আপত্তিকর দৃশ্যে ‘না’ রাধিকার

আগের সংবাদ

কেরালা চলচ্চিত্র উৎসবে জয়া-ঋত্বিকের ‘বিনিসুতোয়’

পরের সংবাদ

মাদক বহনকারী ধরা পড়লেও হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

আজিজুর রহমান জিদনী

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৫, ২০১৯ , ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ

ফাঁকা ট্রাক, নেই কোনো মালামাল। তবে ট্রাকের পাটাতান খুলতেই সেখানে থরে থরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলের সন্ধান পান ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার উত্তর বিভাগের কর্মকর্তারা। রাজধানীর উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে গত ৭ নভেম্বর মাদক কারবারিসহ মিনি ট্রাকটি আটক করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এভাবেই কৌশল পাল্টে মাদক পরিবহনের কাজ করছে এর কারবারিরা।

কঠোর নজরদারির ফলে ইয়াবার সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন পার্শ্ব বর্তী দেশে ভারত থেকে উত্তরবঙ্গ দিয়ে গাঁজা ও ফেনসিডিল আনছে কারবারিরা। পরে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। তবে মাদক পরিবহনকালে বেশিরভাগ সময় সহযোগীরা আটক হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছেন মূল হোতারা। সম্প্রতি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৩ হাজারের বেশি মাদক কারবারিদের একটি তালিকা তৈরি করেছে, যা ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

মাদক সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবার কোনোটিই দেশে তৈরি হয় না। ভারত ও মিয়ানমার থেকে সীমান্তপথে দেশে আসে। তবে রোহিঙ্গাসহ নানা ইস্যুতে মিয়ানমার সীমান্তে কড়া নজরদারির ফলে এখন ভারত থেকে উত্তরবঙ্গের সীমানা এলাকাগুলো দিয়ে নানা কৌশলে মাদক দেশে প্রবেশ করছে। কখনো ট্রাকের পাটাতনে আবার কখনো ফল, সবজি ও বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে আনা হচ্ছে গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা।

গত এক মাসেই র‌্যাব-১ অভিযানে শুধু দুই শতাধিক কেজির মতো গাঁজা ও ৬ হাজারের বেশি ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। দেশব্যাপী অভিযানে উদ্ধার মাদকের পরিমাণ আরো ব্যাপক। র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের মূল হোতারা নজরদারিতে রয়েছে। তবে ভারতের মাদক পাচার বন্ধের বিষয়ে কঠোর ভ‚মিকা রাখার সময় এসেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হবে।

ডিএমপি উত্তর বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান বলেন, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল এখন সবই ভারতের সীমান্ত থেকে আসে। বগুড়া, সান্তাহারসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত হয়ে এগুলো ঢাকায় আসে। তবে নজরদারি বাড়ানোর কারণে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে মাদক পরিবহনের ধরন। পণ্য পরিবহনের আড়ালে ও নানা কৌশলে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে মাদক ঢাকায় চলে আসছে। তাই দেশের মাদক চোরাচালানের রুটগুলো চিহ্নিত করে সড়কপথের চেকপোস্টগুলোতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের নজরদারিতে আনা হয়েছে। তবে ওপারেও ধরপাকড় করে মাদকের প্রকোপ কমানোর চেষ্টা করার প্রয়োজন রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হবে দ্রুতই। র‌্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়ার উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম ভোরের কাগজকে বলেন, মাদক সমূলে উৎপাটনের জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর শূন্যসহিষ্ণু নীতি অনুসরণ করছে র‌্যাব। সবসময় মূল হোতারা ধরা না পড়লেও প্রায় অভিযানে আটক হওয়া সহযোগীদের কাছ থেকে নানা উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে মূল অপরাধীদের আটকের চেষ্টা করা হয়। বেশিরভাগ সময় সফলতা এলেও মাঝে মাঝে হতাশও হতে হয়।

ডিসি