শাহজালালে সাড়ে ৮ কেজি স্বর্ণসহ যাত্রী আটক

আগের সংবাদ

বাংলাদেশকে দ্বিতীয় স্বর্ণ এনে দিলেন আল-আমিন

পরের সংবাদ

সকাল আসবে না মেধাবী জুঁইয়ের জীবনে

ইমরান রহমান :

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৩, ২০১৯ , ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

আমার মায়ের মাথায় কোনো আঘাত দেখা যায়নি। শুধু কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তবুও আমার মাকে বাঁচানো গেল না। সকাল হতে না হতেই আমার মা চলে গেছে। আর কোনো সকাল আসবে না ওর জীবনে… গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে এসব বলেই বিলাপ করছিলেন আকলিমা আক্তার জুঁইয়ের (২৫) বাবা আবুল কালাম।

গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিজয় সরণিতে উবারের মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন ইডেন কলেজের মেধাবী ছাত্রী জুঁই। দুইদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গতকাল সকালে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জুঁইয়ের সহপাঠী শামীমা ফেরদৌস লিনা জানান, ইডেন কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ফাস্টক্লাস পেয়ে অনার্স শেষ করেন জুঁই। এরপর একই বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন। পাশাপাশি ফার্মগেটে ‘হেডম্যান একাডেমি’ নামের একটি কোচিং সেন্টারে পড়াতেন তিনি। প্রতিদিন সকালেই তিনি ওই কোচিং সেন্টারে যেতেন। সেখান থেকে আবার রমনায় ‘লক্ষ্য নিউজ প্রেজেন্টেশন’ নামে একটি কোচিং সেন্টারে নিজে ক্লাস করতেন জুঁই।

নিহতের স্বজনরা জানান, নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আবুল কালামের মেয়ে জুঁই। ১৯৯৪ সালে অবসরে যান আবুল কালাম। মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন তিনি। তবে পরবর্তিতে নানান জটিলতায় মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র পাননি আবুল কালাম। তার ৩ মেয়ের মধ্যে জুঁই ছিলেন সবার ছোট। বাবা ও মা রোকেয়া বেগম সুমিকে নিয়ে থাকতেন মিরপুর পূর্ব কাজীপাড়া মসজিদ সংলগ্ন ৫০৩ নম্বর বাসায়। বড় বোন নাসিমা আক্তার ও মেজ বোন তানজিনা আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে।

বিলাপের এক ফাঁকে কিছুটা ধাতস্থ হয়ে জুঁইয়ের বাবা আবুল কালাম জানান, গত শনিবার সকালে বাসায় নাস্তা করার পর ফার্মগেটে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য উবার মোটরসাইকেল কল করেন জুঁই। প্রতিদিন উবার মোটরসাইকেলেই চলাচল করতেন তিনি। ওইদিন বিজয় সরণি মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল যখন ছেড়ে দেয় তখন মোটরসাইকেল টান দিতেই পিছন থেকে পড়ে যান জুঁই। এতে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান তিনি। পরে উবার চালক সুমন জুঁইকে উদ্ধার করে প্রথমে আল রাজি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। ধীরে ধীরে তার অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসকরা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে যান।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম উর রশিদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ইডেন কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। পরিবার যদি মামলা করে তাহলে মামলা নেয়া হবে। ঘটনাটি বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

ডিসি
বিষয়: