পেঁয়াজ এখনো মগডালে : রহস্যটা কী?

আগের সংবাদ

দুদুর জামিনে আ.লীগ নেতাদের দ্বন্দ্ব

পরের সংবাদ

সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট

জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে তো?

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৫, ২০১৯ , ১০:২৭ অপরাহ্ণ

বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার গুরুত্ব দিচ্ছে না। দেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণের সুদহার কমানোর জন্য সরকার উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তা কার্যকর না হওয়া আর্থিক খাতের জন্য সংকট বলা যায়। গত রবিবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে শিল্প খাতে ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকর হবে। এর দুদিন পর মঙ্গলবার সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির স্বার্থে এই প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই আমরা। কারণ এর আগেও বারবার উদ্যোগ নিয়ে তা কার্যকর হয়নি। গত বছর ১ জুলাই থেকে সিঙ্গেল ডিজিট তথা ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা ছিল, কিন্তু এক বছর পার হলেও বেসরকারি ব্যাংকই আদেশটি মানছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে কার্যরত ৫৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে অধিকাংশই এখনো দুই অঙ্কের সুদ নিচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মেয়াদি ঋণে সুদ নিয়েছে ১২ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ। দুটি ব্যাংক ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদে এসএমই ঋণ দিয়েছে। বাড়ি-গাড়ি কেনার ঋণে ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ সুদ নিচ্ছে ব্যাংক। ক্রেডিট কার্ডে অধিকাংশ ব্যাংকের সুদহার রয়েছে ১৮ থেকে ২৭ শতাংশ। সরকারি মালিকানার ব্যাংকগুলো অবশ্য উৎপাদনশীল খাতে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। তবে ঋণ অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এবং নানা জটিলতার কারণে অনেক সময় উদ্যোক্তারা সরকারি ব্যাংকে যেতে আগ্রহ দেখান না। ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) বলছে, সবার লক্ষ্য ব্যাংকে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানো। তবে শুধু ঘোষণা দিয়ে আমানতে ৬% আর ঋণের সুদ ৯% বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। অনেক বিষয় আছে। এবিবি আশা করছে এবার দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে। ঋণের সুদহার কমানোর জন্য গত বছর ব্যাংকগুলোকে একের পর এক সুবিধা দেয়া হয়। ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের দাবির মুখে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সুযোগ দেয় সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমা বা সিআরআর সংরক্ষণের হার কমানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প মেয়াদে ধারের ব্যবস্থা ‘রেপো’র সুদহারও কমানো হয়। এসব সুবিধা দেয়ার প্রধান লক্ষ্য ছিল তুলনামূলক কম সুদে ঋণের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন না করা গেলে কেবল ব্যবসায়ীরাই ব্যাংকবিমুখ হবেন না, উৎপাদন, বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা সরকারের সামনে। শক্ত হাতে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এজন্য ব্যাংকগুলোর ওপর তদারকি ও নজরদারি বাড়াতে হবে।