ছড়ায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

আগের সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধের কবি ও কবিতা

পরের সংবাদ

সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম সভায় বক্তারা

ভুটান-ভারতের স্বীকৃতি মুক্তিযুদ্ধে আস্থা এনেছিল

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৯ , ২:০৬ অপরাহ্ণ

একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ভুটান ও ভারতের স্বীকৃতি বাংলাদেশের মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে প্রবল আস্থা এনে দিয়েছিল। সেই সঙ্গে সবাইকে প্রচণ্ডভাবে উজ্জীবিত করেছিল।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ একাত্তরের আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতা ও সাংবাদিক হারুন হাবীব।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহ-সভাপতি ও বিটিভি’র সাবেক মহাপরিচালক ম হামিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. কামাল, ঢাকাস্থ ভুটান অ্যাম্বাসির ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার কে জান ওয়াংচুক, কর্নেল আবু ওসমান, মার্কিন প্রবাসী বৈজ্ঞানিক ড. নুরুন্নবী, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মান্নান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লায়লা হাসান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, একাত্তরে ডিসেম্বর মাসেও বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা আসবি কিনা তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্নের মুখে ছিলেন। অনিশ্চয়তার মুখে ছিলেন। তবে ৬ ডিসেম্বর ভুটান যখন প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় তখন মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশা জাগে। রণাঙ্গনে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে। তারা আরো প্রচণ্ডভাবে উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

বক্তারা ভারত আর ভুটানের স্বীকৃতির গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বা যেকোনো সংগ্রামে স্বীকৃতি পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভুটানের স্বীকৃতির পর বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবস্থান চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। সবাই বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেয়।

বক্তারা অভিমত দিয়ে বলেন, ভারত আর ভুটান স্বীকৃতি না দিলে আমরা যত সহজে স্বাধীনতা পেয়েছিলাম তা এত সহজ হত না। ভারত ও ভুটানের স্বীকৃতি নিশ্চিতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ৬ ডিসেম্বর ভুটানের স্বীকৃতি। একাত্তর সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটানের স্বীকৃতির পর পরই ভারত স্বীকৃতি দেয়। এ কারণে এদিনটি মুক্তিযোদ্ধা আর বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি আনন্দের দিন। তখন মনে হয়েছিল বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ভুটান ও ভারত ঐসময় স্বীকৃতি না দিলে আমরা এত সহজে স্বাধীনতা পেতাম না বিশ্বের অন্যান্য দেশের স্বীকৃতি পেতাম না।

বক্তারা আরো বলেন, কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা সোনার বাংলা গড়তে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারিনি। এটা আমাদের জন্য খুবই হতাশার। আমাদেরকে এখন সামনের দিকে তাকাতে হবে। ভুটান ও ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে হবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমকে একত্রিত করতে হবে।