আশরাফুলকে ছাড়িয়ে মুশফিক

আগের সংবাদ

’বুলবুল’ ঠেকিয়ে ক্ষতবিক্ষত সুন্দরবন

পরের সংবাদ

দলে পরিবর্তনের পক্ষে ডমিঙ্গো

খেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৬, ২০১৯ , ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

মাঠের বাইরে বসে শিষ্যদের উইকেট বিলিয়ে দেয়ায় মহা বিরক্ত টাইগার কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। ১৯ বছর ধরে টেস্ট খেলছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু এখনো টেস্ট ম্যাচ খেলার মেজাজ আয়ত্ত করতে পারেনি টাইগাররা। উইকেটে গিয়ে বাজে শট খেলে উইকেট বিসর্জন দেয়ার পুরনো নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি টাইগার ব্যাটসম্যানরা। ডমিঙ্গো দায়িত্ব নেয়ার পর দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টেই হোঁচট খায় আফগানিস্তানের কাছে হেরে। দুই মাসের ব্যবধানে টেস্টে আরো একটি বিপর্যয় দেখতে হলো টাইগার কোচকে। ইন্দোর টেস্টে ভারতের বিপক্ষে ১৩০ রান ও ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে মুমিনুল বাহিনী। এভারে হার মানতে নারাজ রাসেল ডমিঙ্গো। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন তিনি, আফগানিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে খেলার মধ্য দিয়ে আমার টেস্টে কিছু খেলোয়াড় দেখা হয়েছে। দলের দুর্বলতা কোথায় এবং কী করতে হবে এ সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা পেয়েছি। আশা করি এই পরিবর্তনগুলো করতে পারলে এগিয়ে যেতে পারব।
বাংলাদেশের অনেক তারকা ক্রিকেটারই টেস্ট খেলায় আগ্রহী নন। মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেনরা পাঁচ দিনের ক্রিকেট খেলতে চান না। এক বছরের নিষেধাজ্ঞায় পড়া সাকিব আল হাসানেরও টেস্টে আগ্রহ কম। পেস বোলারদের মধ্যে বেশিরভাগই পরিশ্রমের ক্রিকেট খেলতে রাজি নন। এই জঞ্জাল উপড়ে ফেলতে দ্বিধা করবেন না ডমিঙ্গো। তিনি জানান, নির্বাচকদের সঙ্গে বসে নতুন করে দল গোছাবেন, কোনো সন্দেহ নেই দলের কাঠামো পরিবর্তন আনতে হবে। সেটা না করলে হারতেই থাকব। নির্বাচকদের সঙ্গে বসে আমাকে ঠিক করতে হবে কীভাবে এগিয়ে যেতে পারি। দল এগিয়ে নিতে পারে এমন খেলোয়াড় বাছাই করতে হবে। এর মানে যদি হয়, কয়েকটি নতুন মুখ নিয়ে আমরা কিছুদিন ধুঁকব তাতেও সমস্যা নেই।
টাইগারদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বিরাট কোহলি ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, তিন পেসার নিয়েই খেলবেন ইন্দোর টেস্ট। ভারত অধিনায়ক কথার নড়চড় করেননি। ম্যাচের আগের দিন বিসিবির প্রধান নির্বাচক নান্নুকে দেয়া হয়েছিল এই বার্তা। তিন পেসার খেলানোর গুরুত্বটা তখন তিনি হয়তো বুঝতে পারেননি। তাই বলেছিলেন, মানসম্পন্ন পেস বোলার কোথায় যে তিনজন খেলাব। আর ভারত তো তিন পেসার নিয়ে বহু বছর ধরেই খেলে। ওদের মতো মানসম্পন্ন পেসার তো আমাদের নেই।
টেস্ট স্কোয়াডে পেসার আছে চারজন- আবু জায়েদ রাহি, ইবাদত হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান। খেলছেন ইবাদত ও রাহি। তৃতীয় পেসার আল আমিনকে নেয়া যেতেই পারত। টি-টিায়েন্টি সিরিজে দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। ভারতের কন্ডিশনটাও ভালো বুঝে গেছেন। ক্যাম্পে যোগ দেয়ার আগে জাতীয় লিগেও দারুণ বোলিং করেছিলেন তিনি। টেস্ট একাদশে থাকলে সুইং ডেলিভারি দিয়ে ভালো কিছু স্পেল করতে পারতেন এ ডানহাতি পেসার। বোলার পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সুবিধা পেতেন অধিনায়ক। রাহির সাফল্যই প্রমাণ করে আল আমিনও ভালো করতেন। তাকে না খেলিয়ে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোরা কি ভুল করলেন?
ভারতের মতো দলের বিপক্ষে একজন ব্যাটসম্যান বেশি খেলালে ম্যাচ জিতে যাবে তা তো নয়। খেলাটা যে টেস্ট এবং প্রতিপক্ষ ভারত ম্যানেজমেন্ট এই তথ্য ভুলে গিয়েছিল কিনা কে জানে। নান্নু স্বীকার করলেন একজন পেস বোলার কম নেয়া কতটা ক্ষতি হলো দলের, এখন তো মনে হচ্ছে তিনজন পেস বোলার খেলাতে হতো। সমস্যা হচ্ছে, তিন পেসার খেলালে ব্যাটসম্যান কমে যায়। আমাদের শক্তির জায়গা তো ব্যাটিং। একজন স্পিন অলরাউন্ডার থাকলেও পেস বোলার বাড়াতে পারতাম। খুব দরকার ছিল একজন পেস বোলার। অতীতে ভুল থেকে শিক্ষা না নিলেও এবার ইডেন টেস্ট মাঠে নামার আগে নিশ্চয় ভুল শোধরে মাঠে নামবে টাইগাররা।