বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থা নাজুক

আগের সংবাদ

২০ টন পচা পেঁয়াজ ডাস্টবিনে

পরের সংবাদ

‘আমার জীবনে কোনো অপ্রাপ্তি নেই’

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৬, ২০১৯ , ১২:১৪ অপরাহ্ণ

বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি রুনা লায়লা। আগামীকাল ১৭ নভেম্বর তিনি পা রাখবেন ৬৭ বসন্তে। এ ছাড়াও ‘একটি সিনেমার গল্প’ সিনেমার গানে সুরারোপ করার জন্য এবারই প্রথম সুরকার হিসেবে অর্জন করলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। জন্মদিনের আয়োজন ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন প্রসঙ্গে কথা হয় রুনা লায়লার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার- শাকিল মাহমুদ

জীবনের ৬৬ বসন্ত পেরিয়ে গেল। এবারের জন্মদিন নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। নিজেদের মধ্যেই জন্মদিন পালন করা হবে। পরিবার ও কাছের মানুষজন থাকবে। আর সঙ্গে আমার শ্রোতাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ তো আছেই। আসলে আমি মনে করি জীবনের হিসাবে বয়সটা নিছকই একটা সংখ্যা মাত্র। আমি মনে প্রাণে চির নবীন। আনন্দে বাঁচি, উল্লাসে বাঁচি।
ছোটবেলার জন্মদিনকে ঘিরে উল্লেখযোগ্য স্মৃতির গল্প যদি শোনাতেন…
জন্মদিনকে ঘিরে সবার মতোই আমারও একই রকম স্মৃতি। প্রতিবারই জন্মদিনে নতুন জামা, নতুন জুতো পেতাম। ক’দিন আগে থেকেই একটা প্রতীক্ষা থাকত কখন পাব, কখন পরব! ছোটবেলায় জন্মদিন এলেই মা নিজের হাতে জামা বানিয়ে দিতেন। তারপর একটু বড় হলে বড়বোন বানিয়ে দিতেন। তাদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি এই উপহারটা মিস করি। এ ছাড়াও জন্মদিনে মা রান্না করতেন। আমরা পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করতাম।
এবারের জন্মদিনে ভারতীয় টিভি স্টার জলসার একটি নাটকের বিশেষ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। কেমন ছিল সেই আয়োজন?
৭ নভেম্বর দিনব্যাপী টালিগঞ্জের একটি স্টুডিওতে ‘কে আপন কে পর’ নামে এ ধারাবাহিকের বিশেষ পর্বের দৃশ্য ধারণ করা হয়। আমার জন্মদিন ঘিরে, আমাকে নিয়ে বিশেষ এ আয়োজনের জন্য স্টার জলসা এবং এ ধারাবাহিকের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। এমন একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক প্রচারের সময়কালে আমারই জন্মদিনে আমার উপস্থিতির বিষয়টি আমার জন্য অনেক ভালোলাগার। ১৭ নভেম্বর আমার জন্মদিনেই স্টার জলসায় রাত ১০টায় বিশেষ এ পর্বটি প্রচার হবে।

৫৩ বছরের দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে প্রথমবার কোনো গানের সুর করেছেন। সেই গানের জন্যই সুরকার হিসেবে পেলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অনুভূতি জানতে চাই
ভীষণ ভালো লাগছে। এর আগে কখনো গানে সুর করা হয়নি। প্রথমবার সুর করলাম, তাও সিনেমার জন্য। সুর করতে পারব কখনো চিন্তাও করিনি। হঠাৎ করেই করা হলো এবং পরবর্তী সময়ে সেটা আলমগীর সাহেবের ছবিতে ব্যবহার করা হলো। তবে গানটিতে সুর করার জন্য সুরকার হিসেবে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র’ পুরস্কার পাব এটা কখনো ভাবিনি। তবে পেয়েছি বলে ভালো লাগছে, উৎসাহ পাচ্ছি সামনে আরো কাজ করার।

