আজ ভয়াবহ কোকো ট্রাজেডি দিবস

আগের সংবাদ

বিপিএলে খেলার কথা জানেনই না গেইল!

পরের সংবাদ

মা হতে এসে লাশ কাছিম

মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২৭, ২০১৯ , ১:৩১ অপরাহ্ণ

সোনাদিয়া, সেন্টমার্টিন সমুদ্রসৈকতে আসে সামুদ্রিক ‘মা’ কাছিম। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের সাগরসৈকতে দুয়েকটি কাছিম চোখে পড়লেও কক্সবাজার, হিমছড়ি, পেঁচার দ্বীপ, ইনানীর সাগরসৈকতে সামুদ্রিক কাছিম আর ডিম দিতে আসে না। অপরিকল্পিত আবাসন, সৈকতে আলোর ঝিলিক ও পর্যটকের অনিয়ন্ত্রিত পদচারণায় কাছিমের ডিম দেয়ার পরিবেশ গত ৫ বছরে পুরোটা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উপকূলের সৈকতে মা হতে এসে লাশ হয়ে যাচ্ছে মা কাছিম। কক্সবাজার, সোনাদিয়া, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়াসহ বিভিন্ন উপকূল থেকে প্রায় ২০ হাজার ট্রলার মাছ শিকার করছে গভীর সমুদ্রে। জেলেরা ট্রলার থেকে ভাসাজাল, ডুবাজাল অনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রচালিত ট্রলারসহ প্রায় ৪০ থেকে ৬০ ফুট লম্বা বিহুন্দী ও লাক্ষ্যা জাল পেতে রাখে সাগরতলে।

অপরদিকে হাজার কিলোমিটিার পথ পেরিয়ে সামুদ্রিক কাছিম মা হওয়ার তাড়নায় ছুটে আসে সাগরসৈকতে। কাছিমগুলো যখন সৈকতে এসে পৌঁছায় তখন তারা এক-একটি মস্তকবিহীন লাশ। নিথর দেহ নিয়ে ভেসে আসে জোয়ারের পানিতে। শরীরে তাদের আঘাতের দাগ।

বর্তমানে কমপক্ষে ৫০ হাজার বেহুন্দী জাল রয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন চ্যানেলের জেলেদের কাছে। গভীর সমুদ্রে জেলেদের জালে কাছিম আটকা পড়ে। জেলেরা ঝামেলা এড়াতে তাদের বৈঠা, বাঁশ, কাঠ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করে। সামুদ্রিক কাছিম গবেষক জহিরুল ইসলামের গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি বছর উপক‚লবর্তী এলাকাতে ৬০০-৮০০ মৃত কাছিম সৈকতে ভেসে আসে। আগত পর্যটকরা জানতেও পারেন না, কেন তারা মারা পড়ে? অথচ উপক‚লীয় এলাকায় উন্নয়ন, হোটেল-মোটেলের আলোর ঝলক, প্রবাল ধ্বংস, সৈকত দূষণ কাছিমের বংশবিস্তারে বড় প্রতিবন্ধকতা। সৈকতে আলো জ্বালালে এরা সহজে বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ডিম না দিয়ে ফিরে চলে যায়। কখনো আবার বালুচরে উঠতে না পেরে পানিতে ডিম দিয়ে দেয়। তবে সে ডিমগুলো থেকে কখনো বাচ্চা ফোটে না। মা হওয়ার আকাক্সক্ষা অপূরণ রেখে ফিরে যেতে হয় অন্য জায়গায়।

এখন পর্যন্ত সর্বমোট সাতটি প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম বিশেজ্ঞরা শনাক্ত করেছেন। এরা হলো- অলিভ রিডলে, সবুজ কাছিম, হকসবিল, লগারহেড, লেদারব্যাক, ফ্লাটব্যাক ও ক্যাম্প রিডলে কাছিম। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় এখন পর্যন্ত ৫ প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিমের উপস্থিতি রয়েছে। তবে সামুদ্রিক কাছিম গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মেরিন লাইফ অ্যালায়েন্স’ জানায় এ সংখ্যা কমে বর্তমানে শুধু ‘অলিভ রিডলে’ বালুচরে আসছে।
সামুদ্রিক কাছিমের সঙ্গে স্থলভাগের কাছিমের অনেক অমিল রয়েছে। যেমন এরা মাথা লুকাতে পাড়ে না। এদের পাগুলো সমুদ্রে চলার জন্য সাঁতার উপযোগী। অনেকটা নৌকাতে ব্যবহৃত বৈঠার আকৃতির। একটি সামুদ্রিক কাছিম প্রাপ্তবয়স্ক হতে ২০ থেকে ২৫ বছর সময় লাগে। ওজন ৪০ থেকে ৬০ কেজি হয়।

স্ত্রী কাছিম প্রজাতি ভেদে বছরে তিন থেকে সাতবার ডিম দিয়ে থাকে। শুকনো বালু সরিয়ে ৫০-৬০ সে.মি. বা ১০০-১১০ সে.মি. গভীর কলসি আকারের গর্ত করে ১০০ থেকে ১৫০টি গোলাকার সাদা ডিম দেয়। সামুদ্রিক কাছিমের বাচ্চা প্রাকৃতিক নিয়মে ডিম ফুটে বের হয়ে সমুদ্রে চলে যায়। জীবন বাঁচাতে সাগরে নেমেই টানা ৪৮ ঘণ্টার মতো সাঁতরে গভীর সাগরে যায়। বাচ্চা কাছিম যে সৈকতে জন্মেছিল বয়ঃপ্রাপ্তির পর সে বালুচরেই তারা আবার ডিম দিতে আসে। বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন কীভাবে সাগরের কাছিম নির্দিষ্ট সৈকত খুঁজে নিতে পারে। খাদ্য তালিকায় কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক, জেলিফিশ, সাগর শসা, চিংড়ি, লবস্টার, শেওলা ও সামুদ্রিক ঘাস খেয়ে থাকে।

বর্তমানে সাগরসৈকতে মেরিন লাইফ অ্যালায়েন্স নামের একটি সংস্থা সাগরের কাছিম নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু করেছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় তারা কাছিমের ডিম সংরক্ষণসহ কাছিমের জীবনবৃত্তান্ত উদ্ঘাটন করছে।

বিষয়: