মাইলসের ৪০ বর্ষপূর্তিতে ঢাকায় কনসার্ট

আগের সংবাদ

শৈত্যপ্রবাহ আসছে ডিসেম্বরের শেষ দিকে

পরের সংবাদ

প্রতারণায় এমএ-বিএড-এমএড

তিনটি সার্টিফিকেটই জাল, তবুও তিনি প্রধান শিক্ষক!

সুজন মোল্লা, বানারীপাড়া (বরিশাল) থেকে:

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৩, ২০১৯ , ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

বানারীপাড়া উপজেলার ধারালিয়া সৈয়দ বজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইনের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ, বিএড ও এমএড এই তিনটি পরীক্ষার জাল সার্টিফিকেট দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন তিনি। খোদ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তারিকুল ইসলাম খানসহ একাধিক সদস্য এমন অভিযোগ করেছেন। যার সত্যতাও পেয়েছেন তারা।

তারিকুল ইসলাম জানান, ২০১০ সালে প্রধান শিক্ষকের পদে চাকরি নেন জাহাঙ্গীর হোসাইন। বিদ্যালয়ে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তার এবং একাধিক সদস্যেদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের সার্টিফিকেট দেখে সন্দেহ হয়। পরে জাহাঙ্গীর হোসেনের সার্টিফিকেট সঠিক কিনা তা যাচাই করতে গত ১৮ আগস্ট রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং দারুল ইহসানের বরাবর লিখিত একটি আবেদন করা হয়।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহামুদা বেগম ১৫ সেপ্টেম্বর লিখিতভাজে জানান যে জাহাঙ্গীর হোসাইনের ২০০৭ সালের ফলাফল সেমিস্টার ও ইংরেজিতে এমএ পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৪২ এর সার্টিফিকেট জাল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী সাহিত্য বিষয়ে এমএ নেই বলেও জানানো হয়। অথচ প্রধান শিক্ষক ওই বিষয়ে এমএ’র সার্টিফিকেট দাখিল করে চাকরি নিয়েছেন।

একই আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার দারুল ইহসান থেকে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে জানানো হয় প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসাইন সেখানে পরীক্ষাই দেননি। ইউজিসি’র তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মান্নান জানান, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সালের আগে ভর্তি হয়ে পাস করা শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট বৈধ বলে গণ্য হবে। আর এর পরের সার্টিফিকেট অবৈধ। অথচ প্রধান শিক্ষক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭ সালের এমএ, ২০০৮ সালের বিএড ও ২০০৯ সালের এমএড পাসের সার্টিফিকেট দাখিল করেছেন। যা ইউজিসি’র মতে সম্পূর্ণ অবৈধ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসাইন এসব জাল সার্টিফিকেট নিজেই তৈরি করে ভুয়া সিল দিয়ে সত্যায়িত করে প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি নিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক পদে চাকরি পেতে বিএড সনদ বাধ্যতামূলক হলেও তার সেই সনদই জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক পদে চাকরির জন্য যে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন আগের মাদ্রাসার সেই অভিজ্ঞতার সনদও জাল করে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির।

সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করাকালীন জাহাঙ্গীর হোসাইন কীভাবে বেসরকারি দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ক্লাস করা ও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে যোগীরকান্দা আব্দুর রব ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইলিয়াস জানান, তিনি ওই মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে যোগদানের তিন মাস পরেই তৎকালীন সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসাইন পদোন্নতি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। এ জন্য বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি।

তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসাইন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা এবং দারুল ইহসানে ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাস করে পরীক্ষা দিয়ে সনদ লাভ করেছি। ওই সনদ দিয়েই আগের কর্মস্থল উজিরপুরের যোগীরকান্দা আব্দুর রব ফাজিল মাদ্রাসায় চাকরি করেছি।

এদিকে, শিক্ষক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা নির্ধারক সার্টিফিকেট জাল করে শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে কলঙ্কিত করে চাকরিতে বহাল থেকে সরকারি সবধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা সচেতন ও অভিভাবক মহল। তারা শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসাইনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও তুলেছেন।

ডিসি