ষষ্ঠ ব্যালন ডি অর জিতলেন মেসি

আগের সংবাদ

কী শিখতে চান দীপিকা!

পরের সংবাদ

ফাইলবন্দি রাজাকারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত আইন!

ঝর্ণা মনি:

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৩, ২০১৯ , ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ

জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ফাঁসি কার্যকরের আগেই সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি পরিবারের সদস্যদের নামে হস্তান্তর করেন। জামায়াতের নায়েবে আমির মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আব্দুস সুবহান বিচারের আগেই সন্তানদের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন। বিচার শুরুর আগেই বাড্ডা এলাকায় থাকা সম্পত্তি পানির দামে বিক্রি করে দেন চট্টগ্রামের কুখ্যাত রাজাকার সাকা চৌধুরী। ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার পলাতক আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারও পালিয়ে যাওয়ার আগে একাধিক সম্পত্তি বিক্রি করেন। পিরোজপুরের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার পালিয়ে যাওয়ার আগে গোপনে কিছু সম্পত্তি বিক্রি করেন। গোপনে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন কক্সবাজার-মহেশখালীর যুদ্ধাপরাধ মামলার প্রধান আসামি মৌলভী জাকারিয়া।

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করে জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল। রাজাকার, আলবদর, আলশামস নামে বিভিন্ন দল গঠন করে তারা ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো যুদ্ধাপরাধ ঘটায়। সাধারণ মানুষের ধনসম্পদও লুট করে তারা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর উদ্যোগ নেয়া হলে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি ওঠে। মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও শহীদ সন্তানদের মতে, ওই বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর গোপনে সম্পত্তি বিক্রি করে পালিয়ে যায় চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের অনেকেই। যারা পালাতে পারেনি তারা বিভিন্ন সময় পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করে। ২০১৩ সালে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনেও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জোরালো হয়। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুর খুনি ও দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার একটি প্রস্তাব জাতীয় সংসদে তোলা হলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। তবে এ ব্যাপারে আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। অবশ্য যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনি কাঠামো তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কাজ গত বছর থেকেই শুরু হয়েছে। এখন এটা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি জামায়াতের সম্পদ বাজেয়াপ্তের তালিকায় রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা, কেয়ারী ফুড, ইসলামী ব্যাংক চক্ষু হাসপাতাল, সান সিটি, দৈনিক সংগ্রাম, শতাব্দী প্রেস, আধুনিক প্রকাশনী প্রেস, দারুল ইসলাম ট্রাস্ট, সোনার বাংলা পত্রিকা, রাবেতা ইসলাম, দারুল ইসলাম ট্রাস্ট, ফুলকুড়ি, ফালাহ্ আম ট্রাস্টসহ ১০৯টি প্রতিষ্ঠান। এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন সরকার তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেনি এমন প্রশ্ন গবেষকদের। এ ব্যাপারে একাত্তরের ঘাতক-দালাল-নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা বারবার বলেছি, ট্রাইব্যুনালে যাদের বিচার হয়েছে, শাস্তি হয়েছে, তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, ক্ষমতার অংশীদার ছিল, তখন সম্পদের বিশাল পাহাড় বানিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। মীর কাশেম আলী একাত্তরে কি ছিল? আর এখন কত টাকার সম্পদ রেখে কবরে গেল? এই সম্পদ এ দেশের জনগণের সম্পদ। মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের অনেক পরিবারই নিঃস্ব হয়েছেন। আমাদের কাছে অনেকেই আসে, যারা ভিক্ষে করে। তাদের অনেকেরই ভিটেমাটি নেই।

মুক্তিযুদ্ধের এই গবেষক বলেন, এদের যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ৩০ লাখ শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য ব্যয় করতে হবে। এদের শাস্তি হয়েছে কিন্তু এদের কারণে যারা প্রায় ৫০ বছর ধরে ভুক্তভোগী তাদের ক্ষতিপূরণের কি হবে? কিন্তু সরকার এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়নি। ট্রাইব্যুনালের রায় পর্যবেক্ষণে আছে। মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর আমরা অতিক্রম করতে যাচ্ছি। কিন্তু শহীদ পরিবারের দুঃখ কষ্ট তো এখনো শেষ হয়নি।
সম্পদ বাজেয়াপ্ত ছাড়াও যুদ্ধাপরাধীর সন্তানদের সরকারের উচ্চপদে চাকরি না দেয়া, কোনো রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভুক্তি না করার আহ্বান গবেষকদের। জানতে চাইলে ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিংয়ের প্রধান ডা. এম এ হাসান ভোরের কাগজকে বলেন, যারা শান্তি কমিটির সদস্য ছিল তাদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। আলবদরবাহিনীর সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো প্রয়োজন। রাজাকারদের মধ্যে যারা যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তাদের কোনো অধিকারই থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্রীয় কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধীর সন্তান যেন চাকরি না পায় বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আজকাল ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোতে এরা স্থান পাচ্ছে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলে যেন এরা ঠাঁই না পায়, চলতি ডিসেম্বরেই দলগুলোর এই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

ডিসি
বিষয়: