স্বাধীনতা বিরোধীদের নামে শতাধিক স্থাপনা

আগের সংবাদ

জেমি ডের শিষ্যদের স্বর্ণ জয়ের মিশন শুরু

পরের সংবাদ

সিলেট মহানগর সম্মেলন

প্রচারণায় আধুনিকতা, এগিয়ে ক্লিন ইমেজ

জাহিদুল ইসলাম, সিলেট ব্যুরো :

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ২, ২০১৯ , ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ ৮ বছর পর আগামী ৫ ডিসেম্বর হতে যাচ্ছে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা সাংগঠনিক কার্যক্রমও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে চাঙ্গাভাব। গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অন্তত ডজনখানেক নেতা।

ইতোমধ্যেই বিলবোর্ড আর ব্যানার-ফেস্টুনে সয়লাব হয়ে গেছে নগরী। সবই হচ্ছে মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদের জন্য। পদপ্রত্যাশী নেতারা নগরজুড়ে বিলবোর্ড আর প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি নিজ বলয়ের কর্মীদের সংগঠিত করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া চলছে উচ্চপর্যায়ের লবিংও।

সম্প্রতি শুরু হওয়া দলের শুদ্ধি অভিযানের কারণে ক্লিন ইমেজের নেতারা আসছেন সামনে। তবে নেতাদের প্রায় সবার বক্তব্য শেষ পর্যন্ত দলীয় কাউন্সিলের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় পছন্দেই নির্বাচিত হবে শীর্ষ নেতৃত্ব। মূলত দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছেতেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা হতে পারে। আর তাই কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে প্রচারণার পাশাপাশি জোর লবিং চালাচ্ছেন অনেকেই।

মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বরত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সম্মেলনের প্রস্তুতিও চলছে জোরেশোরে।

কমিটির শীর্ষপদ কারা পাবেন এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা বর্তমানে সিলেট নগরীর টক অব দ্য টাউন। কর্মী-সমর্থকরাও অপেক্ষা করছেন অধীর আগ্রহে। বর্তমান সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এবারো সভাপতি হতে আগ্রহী। তবে নেতাকর্মীদের এক পক্ষ মনে করেন, বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। আগামী সম্মেলনে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির আরো বড় পদ দেয়া হতে পারে। ফলে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে আসতে পারে পরিবর্তন। তবে কামরান অনুসারীরা মনে করেন, আবারো কামরানের ওপরই আস্থা রাখবেন দলীয় সভানেত্রী।

এদিকে সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার তালিকায় আরো আছেন বর্তমান মহানগরের সহসভাপতি এডভোকেট রাজউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, এডভোকেট মফুর আলী, সাবেক সিটি কাউন্সিলর আবদুল খালিক এবং যুগ্ম সম্পাদক সাবেক সিটি কাউন্সিলর ফয়জুল আনোয়ার আলাউর।

এডভোকেট রাজউদ্দিন গুলশান হোটেলে জঙ্গিবাদী গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক আহত হন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকায় নেতাকর্মীদের কাছে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আসন্ন সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে রাজনীতি করি। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব নির্দেশনায় সব সময় সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছি। তিনি যে দায়িত্ব দেবেন তা যথাযথভাবে পালনে আপ্রাণ চেষ্টা করবো।

এদিকে, লবিংয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা আসাদ উদ্দিন। তৃণমূলে তার জনপ্রিয়তাও ঈর্ষণীয়। ভোরের কাগজের সঙ্গে আলাপকালে আসাদ উদ্দিন বলেন, আমি সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেছি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন তবে পদে রাখবেন। সেসব নিয়ে আমি ভাবছি না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন তাই হবে। আপাতত একটি সফল সম্মেলন আয়োজনই আমাদের লক্ষ্য।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন একঝাঁক ছাত্রনেতা। বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এ টি এম হাসান জেবুল, পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাসের প্রচারণা চলছে জোরেশোরে। এক সময় সিলেট ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল জানান, দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতি করেছি, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আমাকে যোগ্য মনে করে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করেছেন। আমি মনে করি, আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমি যথাযথভাবে পালন করেছি। এখন দল যদি আমাকে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করে, আমি দলের জন্য কাজ করে যাব। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে ছিলাম, আজও আছি। আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরাই আমার অনুপ্রেরণা।

এ ছাড়া এ পদে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, অধ্যাপক জাকির হোসেন, শিক্ষা সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী।

তবে শেষ হাসি কে হাসবেন তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ৫ ডিসেম্বরের সম্মেলনের পর। তার আগে একটি সফল সম্মেলন আয়োজনে ব্যস্ত সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

ডিসি