গানটিতে সুর করতে গিয়ে কোনো ঘটনা আছে, যা ভাবলেই অন্যরকম এক অনুভূতি হয়?
হয়তো আমি সুরটা করতাম না। আঁখি একদিন বলল যে, ‘আন্টি আপনি তো অনেক বছর ধরে অনেক রকম গান করছেন এবার আমার জন্য একটি সুর করে দিন।’ আমি তখন আঁখিকে বললাম, ‘সুর করা তো অনেক কঠিন ব্যাপার। গান গাওয়া একরকম সুর করা আরেক রকম। আর আমি তো কখনো সুর করিনি। জানি না পারব কিনা! তবে দেখি।’ একদিন হঠাৎ করে সুরটা মাথায় এল। সেটা রেকর্ড করে আলমগীর সাহেবকে শোনালাম। শুনে উনি কিছুই বললেন না। ভাবলাম, বোধহয় পছন্দ হয়নি। তবে দু/তিনদিন পরে তিনি জিজ্ঞেস করলেন বাকি অংশটা সুর করেছি কিনা! আমি বললাম, না। তুমি মুখরা শুনে কোনো কিছু বললে না। এ জন্য ভাবলাম ভালো হয়নি। তাই বাকিটা নিয়ে কিছু করিনি। পরে আলমগীর বললেন, ‘তুমি অন্তরাটা সুর করো।’ তারপর আমি অন্তরাটা সুর করে আবার তাকে শোনালাম। তিনি শুনে বললেন, ‘আমার সিনেমায় একটি দৃশ্য আছে সেখানে এই গানটি ব্যবহার করতে চাই।’ তবে আলমগীর চাইছিল গানটি আমাকে গাইতে হবে। কিন্তু আঁখির কথা মাথায় রেখে যেহেতু সুর করেছি তাই আমি বললাম, গানটি আঁখি করবে। এরপর আঁখির সঙ্গে বসে সুরটা তুলে দিলাম। তবে গানটার জন্য আঁখি খুব খেটেছে। আমি একটা অনুষ্ঠানে মুম্বাই গেলাম, আঁখিও সঙ্গে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে সুযোগ পেলেই গানটা নিয়ে প্র্যাকটিস করত। তারপর কলকাতায় গানটি গিয়ে রেকর্ড করা হলো। এখন আঁখিও গানটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেল আমিও পেলাম।

অন্য কোনো পরিচালকের ছবিতে যদি সুরকার হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হয়, করবেন?
এটা আসলে সময়ের ওপর নির্ভর করে। আমার কিন্তু বছরজুড়েই নানা ধরনের ব্যস্ততা থাকে। আমার ব্যস্ততাকে মেনে নিয়ে কেউ যদি কাজ করতে আগ্রহী হয় তাহলে অবশ্যই করব। আবার এটাও সত্যি যে, আমি যেভাবে চাইব পরিচালকের যদি তাতে আপত্তি থাকে তাহলে করা কঠিন হয়ে যাবে।
এ কারণেই আমাকে কাজে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। পূর্ণ স্বাধীনতা যদি না দেয়া হয় তাহলে কাজ করে তৃপ্ত থাকা যায় না। প্রথম ছবিতে কাজ করতে গিয়ে আমি সেই পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছি। যে কারণে একটি ভালো সুরের গান বেরিয়ে এসেছে।

মাঝে অভিনয়ও করেছিলেন। আবার দেখা যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি?
অভিনয়ে আর দেখা যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রয়াত চাষী নজরুল ইসলামের ‘শিল্পী’ ছবিতে অভিনয় করেছিলাম। এরপর আর কোনোভাবেই অভিনয়ে আগ্রহ জন্মায়নি। তবে আমার নিজের সুর করা ‘ফেরাতে পারিনি’ গানে প্রথমবার আয়োজন করেই মডেল হিসেবে উপস্থিত হয়েছি। এটি নির্মাণ করেছে শাহরিয়ার পলক। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল। সঙ্গীতায়োজন করেছেন রাজা কাশ্যফ। আজ ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে গানটি প্রকাশ হওয়ার কথা।
পরিবারের কাউকে ঘিরে কোনো স্মৃতি আছে যা আপনাকে মাঝে মাঝে আবেগ আপ্লুত করে তোলে?
স্মৃতি তো অনেক আছে। তবে যখন বড় কোনো কাজ করি বা এই যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলাম এমন মুহূর্তে আমার বাবা-মা আর বড়বোনের কথা খুব মনে পড়ে। তারা আমাকে অনেক সাপোর্ট করত, আমাকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করত। তো ওরা নেই এখন, যার ফলে ওদের শূন্যতা খুব অনুভব করি। ওরা থাকলে আজকে আমার এই আনন্দে আরো বেশি আনন্দ পেতাম। আমার সফলতায় ওরা অনেক খুশি হতো।

শিল্পীদের অনেকেই সঙ্গীত নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করছেন। আপনার এমন কোনো পরিকল্পনা আছে?
আমি মূলত একজন শিল্পী। এখনো নিজেই নিজের গান নিয়ে ব্যস্ততা থাকে। এখনো প্লেব্যাক করতে পছন্দ করি, কনসার্টে গাইতে ভালোবাসি। আপাতত সঙ্গীত নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তেমন কোনো কাজ করার ইচ্ছে নেই।

জীবনের এত এত প্রাপ্তির ভিড়ে কোনো অপ্রাপ্তি আছে কি?
আমার জীবনে কোনো অপ্রাপ্তি নেই। আমি এখন পর্যন্ত যা পেয়েছি, যতটুকু পেয়েছি আমি মনে করি অনেক বেশি পেয়েছি। মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা, যে শ্রদ্ধা পেয়েছি তা আমার কাছে পুরস্কারের চেয়েও অনেক বড়।
শুধু দেশেই নয় দেশের বাইরেও যখন যাই তখন যে ভালোবাসা পাই তা দেখে আমি মাঝে মাঝে বিস্মিত হই, মুগ্ধ হই।

বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই…
বর্তমানে কিছু গান সুর করেছি। সেগুলো রিলিজ হবে, তবে এখনই তা নিয়ে কিছু বলছি না। তাছাড়া স্টেজ পারফরমেন্স তো রয়েছেই।