চট্টগ্রামে বিস্ফোরণ: দগ্ধ অর্পিতাকে ঢামেকে ভর্তি

আগের সংবাদ

তৃণমূল নেতাদের প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেবে আ’লীগ

পরের সংবাদ

বিপাকে বাবা-মা

পড়ালেখার জন্য এতোটা মরিয়া প্রতিবন্ধী শিশুটি!

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৭, ২০১৯ , ৮:৩৯ অপরাহ্ণ

পড়াশোনার আগ্রহ আর পরীক্ষা দেয়ার জন্য কোনো শিশু যে এতোটা মরিয়া হতে পারে তার বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত নাটোরের বাগাতিপাড়ার নওশেরা মহল্লার প্রতিবন্ধী মহিবুল। প্রবল আগ্রহের কারণেই বাবা মা তাদের একমাত্র সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করান। উপজেলার ড. এমদাদ খান ও ছেতেরা খান কৃষি ও কারিগরি অর্কা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুটি পড়াশোনা করছে।

এর মধ্যেই রোববার (১৭ নভেম্বর) সারাদেশের মতো বাগাতিপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। তবে সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং অন্যদের মতো স্বাভাবিক আচরণ না করায় শেষ অবধি পিইসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করাননি বাবা মা।

পরীক্ষার সময় বাইরে দাড়িয়ে মাহিবুল ও তার বাবা

তবে বাবা-মায়ের সে সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ মহিবুল। পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। অন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে সে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিদায় অনুষ্ঠানেও অংশ নেয়। এরপর রবিবার পরীক্ষা দিতে পেড়াবাড়ীয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও চলে যায়। তবে পরীক্ষার্থী হিসেবে তার নাম বা রোল নম্বর না থাকায় বিপাকে পড়ে সে।

তারপরেও পরীক্ষা দেয়ার আশায় পুরো আড়াই ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ না পাওয়ায় সে কষ্টে কাঁদতে থাকে। বাবা গিয়ে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলেও সে নড়েনি। অবশেষে পরীক্ষা শেষ হলে সে অন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরে আসে।

পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের বাইরে ড্রেস পরা শিশুটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন অনেকেই। আর শিশুর বাবার অসহায় অবস্থাও দেখেছেন। তবে শিশুটি কিছুতেই সেখান থেকে একচুলও নড়েনি।

পরীক্ষার সময় বাইরে দাঁড়িয়ে মাহিবুল ও তার বাবা

শিশুর বাবা কামরুল আহসান খান জানান, প্রথম পরীক্ষার দিন অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠে। পরীক্ষা দিতে যেতে হবে বলে নিজেকে প্রস্তুত করে। তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাবার জন্য বাবা-মাকে জোর করতে থাকে। অবশেষে সন্তানের আবদার রাখতে তার বাবা তাকে নিয়ে আসেন পরীক্ষা কেন্দ্রে। তবে রেজিস্ট্রেশন না থাকায় সে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে পারেনি। তাই কেন্দ্রের মূল ফটকে অশ্রু ভেজা চোখে পরীক্ষার পুরো আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। সবাই যখন পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল তখন সে তাদের সঙ্গে ফিরে আসে।

কামরুল আহসান আরও জানান, মাহিবুল জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তবে তার লেখাপাড়ার আগ্রহ অনেক বেশি । সে আর দশজন স্বাভাবিক ছেলেদের মতই স্বাভাবিকভাবেই লেখাপড়া শিখতে চায়। চিকিৎসার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, আর্থিক অসংগতির কারণে তার সন্তানের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না।