শুরুটা ভালো হলো না টাইগারদের

আগের সংবাদ

বঙ্গমাতা ভলিবলে চ্যাম্পিয়নশিপ নেপাল

পরের সংবাদ

অভিষেকে চতুর্থ মুমিনুল

খেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৪, ২০১৯ , ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

টেস্ট খেলুড়ে ১২ দেশের মধ্যে ৯টি দেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। বাকি ৮টি দেশের প্রায় সবাই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করে দিয়েছে ইতোমধ্যে। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) ইন্দোর হলকায় ভারতের বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের। শুধু কী বাংলাদেশ ? এ ম্যাচের মধ্য দিয়ে টাইগারদের ১১তম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয়েছে মুমিনুল হকের। ২০০০ সালে নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের হাত ধরে টেস্টে যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। এরপর খালেদ মাসুদ পাইলট, খালেদ মাহমুদ সুজন, হাবিবুল বাশার সুমন, মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আগের দশ অধিনায়ক অভিষেক ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে কত রান করেছিলেন তা নিয়ে আমাদের আজকের এ প্রতিবেদন। বৃহস্পতিবার ভারতের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন মুমিনুল হক। কোহলি বাহিনীর বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ১৫০ রানে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যদের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায়। অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৮০ বল মোকাবেলা করে ৩৭ রান করেন মুমিনুল। এ রান করার পথে ৬টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন তিনি। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচে নাইমুর রহমান দুর্জয় প্রথম ইনিংসে ১৫ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ রান করেছিলেন। বল হাতে ১৫৬ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৮৩ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ২৮ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। ২০১১ সালে মুশফিকুর রহিম শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৬৮ রানের চমৎকার ইনিংস খেললেও দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আউট হয়েছিলেন ২ রানে। অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচে ২০০৯ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজা ওয়েস্ট উন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৩৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ডাক মেরেছিলেন। ব্যাট হাতে অভিষেক ম্যাচের প্রথম ইনিংসে সফল ব্যাটসম্যান হলেন মাহমুদউল্লাহ, দ্বিতীয় মুশফিক তৃতীয় মাশরাফি আর চতুর্থ হলেন মুমিনুল। এবার আসা যাক অন্য অধিনায়ক প্রসঙ্গে। ২০০১ সালে খালেদ মাসুদ পাইলটের কাঁধে বাংলাদেশ টেস্ট দলের দায়িত্ব অর্পিত হয়। অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসেই ৬ রান করে ১২ রান করেছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে আবির্ভাব ঘটে খালেদ মাহমুদ সুজনের। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রান করেছিলেন।

২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে হাবিবুল বাশার সুমনের। ওই ম্যাচে তিনি দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে মোহাম্মদ আশরাফুলের। প্রথম ইনিংসে ৬ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭ রান করেছিলেন অ্যাশ। মুমিনুল হকের সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন তিনি। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাকিব আল হাসানের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে। ওই টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১৬ রানে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৬ রানে নান্দনিক ইনিংস খেলেছিলেন সাকিব। বল হাতে প্রথম ইনিংসে ৫৯ রানে ৩ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৭০ রানে তুলে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অধিনায়ক অভিষেক ঘটে তামিম ইকবালের। ওই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ রান করেছিলেন।
ঘটনাচক্রে ভারত সফরের আগে নতুন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মুমিনুল হকের নাম ঘোষণা করতে হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে না জড়িয়েও শুধু তথ্য না দেয়ার অপরাধে এক বছর নিষিদ্ধ সাকিব আল হাসান। সে কারণেই বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক এক মুমিনুল হক। ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক ঘটে মুমিনুলের। এরপর খেলেছেন ৩৭টি টেস্ট ম্যাচ। এ নিয়ে খেলতে নামলেন ৩৭তম টেস্ট। আগের ৩৬ টেস্টে ৪১.৪৭ গড়ে রান করেছেন ২৬১৩। সেঞ্চুরি ৮টি, হাফ সেঞ্চুরি ১৩টি। সর্বোচ্চ রান ১৮১।