ঝড়ের গতিতে ভুটানকে হারালো বাংলাদেশ

আগের সংবাদ

মহানির্মাণ : বঙ্গবন্ধুর কলকাতার ছাত্রজীবন কাহিনী

পরের সংবাদ

লিটন স্বামী নয় নরপশু, শাস্তি দাবি লিমার

মেহেদী হাসান শরীফ, দৌলতখান (ভোলা) থেকে

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৯ , ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বশির মিঝির ছোট মেয়ে লিমার (২২) ভাগ্যে কোনো সুখই মেলেনি। দিনমজুর বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে সুখের আশায় স্বামী লিটনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন লিমা। তা-ই নিয়ে লিটন পাড়ি জমিয়েছিলেন দুবাইতে। স্বামী বিদেশ থেকে টাকা পাঠাবেন, সুখে ভরে উঠবে লিমার সংসার, দিনরাত এমনই স্বপ্ন দেখছিলেন লিমা। তবে সুখের সে স্বপ্ন যে দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে তা ভাবতেই পারেননি লিমা।

লিমার স্বামী লিটন দৌলতখান উপজেলার উওর জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে হারুনের ছেলে। বছর চারেক আগে বিয়ের সময় স্বামী লিটন ছিল দেবতার মতোই। টাকা নিয়ে বিদেশ যাওয়ার সময়ও লিমাকে দেখে হাসিখুশিতে ভরে উঠতো তার চোখ মুখ। তবে পরিস্থিতি বদলে যায় দুবাই থেকে ফেরত এসে।

কারণে অকারণে যৌতুকের দাবিতে লিমাকে নির্যাতন শুরু করে। সেই নির্যাতনে শামিল হয় তার শাশুড়িও। শ্বশুরবাড়ির সম্মিলিত এমন নির্যাতন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে একাধিকবার ইউপির সদস্য হারুনের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন লিমা। তবে কাজের কাজ কিছু হয়নি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মাস ছয়েক আগে ভোলার আদালতের দ্বারস্থও হন লিমা।

সে সময় অভিযুক্ত লিটন আদালতের কাছে ‘আর নির্যাতন করবো না’ বলে মুচলেকা দেন। লিমা ভেবেছিলেন স্বামী আর শাশুড়ি এখন নিরাপদ। তাই নির্ভয়ে সুখের আশা আর সংসার বাঁচাতে চলে গিয়েছিলেন শ্বশুরবাড়ি। তবে তার স্বপ্ন আর বিশ্বাস ভেঙে চুরমার হয় কিছুদিন পরেই। এবার আরো প্রবল নির্যাতনের মুখে পড়তে হয় তাকে।

গত ১ ডিসেম্বর স্বামী-শাশুড়ি মিলে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে লিমার সমস্ত শরীর থেঁতলে দেয়। এক পর্যায়ে গ্রামের ফার্মেসি থেকে মাথার ক্ষতস্থানে আটটি সেলাই দিয়ে এনে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। আর কোনো ওষুধও দেয়া হয়নি। লিমাকে। খবর পেয়ে মেয়েকে দেখতে জামাইবাড়ি ছুটে আসেন লিমার মা। তবে তাকে লিমার মুখ না দেখিয়ে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর মেয়ের জীবন রক্ষায় চট্টগ্রাম থেকে ছুটে আসেন লিমার দিনমুজুর বাবা।

লিমার বাবা মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য সহায়তা চান পুলিশের। দৌলতখান থানায় মামলা করেন। পরে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলার রহমানের নির্দেশে তৎক্ষণিকভাবে পুলিশ লিমাকে উদ্ধার করে দৌলতখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়া হয়।

এদিকে, লিমা বলেছেন, লিটনকে আমি সব দিয়েছি। আর সে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। সে স্বামী নয় সে একটা নরপশু। আমি তার শাস্তি চাই। একই দাবি করেছেন লিমার বাবা মা ও স্বজনরা।

ডিসি/এনএম