পুঠিয়ায় শেখ ফজলুল হক মনির জন্মবার্ষিকী পালন

আগের সংবাদ

অধরা এক অঙ্কের সুদহার

পরের সংবাদ

কৃষক বাঁচাতে মাঠে সরকার

অভিজিৎ ভট্টাচার্য

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৫, ২০১৯ , ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ

কৃষক বাঁচাতে নানা পদক্ষেপ নিয়ে মাঠে নেমেছে সরকার। বছরের পর বছর ধরে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যে লাভ করতে না পারায় সরকার এমন উদ্যোগ নিল। এতে কৃষকরা খুশি বলে জানা গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন করে প্রাথমিকভাবে ১৬টি উপজেলায় কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনছে সরকার। আর দেশের বাকি উপজেলাগুলোতে লটারির মাধ্যমে ধান কেনা হচ্ছে। দুভাবে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে মোট ৬ লাখ টন ধান কিনবে। এতে কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাবেন। একই সঙ্গে আলুচাষিদের স্বার্থ চিন্তা করে আলু রপ্তানির চেষ্টা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। কৃষিপণ্য উৎপাদনে কৃষকদের যাতে বেশি পয়সা খরচা না হয় সে জন্য ডিএপি সারের দাম কেজিতে ৯ টাকা কমিয়ে ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সরকারের এমন উদ্যোগের ফলে কৃষকরা লাভবান হবেন। এবার অনলাইন এবং লটারি পদ্ধতিতে সরকার ধান কেনায় মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা করতে পারেননি। রোপা আমন ফসলে যেসব কৃষক ধান বেচেছেন আগামী বোরো ফসলে তারা সরকারের কাছে ধান বেচতে পারবেন না। এভাবে বছরজুড়ে চক্রাকারে ঘুরতে থাকবে এই বৃত্ত। এতে কৃষি কার্ডধারী কৃষকরা পুরো বছরজুড়েই সরকারের কাছে ধান বেচতে পারবেন।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, গত দুই মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এতে কৃষকরা কৃষি উৎপাদনের আয় দিয়ে পরিবারের খরচ চালাতে পারেন না। কৃষি উৎপাদনকে লাভজনক করতেই কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে রাজি হয় সরকার। এতে কৃষক উৎসাহিত হবেন। জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, যারা এবার সরকারের কাছে ধান বেচবেন সামনের ফসলে তারা পারবেন না। বাকিরা বেচবেন।

তিনি বলেন, চাষিদের উৎপাদন খরচ কমানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সারের দাম কমেছে। সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে। এসবের ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। এখন কৃষি কীভাবে লাভজনক করা যায়, রপ্তানিযোগ্য করা যায়, কৃষককে কীভাবে উৎসাহ দেয়া যায় সে বিষয়ে কাজ চলছে।

সূত্র জানায়, কৃষকদের উৎসাহ দেয়ার জন্য সার, বীজ প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি কম সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কৃষকরা শ্রমিক সংকটে ভুগছেন। এর ফলে ধান লাগানো এবং কাটতে খরচ বেশি হচ্ছে। এ জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষির যান্ত্রিকীকরণ করতে একটি প্রকল্প নিয়েছে। এ ছাড়া ধান কাটার জন্য সরকার কৃষককে প্রণোদনা দেবে। এ জন্য ৪০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, ধান কাটার প্রণোদনা দিতে কৃষি মন্ত্রণালয়েই টাকা রয়েছে। কৃষি খাতে এই প্রণোদনাকে তিনি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এবার ১৬টি উপজেলা থেকে অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আগামী বছর অ্যাপসের পরিধি আরো বাড়বে। বাকি উপজেলাগুলোতেও লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে।

জানতে চাইলে নীলফামারীর খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কাজী সাইফুদ্দিন অভি ভোরের কাগজকে বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কমিটি কৃষকদের নিয়ে লটারি করেছে। যাদের নাম লটারিতে উঠেছে তারাই সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেছেন। লটারির মাধ্যমে ধান কেনায় কৃষক ঠিকঠাক দাম পেয়েছেন বলে তিনি জানান।

ঢাকার ধামরাইয়ের খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, যেসব কৃষকের কাছ থেকে সরকার ধান কিনেছে সেসব কৃষককে তাদের অ্যাকাউন্টে (ব্যাংক হিসাব নম্বর) সরকার টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছে। সরকার যখন একজন কৃষককে কৃষি কার্ড দেয় তখনই কৃষককে ব্যাংকে হিসাব চালু করতে হয়।

এদিকে গতকাল বুধবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে কৃষকদের স্বার্থে ফসলের উৎপাদন ব্যয় কমাতে ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সারের দাম প্রতি কেজিতে ৯ টাকা কমিয়ে ১৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ইউরিয়া সারের ব্যবহার হ্রাস ও ডিএপি সারের ব্যবহার বাড়ানোসহ কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এ অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে ডিএপি সারের দাম কেজিপ্রতি ৯ টাকা কমিয়ে ডিলার পর্যায়ে ১৪ টাকা ও কৃষক পর্যায়ে ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হলো। এ জন্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। দেশে বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ টন ডিএপি সারের চাহিদা রয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দাম কমানোর ফলে ডিএপি সারের ব্যবহার আরো বাড়বে। কৃষকদের উৎপাদন খরচও হ্রাস পাবে। এ সার প্রয়োগে গাছ শক্তিশালী হয়, ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ও ফসল পুষ্ট হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে কীটনাশকের ব্যবহার ও আমদানি কমে যাবে। ২০০৯ সালের আগে ডিএপি সারের দাম ছিল কেজিতে ৯০ টাকা, যা ধাপে ধাপে কমিয়ে ২০১৪ সালে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর এবার ১৬ টাকা করা হলো।

এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আলু রপ্তানির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অ্যাক্রিডেটেড ল্যাব স্থাপন করবে। বারি এ পর্যন্ত ৯১টি আলুর জাত অবমুক্ত করেছে। আলু রপ্তানির বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে গতকালই কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা হয়। এতে বলা হয়, ফ্র্যান্স ফ্রাই ও চিপসের জন্য আলুর জাত আবাদ করতে হবে। আলু প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজন করে রপ্তানির মাধ্যমে এই শিল্পকে লাভবান করতে হবে। সরকার যে রপ্তানি উপযোগী আলুর বীজ অবমুক্তির তিন বছরের সময় সীমা তুলে নিয়েছে, এখন যে কেউ রপ্তানি উপযোগী আলুর জাত আবাদ করতে পারবে। তবে রোগবালাইয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান তদারকি করবে। যে কোনো মূল্যে আলু রপ্তানি করতে হবে। এ ব্যাপারে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

ডিসি