ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন সভাপতি সাদেক, সম্পাদক দীপক

আগের সংবাদ

ফখরুলকে এক হাত নিলেন নানক-মোজাম্মেল-খালিদ

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকট

বিপন্ন পরিবেশ ও এনজিওর জবাবদিহিতা

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৯ , ৭:১৩ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে পাহাড় কেটে বন ধ্বংস করে একের পর এক রোহিঙ্গা শিবির গড়ে তোলা হয়েছে। যে এলাকায় রোহিঙ্গা শিবিরগুলো গড়ে উঠেছে, সেখানে ছিল বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বসতি। গোটা এলাকা ছিল জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপন ও জ্বালানির জন্য ইতোমধ্যে উজাড় হয়েছে ৬ হাজার একরের বেশি বনভ‚মি। প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে কৃষিজমি ও পাহাড়। এমন পরিস্থিতি দেশের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। গত বৃহস্পতিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) উদ্যোগে একটি সেমিনারে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত হওয়ায় স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষত অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তা/রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বহুমুখী প্রভাব ও ঝুঁকি বিদ্যমান। পরিবেশগত ঝুঁকির ক্ষেত্রে ভ‚মিধস, বন উজাড়, খাবার পানির সংকট এবং বন্যপ্রাণীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব উল্লেখযোগ্য। কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ক্যাম্প নির্মাণের ফলে প্রায় ৬ হাজার ১৬৪ একর সংরক্ষিত বনভ‚মি, যার স্থানীয় হিসাবে মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা উজাড় হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার সমপরিমাণ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়েছে। ফলে ওই এলাকা অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা শিবির স্থাপনের কারণে বন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দায় শুধু বাংলাদেশের একার নয়। গোটা বিশ্বকেই এ ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে শামিল হয়ে কাজ করতে হবে। তবে এর একমাত্র সমাধান রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন। রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়। আমরা চাই, দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হোক। অভিযোগ রয়েছে রোহিঙ্গাসংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোর তৎপরতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। এনজিওগুলো ইস্যুকে জিইয়ে রাখতে চাচ্ছে। জানা গেছে, দেশে কর্মরত দেশি-বিদেশি ১৮৯টি এনজিও ইতোমধ্যেই রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পেয়েছে। রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত না যাওয়ার ক্ষেত্রে ইন্ধন জোগানোর পেছনে এনজিওগুলোর আর্থিক লাভালাভের ব্যাপার রয়েছে কিনা, সে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এনজিওগুলোর কাজ হচ্ছে রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। এর অতিরিক্ত হিসেবে সেগুলো যদি ‘রাজনীতি’তে অংশ নেয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে কাজের শর্ত ভঙ্গের শামিল। টিআইবি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের কিছু সুপারিশ তুলে ধরে। তারা বলছে রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য দ্রুত সময়ে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্র, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা সংস্থাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করার জন্য ক‚টনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। ভারত-চীনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে সহায়তা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে পারেন।

এসএইচ