প্রতি কেজি পেঁয়াজে লাভ ৭৫-৯৩ টাকা!

আগের সংবাদ

চট্টগ্রামের আড়তে এসেছে ১৯৮ টন পেঁয়াজ

পরের সংবাদ

এবার কারণ ছাড়াই বাড়ছে চালের দাম

কাগজ প্রতিবেদক :

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৭, ২০১৯ , ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিত্যপণ্যের বাজারে চলছে দাম বাড়ার খেলা। আর এ খেলায় নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের। প্রায় দেড়মাস ধরে পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমুখী দামে দেশের জনগণ যখন নাকাল, ঠিক তখনই বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হওয়াতে সরকার প্রতিনিয়ত চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। যদিও কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় এই পণ্যটি নিয়ে বছরের পর বছর চালবাজি করে আসছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন সরকার বর্তমানে মোটা চাল ৩৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৮ টাকা করেছে। এমনকি ধানের দামও বাড়িয়েছে। সরকার চালের দাম বাড়ানোর অজুহাতে ব্যবসায়ীরাও চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ঋতুবৈচিত্র্যে হেমন্ত চলে এসেছে। হেমন্ত মানেই নতুন ধানের ঘ্রাণে নবান্ন উৎসব পালন। গতকাল শনিবার ছিল নবান্ন উৎসব। অগ্রহায়ণের নবান্ন নিয়ে আসে খুশির বার্তা। অথচ এ বছর নবান্ন উৎসবে বাড়তি দামে চাল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সব ধরনের চালে কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে খুচরা বাজারে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চালের মোকামগুলোতে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে দাম বাড়ার পেছনে কোনো কোনো ব্যবসায়ী মিলারদের কারসাজিকে দায়ী করছেন। আবার মিলাররা বলছেন, সরকার আমন মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহের ঘোষণা দেয়ায় তাদের বাড়তি দামে ধান কিনতে হচ্ছে। ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
এ দিকে, কৃষকের মাঠে এখন আমন ধান রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক জমিতেই আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে আমন ধানের নতুন চাল বাজারে উঠবে শিগগিরই।
রাজধানীর পুরান ঢাকার বাবুবাজার ও বাদামতলী এলাকার পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে চালের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মোকাম থেকে দাম বাড়িয়ে বিক্রির চাপ থাকায় তারাও বাড়তি দামে চাল বিক্রি করছেন।
বাংলাদেশ অটো রাইসমিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম খান বলেন, নতুন ধান এখনো ওঠেনি। কিছু কিছু ধান যা উঠেছে তা আমাদের রাইসমিলের জন্য পর্যাপ্ত না। তিনি বলেন, বর্তমানে চালের দাম কমই আছে। বুলবুলের প্রভাব চালের বাজারে পড়ার আশঙ্কা নেই। কারণ বন্যা আঘাত হেনেছে দক্ষিণাঞ্চলে। কিন্তু ধানের ফলন নর্থ বেঙ্গলে বেশি হয়। তিনি বলেন, বার বার বলছি দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ রাইসমিল বন্ধ হয়ে আছে। কারণ ব্যাংকের ঋণ পেতে সমস্যা হচ্ছে। চলতি মূলধন না পাওয়ায় দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে রাইসমিলগুলো। এজন্য চালু মিলগুলোর হাতে বাজার চলে গেছে। তারা নতুন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তা কিনে মজুদ করে রাখছে তারা। মজুদ ধান থেকেই এখন চাল তৈরি হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই বলে জানান তিনি।
বাবুবাজারের মেসার্স তাসলিমা রাইস এজেন্সির বাচ্চু মিয়া বলেন, এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি মিনিকেট চালের দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। যা গতকাল শনিবার বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৫ টাকায়। আর ২৮-২৯ টাকার বিআর-২৮ (লতা নামে পরিচিত) গতকাল ৩০-৩৫ টাকায়, ২৮ থেকে ৩০ টাকার বিআর-২৯ গতকাল ৩০-৩১ টাকায় এবং ৫০ থেকে ৫২ টাকার নাজিরশাইল ৫৪-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি গুদামে চালের মজুদ ছিল ১২ লাখ ৩৯ হাজার টন। ওই দিনের হিসাব অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হয় ২৫ থেকে ২৬ টাকা এবং খুচরা বাজারে বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। চলতি আমন মৌসুমে সরকার ছয় লাখ টন ধান কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনছে।