বন্ধন

আগের সংবাদ

যুবক তোমার জন্য

পরের সংবাদ

দিনযাপনের ইতিবৃত্ত

জারিফ এ আলম

বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২৯, ২০১৯ , ৯:৪০ অপরাহ্ণ

হেমন্তের বিকেল সোনা ছড়ানো মিষ্টি রোদ মন আকুল করে রাখে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝেও প্রশান্তির সুবাতাস খুঁজে ফিরি। মৃদু হাওয়ার পালে বেজে ওঠে আনন্দ-ভৈরবী। অবিন্যস্ত ভাবনার পৃষ্ঠাতে জমে ওঠে নানারকম আনকোরা স্বপ্নেরা। বাতাসের মৃদু কোলাহল কানে বাজে। লোডশেডিং হয় যান্ত্রিক গোলযোগে। ভাবনার সুতোয় তখন টান পড়ে। এই কর্মব্যস্তময় নগরী হয়ে ওঠে রাতের নির্জনতার মতো আজব কুহক। আমি এখন তোমাকে ভেবে ভেবে এগিয়ে যাচ্ছি গুটিগুটি পায়ে। এক পা দুই পা তিন পা করে। আমি চাইলেও পেছোতে পারবো না। তোমাকে ভুলে যাওয়ার সাহস কখনো করিনি। স্বপ্নের মালা গেঁথে গেঁথে কেবল পথের কাঁটা সরিয়েছি। আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগিয়ে গেছি প্রতি মুহূর্তের অঙ্গীকারে। মনোযোগী পাঠকের মতো তোমাকে পাঠ করে যাই প্রতিদিন। বাঁকা বাঁকা কালো কালো অক্ষরে তোমাকে লিখে রাখি ব্যক্তিগত কথামালায়। যেখানে তুমি আলো জ্বেলে আছ ভালোবাসার। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ইচ্ছের। আজকাল নিজেকে গুটিয়ে রাখি কংক্রিটের এই নগরে। যেখানে নাগরিক ইচ্ছের কোনো মূল্য নেই সেখানে ভূমি কী মূল্য দেবে বলো! বরং তারচেয়ে অনেক ভালো একা হয়ে যাওয়া। যেখানে ভালোবাসার বিশ্বাস নিয়েও দেখতে পাই না হৃদয়টি ঠিক কোথাও আছে। সেখানে আমি তোমার কাছে কোনো আবেদন জানাইনি; না ভালোবাসার না কোনো স্বপ্নের। রাত্রি আমাকে সঙ্গ দেয় নিঃসঙ্গতার। তুমি তখন আমার সমস্ত বোধ জুড়ে থাক। এক দুঃসহ চাপা কষ্ট বুকে ভর করে। সহিষ্ণু হতে চেষ্টা করি। চিন্তার বিবর্তনে তোমাকে নিজের মতো করে সাজাই। দীর্ঘ অপেক্ষা কেবল তোমাকে পাওয়ার। এই যে অস্থিরতা; মধ্যরাতে যখন তুমিই ভাবনার আদি উৎস, তখন তোমাকে লিখছি যন্ত্রণার ইতিবৃত্ত। চৈত্রের হাওয়ায় যখন মন কেমন করা সময়, তখন বিচিত্র রঙের রূপরেখা ভেতরে ভেতরে নাড়িয়ে যায়। কিন্তু ভাবনার চোরাগলি দিয়ে তোমাকে অনুভবের উপলক্ষগুলো চকিতে চলে আসে। কতো ইচ্ছে-অনিচ্ছের ছড়াছড়ি আজ!

বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।