শালিখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আজ

আগের সংবাদ

রাজীব-দিয়ার মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ

পরের সংবাদ

লাইনেই থাকল ইট ব্যাগ আর খবরের কাগজ!

সাইদুর রহমান, রাজশাহী থেকে :

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১, ২০১৯ , ১২:০৮ অপরাহ্ণ

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পেঁয়াজ কেনার জন্য ইট, ব্যাগ, মিষ্টির প্যাকেট, পানির বোতল ও খবরের কাগজ দিয়ে সিরিয়াল ধরেছিলেন ভোক্তারা। প্রতিদিন রাজশাহী নগরের বড় মসজিদের সামনে ভোক্তারা সকাল থেকেই সারিতে দাঁড়িয়ে যান। গতকাল শনিবার ক্লান্ত হয়ে তারা সারির দখল বহাল রাখতে অন্য জিনিস রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কেউ পেঁয়াজ পাননি। তারা জানতেন না গতকাল পেঁয়াজ দেয়া হবে না। শেষ পর্যন্ত ইট, খবরের কাগজ, পানির বোতল লাইনেই পড়ে থাকে।

রাজশাহীতে পেঁয়াজের বাজার এখনো অস্থিতিশীল। গত ২৪ নভেম্বর থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি চলছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সে দিন থেকেই নগরীর পাঁচটি পয়েন্ট থেকে পেঁয়াজ কিনছেন ক্রেতারা। মানুষের এত ভিড় নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য থাকে পুলিশের পাহারাও।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে বড় মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৮টা থেকেই ইট, খবরের কাগজ, মিষ্টির প্যাকেট ও পানির বোতল লাইন করে রেখে দেয়া হয়েছে। যারা রেখেছেন তাদের কেউ লাইনের আশপাশেই ঘোরাফেরা করছেন, কেউ-বা গিয়েছেন প্রয়োজনীয় কাজ সারতে। আবার কেউ গিয়েছেন সবজির বাজারে। তাদের আশা ছিল, প্রয়োজনীয় কাজ সারতে সারতেই পেঁয়াজের ট্রাক চলে আসবে। কিন্তু শেষে তাদের নিরাশ হয়েই ফিরতে হয়। গতকাল নগরের কোথাও পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়নি।

নগরের হড়গ্রাম বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনতে এসেছিলেন আব্দুল মালেক। তিনি একটি খবরের কাগজ লাইনে রেখে গিয়েছিলেন বাজার করতে। সকাল ৯টার দিকে এসে তিনি দেখছিলেন তার কাগজ ঠিক আছে কিনা। আব্দুল মালেক বলেন, আমি এর আগে দুবার এসে পেঁয়াজ নিয়েছি। আসলে অনেক বেশি ভিড় হয়। পায়ে ব্যথা ধরে যায়। তাই এই ব্যবস্থা করেছি। মালেকের মতো একই কথা বললেন আবদুর রউফ। তিনি নগরীর বড়কুঠি এলাকা থেকে এসেছিলেন। রউফ বলেন, আমি লাইনে ইট রেখেছি। লাইনে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। তাই এই ব্যবস্থা করেছি।

লাইনে মিষ্টির প্যাকেট রেখে ঘোরাফেরা করছিলেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, লাইনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাটা কষ্টকর। তাই সবাই এই ব্যবস্থা করেছেন। তাদের দেখাদেখি তিনিও করেছেন। তবে সকাল ১০টার পর তারা জানতে পারেন পেঁয়াজের ট্রাক আসবে না। তখন তাদের হতাশ হয়ে ফিরতে হয়।

যোগাযোগ করা হলে টিসিবির আঞ্চলিক অফিসপ্রধান প্রতাপ কুমার বলেন, মজুত না থাকার কারণে শনিবার নগরের কোথাও পেঁয়াজ বিক্রি হয়নি। তবে পেঁয়াজ চট্টগ্রাম থেকে আনা হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত একটি ট্রাক পুঠিয়া এসেছে। আরেকটি নাটোর পর্যন্ত এসেছে। রাজশাহীতে আসতে দেরি হবে। এগুলো পরিবেশকদের দেয়ার পর বিক্রয় পয়েন্টে যেতে অনেক দেরি হয়ে যেত। তাই পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়নি। তবে রবিবার থেকে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পেঁয়াজ বিক্রি চলবে বলেও জানান তিনি।

এসআর