ফরিদপুরে ৬ জনকে আসামি করে দুদকের দুর্নীতির মামলা

আগের সংবাদ

খালাস আসামির বিষয়ে আপিল করবে পুলিশ

পরের সংবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক

বাংলাদেশ-তুরস্কের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২৮, ২০১৯ , ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ ও তুরস্ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানী আংকারায় তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাননের নেতৃত্বে আলোচনায় অংশ নেয় বাংলাদেশের ১০ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল। তুরস্কের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সয়লু। শুরুতে তিনি আসাদুজ্জামান খানকে স্বাগত জানান। অতীতে তুরস্কের সংকটকালে বাংলাদেশের সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতাচিত্তে স্মরণ করেন। উভয় দেশের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্যতার কথা উল্লেখ করে তারা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাড়ানোর আশা প্রকাশ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সয়লু তুরস্কে অবস্থিত সিরিয় শরণার্থীদের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর বিষয়ে তুরস্কের আর্থিক ও অন্যান্য সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তুরস্কে অবস্থিত কিছু সংখ্যক বাংলাদেশি অনিয়মিত অভিবাসীর কথা উল্লেখ করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত নেয়ার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দুদেশের সহযোগিতার ওপরে গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা প্রতি মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকার বিষয় উল্লেখ করে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা দেয়ার কথা বলেন।

অপরদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান তার বক্তব্যের শুরুতে তুরস্কের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরেন।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, রেমিটেন্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হওয়ায় সরকার নিরাপদ এবং আইনানুগ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাব করেন।

বৈঠকে সন্ত্রাস দমন, মাদক নির্মূল ও অন্যান্য অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে দু’দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পারষ্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি তুরস্ক সরকারের চলমান বিভিন্ন মানবিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তুরস্ক সরকারের রাজনৈতিক, নৈতিক ও মানবিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

পরে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।  বৈঠক শেষে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকের আগে সকালে আংকারায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা পরিদর্শন ও এর কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার আগে তুরস্ক সরকারের অভিবাসন ব্যবস্থাপনার মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আয়াজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আংকারার একটি হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তুরস্ক সরকারের অভিবাসন সমস্যা ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত করা হয়।

বৈঠকে জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দীকী, অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহিদুল ইসলাম, সুরক্ষাসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আযহারুল হক, অতিরিক্ত সচিব রাজনৈতিক আবু বকর সিদ্দিক ও জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব ড. হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু উপস্থিত ছিলেন।

কেকে/এমএন