প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে: চবি ভিসি

আগের সংবাদ

বাংলাদেশে আসছে ভারতের শেলবি মাল্টি-স্পেশাল হাসপাতাল

পরের সংবাদ

কাটছে বুয়েটের অচলাবস্থা

রেজাউল আলম

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৩, ২০১৯ , ১০:১৫ অপরাহ্ণ

টানা দুই মাসের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সচল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। বুয়েট প্রশাসন বলছে, তারা শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নিয়েছেন। তাই তারা আশা করেন, শিক্ষার্থীরা দ্রুতই ক্লাসে ফিরবেন। এদিকে শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছেন ক্লাসে ফিরতে তাদের তেমন কোন আপত্তি নেই। তবে তাদের কিছু বিষয়ে কনফিউশন রয়েছে যা নিয়ে প্রশাসনের সাথে শেষবারের মত একটি বৈঠকে বসে সেসব পরিষ্কার করতে চান।

আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মুখে বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি মেনে নেয়। সর্বশেষ, তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। গত ২ নভেম্বর বুয়েটের উপাচার্য সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, তাদের তিন দফা দাবির প্রথম দুটি দাবি পূরণ হলে তাঁরা আসন্ন টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ মেনে নেবেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত সাত দিন আগে তৃতীয় দাবিটি পূরণ হলে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তাদের এ তিন দফা দাবি পূরণ হলেই কেবল ২৮ ডিসেম্বর থেকে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা দিতে তাঁরা রাজি আছেন।

শিক্ষার্থীদের করা তিন দফা দাবির প্রথম দফা অনুযায়ী, বুয়েট প্রশাসন গত ২১ নভেম্বর রাতে আবরার হত্যায় অভিযুক্ত ২১ শিক্ষার্থীসহ মোট ২৬ জনকে বুয়েট থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত ২৮ নভেম্বর র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত থাকায় বুয়েটের সোহরাওয়ার্দী হল ও আহসানউল্লাহ হলের ২৬ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার এবং চার শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ দাবি অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে র‍্যাগিং ও সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত থাকলে বহিষ্ককারসহ বিভিন্ন রকমের শাস্তির বিধান রেখে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বুয়েট প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পূরণ হয়েছে।

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন,আমরা শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নিয়েছি। ফলে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে আর কোনো বাধা নেই। অতি শিগগিরই বুয়েটের ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে। এক্ষেত্রে তারা আগামী ২৮ ডিসেম্বর টার্ম ফাইনালের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করার বিষয়ে প্রথমিক চিন্তাভাবনা করছেন।

তবে এ বিষেয় সিদ্ধান্ত নিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। আর আগামী শনিবার মিটিংয়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মিটিং থেকে পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে, যেটি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে আগামী ২৮ তারিখকে সম্ভাব্য সময় ধরে আমরা কাজ করতে চাই। নির্দিষ্ট সময়েই পরীক্ষা শুরু করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে।

এদিকে প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী অন্তরা তিথি ভোরের কাগজকে বলেন, যেহেতু প্রশাসন আমাদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিয়েছে সেহেতু পরীক্ষায় বসতে আমাদের আপত্তি নেই। তারপরও আমরা সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আরেকবার বসতে চাই। সেখানে আমরা সব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে চাই। আমাদের কিছু বিষয় নিয়ে কনফিউশন রযেছে৷ আমরা স্যারদের সাথে কথা বলে তা পরিষ্কার করতে চাই। আমাদের আজ বুধবার ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের সাথে এ নিয়ে বসার কথা রয়েছে। এ আলোচনা শেষে আমরা ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কোন কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, তারা এখনো পর্যন্ত আমাকে কিছু জানায়নি।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত‌্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এর পরই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান তারা।

এসএইচ