চলে গেলেন চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান

আগের সংবাদ

চাপ সৃষ্টি করতেই হট্টগোল!

পরের সংবাদ

বাংলাদেশ-ভারত নৌসচিব বৈঠক

বিদ্যমান হারেই ট্যারিফ দিতে হবে ভারতকে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৯ , ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

বিদ্যমান ট্যারিফ ও চার্জ অনুযায়ীই ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। আগামী জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারত প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ট্রান্সশিপমেন্টের এই যাত্রা শুরু করবে। যদিও আগে এ হার কমানোর দাবি জানিয়েছিল ভারত।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে শুরু হওয়া দুই দেশের নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠকের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) এ কথা জানানো হয়। নৌপথে পর্যটকদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসা চালুর বিষয়েও সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

বিকেলে গণমাধ্যম কর্মীদের ব্রিফিংয়ে নৌসচিব মো. আবদুস সামাদ বলেন, আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দুই দেশের নৌ যোগাযোগ আরো বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমারা বাংলাদেশি জাহাজের ক্রুদের ভারতীয় বন্দরে নামার বিষয়ে আলোচনা করেছি। তবে এ বিষয়ে বর্তমান নিয়মটিই বহাল রাখার কথা বলেছে ভারত।

নৌসচিব আরো বলেন, বর্তমানে জরুরি প্রয়োজনে দুই-তিনজন ক্রু নেমে প্রয়োজনীয় ঔষুধ ও নিত্যপণ্য কিনতে পারেন। তাই আমরা নাবিকদের পরিচয়পত্রে কিউআর কোড ব্যবহারের প্রস্তাব করেছি। তারা প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশের জাহাজ যখন কলকাতা বা অন্য কোনো বন্দরে যায়, সেসব জাহাজের ক্রুদের বিনোদনের জন্য একটি ড্রপ ইন সেন্টারের সুবিধা তৈরি করার অনুরোধ করেছি। এ বিষয়ে ভারত ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার প্রসঙ্গে আব্দুস সামাদ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত গ্যাটের স্বাক্ষরকারী হিসেবে ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্যের ওপর কাস্টমস প্রযোজ্য নয়। তবে অপারেশনাল ও সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য। মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে বিদ্যমান ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ি আদায় করা হবে। আমাদের বন্দরে আসা অন্য দেশের নৌযানের জন্য যে চার্জ দিতে হয়, ভারতের চার্জ এর চেয়ে কম হবে না। এছাড়া সড়ক পরিবহনের আইন অনুযায়ী সড়ক ব্যবহারের চার্জ হবে।

ব্রিফিংকালে আবদুস সামাদ আরো বলেন, এ চুক্তির আওতায় ই-লক ব্যবহার হবে। অর্থাৎ ভারত থেকে কোনো পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর কাস্টমস সেটিকে ই-লক করবে। ওই পণ্য আখাউড়া দিয়ে গেলে সেই বন্দরে সেই লক কাস্টমস খুলে দিবে। এছাড়া এসব পণ্য বাংলাদেশের ট্রাক-টেইলর বা নৌযান ব্যবহার করবে।

নৌসচিব জানান, চিলমারী-ডুবরি নৌপথে কম গভীরতার জাহাজ চলার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এছাড়া ভারতের জোগিগোপা ও বাংলাদেশের বাহাদুরাবাদকে (জামালপুর) পোর্ট অব কলভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগে চিলমারী বন্দরকে পোর্ট অব কলভুক্ত করা হয়েছিল। এখন বাহাদুরাবাদ পোর্ট অব কলভুক্ত করায় ভারত ও ভুটান থেকে মালামাল চিলমারী ও বাহাদুরাবাদ আসতে পারবে। এতে নারায়ণগঞ্জ আসার খরচ কমে আসবে। তবে নারায়ণগঞ্জ ও পানগাঁও পোর্টকে ট্রান্সশিপমেন্ট পয়েন্ট করার বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

পর্যটকদের অন অ্যারাইভাল ভিসার বিষয়ে সচিব বলেন, দুই দেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অন অ্যারাইভাল ভিসা দরকার। আমরা প্রস্তাব করেছি। ভারতের নৌসচিব সম্মত হয়েছেন। তবে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আমরা জানাবো যাতে পর্যটকদের এ ভিসা দিতে পারি।

ভারতের নৌসচিব গোপাল কৃষ্ণ বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা খুবই আন্তরিক ও ফলপ্রসু হয়েছে। আমরা আরো আলোচনা করবো। চার্জ নিয়ম অনুযায়ী হবে। আমরা দুটি ট্রায়াল রান করবো। প্রথমটি জানুয়ারিতে হবে। এপরই দ্রুততার সঙ্গে পণ্য পরিবহণের কাজটি চালু করতে চাই।

এনএম