বিএনপি কি মাঠে নামার সাহস শক্তি, সক্ষমতা অর্জন করেছে?

আগের সংবাদ

বন্ধন

পরের সংবাদ

বৌ কথা কও

হামীম রায়হান

পটিয়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২৯, ২০১৯ , ৯:৩৯ অপরাহ্ণ

এক গ্রামে এক কৃষক বাস করত। তার ঘরে ছিল সুন্দরী এক বৌ। তাদের ছিল সুখের সংসার। কৃষক মাঠে কাজ করত আর তা দিয়েই তাদের সংসার চলত। তাদের ছিল না কোনো অভাব। কৃষক সকালে মাঠে চলে যেত আর দুপুরে তার বৌ খাবার নিয়ে যেত। জমির আইলে বসে তারা দুজন গল্প করে খাবার খেত। তাদের জীবন সুখেই কাটছিল।
একদিন বৌ দুপুরের খাবার নিতে দেরি করে। এদিকে কৃষকের খুব খিদে লেগেছিল। আবার সে মনে মনে ভাবছে বৌয়ের কোনো সমস্যা হলো না তো। চারপাশে তো জঙ্গল। আর জঙ্গলে অনেক ধরনের জন্তু জানোয়ার। কোনো জন্তু আবার বৌকে আক্রমণ করল না তো! এই ভাবতে ভাবতে অনেকক্ষণ কেটে গেল। বেশ কিছুটা সময় পর বৌকে আসতে দেখে কৃষকের মনে শান্তি এলো। বৌ কাছে এলে কৃষক খুব রাগ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। কৃষক বৌ আর কৃষকের সঙ্গে কথা বলে না। কৃষকও কথা বলে না। তাদের মনে শান্তি নাই। কেউ কারো রাগ ভাঙায় না। সবাই সবার জিদ ধরে রাখে। একদিন সকালে কৃষক মাঠে যায়। বৌ এদিকে রান্নার কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ কে যেন বলে উঠে ‘বৌ কথা কও’। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলে উঠে ‘বৌ কথা কও!’
বৌ শুনে তো অবাক। কে ডাকে! এ ডাক তো খুব সুন্দর! বাইরে এসে দেখে একটা পাখি খুব সুন্দর করে ডাকছে। বৌ ভাবল পাখিটাকে এ হয়তো তার স্বামী পাঠিয়েছে। নিজের মুখে পারছে না বলে পাখিটাকে পাঠিয়ে বলছে। শুনে মনটা ভালো হয়ে গেল বৌয়ের। তাড়াতাড়ি ভালো রান্না করে স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে মাঠে গেল এবং স্বামীকে আদর করে খাওয়াল। আর ভালো ভালো কথা বলল। বৌয়ের কথা শুনে কৃষকও বেশ অবাক হয়। বুঝতে পারে না ঘটনা কী! তারপরও সে বৌকে কিছু বুঝতে দেয় না। তাদের সংসারে আবার আগের মতো সুখ ফিরে আসে।
এদিকে কৃষকের বাড়ির পিছনের আমগাছে একটা বৌ কথা কও পাখি নতুন বাসা করেছে। তার বাসায়ও অনেক সুখ। সে মনের সুখে গাছের ডালে বসে গান গায় ‘বৌ কথা কও, বৌ কথা কও!’

হামীম রায়হান : পটিয়া, চট্টগ্রাম