সড়কে প্রাণ গেল বাবা-মা-মেয়ের

আগের সংবাদ

ঝড়ের গতিতে ভুটানকে হারালো বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

এক দশকে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৯ , ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, বিগত এক দশকে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোনালি যুগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় যাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী একথা বলেন।

বাংলাদেশকে ভারতের কূটনৈতিক স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির (ঘাদানিক) আয়োজিত আলোচনা সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, এদিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে ইতিহাস রচনা করেছে। ভারতের অবদান ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অকল্পনীয়।

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তা তুলনাহীন। ভারতের প্রায় ১৭০০ সৈন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় আত্মত্যাগ করেছে। মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষের বন্ধুপ্রতিম দেশে ভারত এমন কিছু করবে না যাতে যাতে দুই দেশের মানুষের মনে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস একাত্তরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ভারত একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন আমি ছোট্ট মেয়ে। দাদার সঙ্গে বসে রেডিওতে এ ঘোষণা শুনেছি। ভারতের অবদানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত তার নিজের সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি সত্ত্বেও এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল। ভারতীয় সৈন্যরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। বন্ধুরা তো এটাই করে।

দুই দেশের সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরে রীভা গাঙ্গুলি বলেন, একাত্তরে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল। চিরকালই থাকবে। যে সম্পর্ক একাত্তরে শুরু হয়েছে তা আজ সোনালি যুগে চলছে। এটিকে আরো নতুন অধ্যায়ে নিয়ে যেতে চাই আমরা। বিগত ৪৮ বছরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক খাতে যে উন্নতি করেছে তা বিশ্বে অনুকরণীয়।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, দুর্ভাগ্য হল পঁচাত্তরের পর যেসব সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় ছিল তারা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী। যখনই ভারতের সঙ্গে আমরা মৈত্রী করতে চেয়েছি তখনই তারা বাধা দিয়েছে।

শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান। কিন্তু বিভিন্ন তথ্যে থেকে জানা গেছে ভারত ৬ ডিসেম্বর এবং ৭ ডিসেম্বর ভুটান স্বীকৃতি  দিয়েছিল। শাহরিয়ার কবির মঞ্চে উপবিষ্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এটি সংশোধন করার আহ্বান জানান।

স্বাধীনতা মৈত্রী সম্মননাপ্রাপ্ত বৃটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস বলেন, ২০১৯ সালে শেখ হাসিনা ফেনী নদীর কিছু পানি দিতে ভারতের সঙ্গে  সমঝোতা স্বাক্ষর করেছেন বলে কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন। কিন্তু একাত্তরে ওই অঞ্চলের মানুষ বাংলাদেশের জন্য যে মানবতা দেখিয়েছেন সেখানে এ পানি টুকু দেয়ার সমালোচনা করা অহেতুক।

ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আমরা ভারতের ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবে এ অপপ্রচার বাংলাদেশে এখন আর কোনো মূল্য পায় না।

সভায় সভায় মানবাধিকারকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য আরমা দত্ত বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রকৃত ও পরীক্ষিত বন্ধু। দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যা বাস্তবায়ন হলে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে।

এনএম