ইমার্জিং কাপে ভারতকে হারাল টাইগাররা

আগের সংবাদ

আশরাফুলকে ছাড়িয়ে মুশফিক

পরের সংবাদ

টাইগারদের লজ্জায় ডোবাল ভারত

খেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৬, ২০১৯ , ১০:৩২ অপরাহ্ণ

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ এমনিতেই পাওয়া যায় না। আবার তাদের মাটিতে হলে তো কথাই নেই। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সুবাদে ২০১৭ সালের পর আবার ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। তবে ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে তিন দিনের মধ্যেই ভারতের বিপক্ষে লজ্জাজনক হার মেনে নিতে হয়েছে টাইগারদের। ম্যাচটি এক ইনিংস ও ১৩০ রানের বিশাল জয় পেয়েছে রবি শাস্ত্রীর শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা পাঁচ ম্যাচের পাঁচটিতেই জয় তুলে নিল ভারত। আর অন্যদিকে বাংলাদেশ তার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করল বড় হার দিয়ে। ম্যাচটিতে মুশফিকদের হারিয়ে দিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল আর নয় নম্বর দলের পার্থক্যটা যেন বুঝিয়ে দিল কোহলিরা।
এই ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের ১১৬তম টেস্ট। আর এই ম্যাচগুলো খেলে ৪১ বারই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। আর ভারতের বিপক্ষে দশ ম্যাচ খেলে এনিয়ে চতুর্থবারের মতো ইনিংস ব্যবধানে হারল টাইগাররা।
বাংলাদেশকে ম্যাচটিতে হারিয়ে অধিনায়ক হিসেবে দশম ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিরাট কোহলি। বিরাটের আগে সর্বোচ্চ ৯টি টেস্টে ভারতকে ইনিংস ব্যবধানে জিতিয়েছিলেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি।
ম্যাচের প্রথম দিনের কিছু সময় ও দ্বিতীয় দিন পুরো ব্যাট করে ভারত তাদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৯৩ রান সংগ্রহ করে। আর বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে সবগুলো উইকেট হারিয়ে করেছিল ১৫০ রান। শনিবার (১৬ নভেম্বর) তৃতীয় দিন আর ব্যাটিংয়ে নামেনি ভারত। ইনিংস ঘোষণা করে দিনের প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে দেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে পুরোপুরি প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তি করেন দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও ইমরুল কায়েস। দুজনই আউট হন ৬ রান করে। প্রথম ইনিংসেও দুজনে ৬ রান করে করেছিলেন। এরপর অন্যরা যারা ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তারা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। তবে শামির বলে জীবন পেয়ে সেটিকে ৬৪ রান পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হন মুশফিক। এক মুশফিক ছাড়া পুরো ব্যাটিং ইউনিটেই দেখা গেছে পুরনো সমস্যা- টেকনিকের অভাব। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ফলে তিন দিন শেষ হওয়ার আগেই ইনিংস ও ১৩০ রানের জয় পেয়ে যায় ভারত।
ম্যাচটি যে তিন দিন খেলা হয়েছে সেই তিন দিনই ব্যাটে-বলে সব দিক দিয়ে শাসন করেছে ভারত। বিশেষ করে তিন পেসার ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব ও মোহাম্মদ শামির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা। বাংলাদেশের ২০ উইকেটের ১৪টিই তুলে নেন তারা। ম্যাচটিতে ভারতের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে চারটি উইকেট তুলে নিয়েছেন মোহাম্মদ শামি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেতে ভারতীয় পেসাররাই সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন। তাই ম্যাচ শেষে তিন পেসারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন অধিনায়ক কোহলি। দলের পেস আক্রমণকে ড্রিম কম্বিনেশন হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি। কোহলি বলেন, ওরা এমন বোলার। যে পিচেই খেলা হোক না কেন উইকেট তুলে নিবে। যে কোনো সেশনে উইকেট তুলে নিবে। জাসপ্রিত বুমরাহ এখন দলে নেই। ও দলে যোগ দিলে বোলিং সাইড আরো বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে এই হারের জন্য নিয়মিত টেস্ট না খেলার কারণকে দুষছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুমিনুল হক। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত ৭/৮ মাসে আমরা মাত্র একটি বা দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। ভালো করতে হলে আমাদের আরো বেশি টেস্ট খেলতে হবে’। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দল হিসেবে ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। যদিও মুশফিক, ‘লিটন আর মেহেদী ভালো ব্যাটিং করেছে’। তা ছাড়া ভারতীয় বোলারদের কাছ থেকে শেখার আছে বলেও মনে করেন অধিনায়ক। মুমিনুল বলেন, ‘তারা (বোলাররা) কীভাবে নতুন বলকে কাজে লাগায় সেটি আমাদের শেখার আছে’। তবে এই টেস্টের ফলাফলকে ভুলে এখন কলকাতা টেস্টের দিকে মনোযোগ দিতে চান মুমিনুল।