জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল সাম্যসমাজ

আগের সংবাদ

ভারতে অ্যামনেস্টি অফিসে পুলিশি অভিযান

পরের সংবাদ

লন্ডভন্ড শিডিউল, এসএমএস বন্ধ ভোগান্তিতে ট্রেনযাত্রীরা

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৬, ২০১৯ , ৯:১৮ অপরাহ্ণ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রেল দূর্ঘটনার জেরে পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ ট্রেনেরই সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। শনিবার (১৬ নভেম্বর) কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় ২০ টি ট্রেন ২-৯ ঘন্টা পর্যন্ত দেরীতে ছেড়েছে বলে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলের অনেকগুলো ট্রেন ১-৩ ঘন্টা বিলম্বে ছাড়ে বলেও জানা গেছে।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, গতশুক্রবার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটির ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে। কিন্তু ট্রেনটি প্রায় ৬ ঘন্টা দেরীতে সকাল সাড়ে ৬ টায় কমলাপুর ছাড়ে। যাত্রীরা সময়মত ট্রেনস্টেশনে আসলে সারা রাত বাচ্চা ও নারীপুরুষ নির্বিশেষে স্টেশনে অবস্থান করতে বাধ্য হন।

আবার আজ সকাল ৬টা ২০ মিনিটে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটির খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবার কথা থাকলেও ট্রেনটি ১১ টা নাগাদ স্টেশন ত্যাগ করে। আবার রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৫ ঘন্টা দেরীতে ছাড়ে। পরে দুপুর ২ টো ২০ মিনিটের রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি সন্ধ্যে ৬ টায়, চিত্রা এক্সপ্রেসটি ৭ ঘন্টা বিলম্বে, কুড়িগ্রাম এক্সট্রেস ট্রেনটি সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ ঘন্টা বিলম্বে ছাড়ে বলে স্টেশন সূত্রে জানান।

ট্রেন বিলম্বের কারণ হিসেবে স্টেশন মাস্টার এনসি সাহা বলেন, গত মঙ্গলবার উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ কয়েকটি বগিতে আগুন লাগায় ট্রেনটি লাইনচ্যুৎ হয়। সে কারণে সেখানে সিঙ্গেল লাইন দিয়ে ট্রেন পাস করান হচ্ছে। যার ফরে পশ্চিমাঞ্চলগামী অনেক ট্রেন বিলম্বে যাতয়াত করছে। তবে কাল বা পরশু নাগাদ ট্রেন চলাচল সময়ে হবে বলে জানান স্টেশন মাস্টার।

এদিকে গন্তব্য জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের চালু করা এসএমএস সার্ভিস অকেজো হয়ে যাওয়াও আরো বিপদে পড়েন রেলযাত্রীরা। গতকাল সকাল থেকে এসএমএস সার্ভিস কাজ করছিল না বলে অনেক যাত্রীই অভিযোগ করেন। যদিও এসএমএস সার্ভিস নিয়ে স্টেশন মাস্টার জানান এটি সাময়িক ভাবে হয়তো অচল হয়ে পড়ে, যা পরে ঠিক হয়ে যায়।

এদিকে সিল্কসিটিতে রাজশাহী যাবেন বলে কমলাপুরে অপেক্ষারত যাত্রী সীমন্তী জানান, দু’ছেলে মেয়েকে নিয়ে সেই দুপুর দেড়টা নাগাদ স্টেশনে বসে আছি। এসে শুনলাম ট্রেনটি অনেক লেট। কিন্তু কখন ছাড়বে তা কেউ বলতে পারেন নি। এদিকে এস এম এস সার্ভিস কাজ না করায় ট্রেনটির কোন তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। অত:পর ট্রেনটি সন্ধ্যে ৬টা নাগাদ ছেড়ে যায়। আরো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা কুড়িগ্রাম ট্রেনের যাত্রীদের । তারা প্রায় ১০ ঘন্টা কমলাপুরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।

ট্রেনের উপর্যুপরি দুর্ঘটনায় একদিকে যেমন রেল যাত্রীরা মহা শঙ্কায় আছেন, তার ওপর ট্রেনের এহেন সিডিউল বিপর্যয়ে শঙ্কা ও ভোগান্তি চরমে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তারা রেলকতৃপক্ষকে রেলসেবার মান বাড়াতে আরো যত্নবান হবার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত বৃহষ্পতিবার ঢাকা থেকে লালমনিরহাটগামী রংপুর এক্সপ্রেস বেলা ২টায় উল্লাপাড়া রেলস্টেশনে ঢোকার মুখে বগি লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। এতে ইঞ্জিনসহ ৪টি বগিতে আগুন লাগে।

এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত তিনটা নাগাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় মন্দবাগ নামক স্থানে তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে অর্ধশতাধিক যাত্রী।