বিএনপির ১৪ নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতার মামলা

আগের সংবাদ

ভোলায় মোটর সাইকেলের ধাক্কায় আ. লীগ নেতা নিহত

পরের সংবাদ

দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক রায়

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এখন চ্যালেঞ্জ

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ২, ২০১৯ , ৬:০৮ অপরাহ্ণ

বাসচাপায় রাজধানীর রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় জাবালে নূর পরিবহনের দুই চালক ও এক সহকারীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে ঢাকার আদালত। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় জাবালে নূর বাসের মালিক জাহাঙ্গীর আলম ও হেলপার এনায়েত হোসেন খালাস পেয়েছেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ গত রবিবার তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। রায়ে সন্তুষ্ট নিহতের পরিবারগুলো। তবে সড়কে শৃঙ্খলা নিয়েও হতাশার জায়গা রয়ে গেছে।

২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের ঢালে জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীর ওপর বাস তুলে দেয়। এতে ৯ ছাত্রছাত্রী গুরুতর আহত হয়। আহতদের মধ্যে রমিজ উদ্দিন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মীম (১৬) ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে মারা যায়। ঘটনার রাতেই নিহত দিয়ার বাবা দূরপাল্লার বাসচালক জাহাঙ্গীর আলম ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

দিয়া ও রাজীবের মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা পথে নেমেছিল। তাদের আন্দোলন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল, সড়ক নিরাপত্তায় কতটা গলদ রয়েছে, পরিবহন খাতে কতটা নৈরাজ্য চলছে। তাদের আন্দোলনে সড়ক পরিবহন আইনের মতো একটি ভালো আইন হয়েছে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে দেখছি- আইনটি প্রয়োগে আসছে নানা রকম বাধা। নতুন আইন বাস্তবায়নে বাধা দিতে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা জনগণকে জিম্মি করে পরিবহন ধর্মঘট করে। চাপের কারণে এ আইন শিথিল করা হয় ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এ খাতে সংশ্লিষ্টদের সবার আন্তরিকতা ছাড়া বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে সরকারকে জিম্মি করে আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন করতে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন তারা।

আমরা মনে করি, এই আইন বাস্তবায়ন করতে হলে মূলে হাত দিতে হবে। বিআরটিএ স্বচ্ছ হলে সড়ক-মহাসড়কে নৈরাজ্য প্রায় কমে আসবে। বিআরটিএর সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তুষ্টি বহুদিনের। আছে নানা অভিযোগ। এখানে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, হয়রানি, ভোগান্তি আর দালালদের তৎপরতা চললেও তা দেখার এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কেউ যেন থেকেও নেই। পরিবহন খাত এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক যোগাযোগ ছাড়াও আন্তর্জাতিক অনেক বিষয় এখন পরিবহনে যুক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ জন্য সময়ের ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন আইনে যে বিষয়গুলো সংযোজিত হয়েছে, তার কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি মনে করছি।