বাংলাদেশের স্বর্ণময় প্রথম তিনদিন

আগের সংবাদ

যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

পরের সংবাদ

চলতি মাসেই আরো ৫ স্প্যান

স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নেয়ার পথে

জাহাঙ্গীর আলম,মাদারীপুর

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৩, ২০১৯ , ৭:০৪ অপরাহ্ণ

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল কাজ। কারো যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। দিন রাত সমানতালে কাজ করছে সেতুর কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টরা। কোন ক্লান্তি নেই। সবার চোখে মুখে হাসির ঝিলিক। নিজেদের অর্থে নির্মাণ হচ্ছে দেশের দীর্ঘতম এই সেতু আর দেশের দীর্ঘতম সেতুতে কাজ করছে বলে গর্বে তাদের বুকটা ফুলে ওঠে।

একের পর এক স্প্যান বসানোয় দৈর্ঘ্য বেড়ে চলছে পদ্মাসেতুর। গাড়ি ও ট্রেনে চড়ে পদ্মা পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথে। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চল থেকে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে আরকিছু দিন পরেই। সাধারণ মানুষের স্বপ্নের কথা ভেবে এখন সেতুতে স্প্যান উঠছে সমান তালে। ১৬ তম স্প্যান বসানোর মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে স্থায়ীভাবে বসলো ১৭ তম স্প্যানটি।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকুলে থাকলে চলতি ডিসেম্বর মাসে মাসে পদ্মা সেতুতে বসবে আরও পাঁচটি স্প্যান। পদ্মা সেতুর পাঁচটি স্প্যান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। স্থাপনে বাধা শুধু নাব্য সংকট। উচ্চক্ষমতার ড্রেজারে রাত-দিন ড্রেজিং চলছে। যার মধ্যে তিনটি স্প্যান স্থায়ী আর দুটি বসবে অস্থায়ীভাবে। ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর সব স্প্যান বসানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে কাজ। এখন পর্যন্ত মূল সেতুর কাজে ৭৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরো জানান, ইনপুট বাড়িয়েছি, যাতে এটি পুরোপুরি করতে পারি। আমাদের টার্গেট হলো– ডিসেম্বরে আরও পাঁচটি স্প্যান বসাবো। এবং জুনের দিকে সব স্প্যান বসিয়ে দেব।

পদ্মা সেতুর কাজে নিয়োজিত প্রকৌশল বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, পদ্মা নদীতে এখন তীব্র স্রোত, অন্যদিকে নদীর তলদেশে বিরাট অংশজুড়ে জমেছে পলির স্তর । যে কারনে প্রাকৃতিক বৈরিতায় এত দিন বন্ধ ছিল পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানো কাজ। বর্তমানে পলির স্তর কেটে মোটামুটি একটি পরিবেশ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে বজায় থাকলে এখন থেকে ধারাবাহিক ভাবে সেতু স্প্যান তোলা যাবে। এদিকে আরও চারটি স্প্যান কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে আছে ও একটি চর এলাকায় ২৮ নম্বর পিয়ারের কাছে মোট ৫টি স্প্যান সম্পূর্ণ রেডি অবস্থায় রাখা আছে। এ স্প্যানগুলো চলতি মাসের মধ্যে স্থাপন করা হবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুম ও নাব্যতা সংকটের কারণে ৩ মাসের বেশি সময় ধরে পদ্মা সেতুতে কোনো স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়নি। ড্রেজিং করেও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছিল না। কয়েকদিন আগে স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হলেও নাব্যতা সংকট বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ড্রেজিং করে পলি অপসারণ করেও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না। নাব্য সঙ্কটের কারণে ১৫তম স্প্যানটি বসাতে বিলম্ব হচ্ছিল। অনবরত ড্রেজিং করে স্প্যানবাহী জাহাজটি যথাস্থানে যাওয়ার জন্য পানির গভীরতা তৈরি করে অবশেষে নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে স্প্যান বসানোর পরিবেশ করা হয়।

সূত্র আরো জানায়, সেতুর লম্বা দৈর্ঘ্য দৃশ্যমান এখন জাজিরা প্রান্তে। এক সঙ্গে ৯টি স্প্যানে দেখা যায় প্রায় দেড় কিলোমিটার। তবে এখন মাওয়া প্রান্তের কাজ বেড়েছে। মাঝনদীতে তিনটির পাশাপাশি মাওয়াতেও একসঙ্গে বসে গেছে চারটি স্প্যান। স্রোত কমে যাওয়ায় সামনের দিনের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে এ প্রান্তকে ঘিরেই। সেতুর ৩ ও ৪ নম্বর মডিউলে চলতি মাসে চলবে কাজ। ২৬ নভেম্বর ১৭তম স্প্যান বসিয়ে দেয়ার পর ৩০ নভেম্বর বসেছে আরেকটি স্প্যান। ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারে অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে ৩০ ও ৩১ নম্বর পিলারের স্প্যানটি। ভিন্ন মডিউলে হওয়ায় এ স্প্যানটিকে গণনা করা হচ্ছে না দৃশ্যমানের তালিকায়।ইয়ার্ডে জায়গা না থাকায় পিলারের ওপর এভাবে আরও অস্থায়ী স্প্যান এনে রাখা হবে।বর্ষার প্রতিকূলতা কাটিয়ে কাজ শুরুর পর চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সব মিলে পাঁচটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা সেতু কর্তৃপক্ষের।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সেতুর প্রথম স্প্যান, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয়, ১০ মার্চ তৃতীয়, ১৩ এপ্রিল চতুর্থ, ২৯ জুন পঞ্চম, ২০১৯ সালে ২৩ জানুয়ারি ষষ্ঠ, ২০ ফেব্রুয়ারী সপ্তম, ২০ মার্চ অষ্টম, ১৮ এপ্রিল নবম স্প্যান সহ সর্বশেষ ২৬ নভেম্বর বসানো হয় ১৭ তম স্প্যান। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সবকটি পিলার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।

এসএইচ