চাপ সৃষ্টি করতেই হট্টগোল!

আগের সংবাদ

মধ্যরাতে মধ্যবয়সী নারীর আবদার রাখলেন সালমান

পরের সংবাদ

কপ-২৫ সভায় বাংলাদেশের অর্জন কি

বিপর্যয় রোধে ব্যর্থ হলে এসডিজি অর্জন অসম্ভব

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৯ , ৯:২০ পূর্বাহ্ণ

সম্প্রতি শেষ হওয়া কপ-২৫ বি্বি সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকিতে থাকা দেশগুলোর পক্ষে জোরাল বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিপর্যয় রোধে শিল্পোন্নত দেশসমূহের প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল কার্যকর করাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য এ অর্থ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা নিরসনের কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি, বিপর্যয় রোধ করা না গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয়ের কারণে প্রতি বছর জিডিপির ২ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে আমাদের এবং এভাবে চলতে থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এ ক্ষতির পরিমাণ। সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়বে চার কোটি লোক। জলবায়ু বিপর্যয়ের আঘাতে বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই উদ্বাস্তু হয়েছে ৬০ লাখ লোক, ২০৫০ সালের ভেতর দ্বিগুণ ছাড়িয়ে যাবে এ সংখ্যা। জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে এখনই হুমকির মধ্যে রয়েছে দেশটির দুই কোটি শিশু। বিশ্বব্যাংকের হিসাবেও আমাদের ১৭ কোটি জনগণের মধ্যে ১৪ কোটি মানুষ রয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি আর বৃষ্টিবিপর্যয়ের কারণে শিগগিরই অধঃপতিত হবে যাদের জীবনমান।

আমরা এসডিজি বা টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হবো যদি এখনই বন্ধ করা না যায় জলবায়ু বিপর্যয়ের অভিঘাত। জীবনই যেখানে অনিশ্চিত, টিকে থাকার কোনো উপায় যখন থাকে না কারো সামনে, সে তখন পিছপা হবে না কোনো কাজে। স্বভাবতই এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে রাষ্ট্রীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা। মৌলবাদের সহজ শিকারে পরিণত হবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষটি। জলবায়ু বিপর্যয় আমাদের জন্য রীতিমতো অস্তিত্ব সংকট। বর্তমানে এর বিরুদ্ধে দ্বিমুখী লড়াই চলছে আমাদের। এক, আগামী দিনে শূন্য দূষণে উত্তরণের লক্ষ্যে বর্তমান দূষণমাত্রা কমিয়ে আনা; দুই, ইতোমধ্যেই যে সর্বনাশ ঘটে গিয়েছে তার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ এবং জলবায়ু বিপর্যয়ে সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে থাকা একটি দেশ।

দিনকয়েক আগে স্পেনের মাদ্রিদে জাতিসংঘের কপ-২৫ সম্মেলনে জমায়েত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং বিশ্বনেতাদের সামনে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তাদের জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু বিপর্যয়ের জন্য দায়ী না হয়েও এর প্রভাব ঠেকাতে সামনের কাতারের যোদ্ধা হিসেবে সক্রিয় রয়েছে। জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে গ্রহজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের পার্লামেন্ট।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদের শিশুরা আমাদের ক্ষমা করবে না। আমরা ক্ষয়ক্ষতির ধকল বয়ে বেড়াচ্ছি অথচ এক্ষেত্রে আমাদের প্রায় কোনো দায়ই নেই। এটা মারাত্মক অবিচার এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবশ্যই তা স্বীকার করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের নিষ্ক্রিয়তা বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য হবে মারাত্মক। এখন থেকে সব আলোচনায় ‘লস এন্ড ড্যামেজ’ নীতিকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে লস এন্ড ড্যামেজ অর্থায়ন বিবেচনায় ‘ওয়ারশ ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজম’কে আরো জোরাল সমর্থন দিতে হবে।

জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবেলায় প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু তহবিল কার্যকর করার জোর দাবি তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউএনএফসিসিসি প্রক্রিয়ার আওতায় আমাদের অগ্রগতি খুবই ধীর এবং অপ্রতুল। বিশেষত আমাদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে জাতীয়ভাবে দৃঢ় অভিযোজন উদ্যোগের সমর্থনে কোনো পদক্ষেপ নেয়া এখনো কঠিন বিষয়। প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে বিভিন্ন কাজে ভিন্ন ভিন্ন তহবিল সৃষ্টি করা হয়। সর্বাপেক্ষা ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, যাদের সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন তারা সেই সহযোগিতা পাচ্ছে না।

এজন্য একটি নতুন ক্লাইমেট ভারনারেবল ফান্ড (সিভিএফ) ও ভি-২০ ট্রাস্ট ফান্ড তৈরি এবং জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত একটি নতুন স্পেশাল রেপারটয়েরের সম্ভাবনা হবে একটা বড় সাফল্য। সিভিএফ এবং ভি-২০ সাউথ-সাউথ এবং ট্রায়াঙ্গেল কো-অপারেশনের উৎকৃষ্ট নমুনা। আমরা এ সাফল্য আরো বিকশিত করতে চাই। আমরা আমাদের অভিযোজন প্রয়াস জোরদার করতে নেদারল্যান্ডসে ২০২০ জলবায়ু অভিযোজন সম্মেলনের দিকেও নজর রাখছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশের আরো অবনতি রোধকল্পে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্যারিস চুক্তির সব ধারাসহ প্রাসঙ্গিক সব বৈশ্বিক চুক্তি ও প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জোর আহ্বান জানান।

ডিসি