ব্যাপারে জানিয়েছেন।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘গত ২ নভেম্বর উপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনের উপস্থিতিতে আমরা সভা করে বুয়েটকে দ্রুত সচল করার জন্য আমরা সবশেষে কেবল ৩টি পয়েন্টের কথা বলি এবং এই ৩টি পয়েন্টের প্রথম ২টি মেনে নেয়া হলে আসন্ন টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ নেয়া হবে এবং তৃতীয়টি টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক সপ্তাহ আগে মেনে নেয়া হলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা হবে বলে জানাই। এরপর গত ২১ নভেম্বর বুয়েট প্রশাসন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ২৬ জনকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে এবং ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে একাডেমিক বহিষ্কার করে, যা আমাদের ৩টি পয়েন্টের প্রথম পয়েন্ট ছিল। এরপর গত ২৭ নভেম্বর বুয়েট কর্তৃপক্ষ আহসানউল্লা হল ও সোহরাওয়ার্দী হলে আগে ঘটে যাওয়া র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি দেয়, যা আমাদের দেয়া দ্বিতীয় পয়েন্ট ছিল। সর্বশেষ গত ৫ ডিসেম্বর তিতুমীর হলের র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুয়েট শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, যেহেতু তাদের দুটি দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে, তাই তারা গত ২৭ নভেম্বর পরীক্ষার তারিখের ব্যাপারে বুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার, সব অনুষদের ডিনদের উপস্থিতিতে উপাচার্য সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সময় চেয়ে ২৯ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু করার কথা বলেন। তখন উপাচার্য ২৮ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু করার অনুরোধ করলে তারা তাতে সম্মত হন। সর্বশেষ গত ২ ডিসেম্বর র?্যাগিং ও সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তার শাস্তির নীতিমালা বিষয়ে বুয়েট প্রশাসন একটি নোটিস প্রকাশ করে এবং ৪ ডিসেম্বর সকালে এই নোটিস সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানায়। একই সঙ্গে এখন থেকে নবাগত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোড অব কনডাক্ট জানিয়ে অঙ্গীকার নেয়ার পরিকল্পনা আছে বলে শিক্ষকরা তাদের জানান। তখন একটি সুস্থ ও নিরাপদ বুয়েটের স্বার্থে বুয়েটের বর্তমান শিক্ষার্থীরাও প্রয়োজনে এমন অঙ্গীকারনামা দিতে সম্মত আছেন বলে তারা জানিয়ে আসেন। প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যেই ৩টি দাবি মেনে নেয়ায় বুয়েট প্রশাসনকে ধন্যবান জানিয়ে তাদের দেয়া রায় মেনে নিয়ে তারা আন্দোলনের সমাপ্তি টানছেন। বুয়েট প্রশাসন আবরার ফাহাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে সচেষ্ট হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আন্দোলনে শক্তি জোগানোয় বুয়েটের সব শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ যারা আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মাহমুদুর রহমান সায়েম। তিনি বলেন, ‘আমাদের এ আন্দোলন শুরু থেকেই এ ক্যাম্পাসের সব সাধারণ শিক্ষার্থীর আন্দোলন ছিল। এ আন্দোলনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সবার উপস্থিতিতে নেয়া হয়েছে, কারো একক সিদ্ধান্তে কোনো কাজ করা হয়নি। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বহিরাগত অপশক্তির প্রভাব দমনের জন্য আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা সর্বদা সচেষ্ট ছিলাম। আমরা চাই আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হোক।’

বুয়েট সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতা থাকলে যে কোনো সমস্যাই যে সমাধান করা যায় সেটা বুয়েটে প্রমাণ হলো। ক্যাম্পাসকে সংকীর্ণ দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করলে সমস্যা সমাধান সহজ হয়। ক্যাম্পাসের বাইরের ‘রাজনৈতিক’ প্রভাবমুক্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পরিচালনা করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রাজনৈতিক দলের আন্দোলন মানেই যেখানে সহিংসতা, ভাঙচুর, সেখানে বুয়েট শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনে কোনো ধরনের সহিংসতার আশ্রয় নেননি।

দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়েছে। কিন্তু আন্দোলন সফল হয়েছে বা দাবি-দাওয়া আদায় হয়েছে, সেটা বলা যাবে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট অব্যাহত আছে দিনের পর দিন। এর বড় কারণ রাজনৈতিক বিভক্তি। কর্তৃপক্ষের অনড় অবস্থান এবং সরকারের মনোভাবের কারণে আন্দোলনকারীরা সুবিধা করতে পারছে না। বুয়েটের ঘটনাটির সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে গিয়েছিল। একজন মেধাবী ছাত্রকে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে এটা মানুষ মেনে নিতে পারেনি সহজভাবে। বুয়েটে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। কোনো সংগঠনের স্বার্থ বিবেচনা পায়নি।

তবে বুয়েট শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে অতীত অনিয়ম, অব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি আনা উচিত ছিল। বুয়েটে সব মেধাবীরাই ভর্তি হন। ওখানে সরকারি দলের পরিচয়ে ভর্তি হওয়া যায় না। ভর্তি হওয়ার পর কীভাবে বা কোন সুড়ঙ্গপথে কেউ কেউ খুনি, দুর্বৃত্ত হচ্ছে এবং এর পেছনে শিক্ষক, কর্মকর্তাদের হাত আছে কিনা সেটাও খুঁজে বের করা দরকার ছিল। এবার কর্তৃপক্ষ এত দৃঢ়তা দেখাতে পারলে অতীতে কেন পারেনি, সেটা না জানলে ভবিষ্যতেও তো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। র‌্যাগিংয়ের কথা জেনেও এতদিন কেন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি যাদের গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতা অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল, সেটা জেনে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত ছিল। অপরাধী শিক্ষার্থীরা শাস্তি পেলেন, কিন্তু যাদের প্রশ্রয়ে তারা অপরাধী হয়ে উঠলেন, তারা তো আড়ালেই থেকে গেলেন!

বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের বিষয়টিও নানা বিতর্কের জন্ম দেবে। এখানে রাজনীতির সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার জায়গা। রাজনীতি চর্চা, অনুশীলন অপরাধ নয়। রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি ও লাঠিয়াল হওয়াটা অন্যায় কিন্তু রাজনীতি সচেতনতা তো কোনো অপরাধ হতে পারে না। বুয়েটে যেন রাজনীতি বন্ধ করার নামে সাম্প্রদায়িক ধর্মভিত্তিক রাজনীতির জন্য ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়া না হয়। ধর্মের দাওয়াতের নামে বুয়েটে যে ক্ষতিকর রাজনীতি চর্চার খবর শোনা যায় তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে অচিরেই বুয়েট থেকে আর আলোর রশ্মি বের হবে না। দ্বার রুদ্ধ করে প্রাণ মুক্ত রাখার কৌশল তো সবাই সহজে রপ্ত করতে পারে না। বুয়েটকে আমরা অবরুদ্ধ দেখতে চাই না। এমন বুয়েট চাই যেখানকার শিক্ষার্থীরা সমস্বরে বলবে ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, মুক্ত যেখা প্রাণ’ সে দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকলে।

বিভুরঞ্জন সরকার : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

[email protected]