বাঁকে ইটের স্তূপ, সিগন্যাল দেখতে পাননি তূর্ণার চালক

আগের সংবাদ

আশুগঞ্জে বন্দুক যুদ্ধে ডাকাত নিহত 

পরের সংবাদ

হবিগঞ্জ-চাঁদপুরে শোকের মাতম

সৈয়দ রিয়াজ আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মো. সোলেমান খান, কসবা :

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৩, ২০১৯ , ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগ স্টেশনে সোমবার গভীর রাতে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের সঙ্গে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেসের এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরো শতাধিক নারী-পুরুষ। হতাহত সবাই উদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রী বলে জানা গেছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের শনাক্ত করতে ৫টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে এ ট্রেন দুর্ঘটনায় হবিগঞ্জের ৮ জন এবং চাঁদপুরের ৫ জন নিহত হওয়ায় ওই দুটি জেলায় চলছে শোকের মাতম। নিহত অন্য ৩ জনের মধ্যে দুজন মৌলভীবাজার ও নোয়াখালীর বাসিন্দা। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে সহযোগিতা দেয়া হয়েছে।
যেভাবে দুর্ঘটনা : রেলওয়ে স্টেশন, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ত‚র্ণা নিশীথা সোমবার রাত ২টা ৪৮ মিনিটে শশীদল স্টেশন অতিক্রম করে মন্দভাগ স্টেশনের দিকে রওনা করে। মন্দভাগ স্টেশন মাস্টার ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশের আগেই আউটারে থামার জন্য লালবাতি জালিয়ে সংকেত দেন। অন্যদিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা উদয়ন এক্সপ্রেস কসবা স্টেশন ছেড়ে মন্দভাগ স্টেশনে প্রবেশকালে স্টেশন মাস্টার তাকে মেইন লাইন ছেড়ে ১ নম্বর লাইনে আসার সংকেত দেন। উদয়ন এক্সপ্রেসের চালক ১ নম্বর লাইনে প্রবেশ করার সময় ছয়টি বগি প্রধান লাইনে থাকতেই বিপরীত দিক থেকে আসা ত‚র্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল (সংকেত) অমান্য করে দ্রুতগতিতে ট্রেন চালান। এ সময় উদয়ন এক্সপ্রেসের মাঝামাঝি তিনটি বগির সঙ্গে তূর্ণা নিশীথার ইঞ্জিনের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি বগিই দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ১৬ জন যাত্রী নিহত এবং শতাধিক যাত্রী আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পঙ্গু হাসপাতাল ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. জাকের হোসেন চৌধুরী বলেন, তূর্ণা নিশীথাকে আউটারে মেইন লাইনে থামার এবং উদয়নকে মেইন লাইন থেকে ১নং লাইনে আসার সংকেত দেয়া হয়েছিল। সেই হিসেবে উদয়ন ট্রেন ১ নম্বর লাইনে প্রবেশ করছিল। এ সময় তূর্ণা নিশীথার চালক সংকেত অমান্য করে উদয়ন ট্রেনের ওপর উঠে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়।
নিহত হলেন যারা : হবিগঞ্জ শহরতলির বড় বহুলা গ্রামের আলমগীর আলমের ছেলে ইয়াছিন আলম (১২), আনোয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা জেলা ছাত্রদল সহসভাপতি আলী মোহাম্মদ ইউসুফ (৩২), বানিয়াচং উপজেলার তাম্বুলিটুলা গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে আদিবা আক্তার (২) ও সোহামনি (৩), মদনমুরত গ্রামের আল-আমিন (৩০), চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা গ্রামের পশ্চিম তালুকদার বাড়ির ফটিক মিয়া তালুকদারের ছেলে রুবেল মিয়া তালুকদার (২৫), মিরাশী ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের আবুল হাসিম মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (৩০) এবং আহমদাবাদ গ্রামের পেয়ারা বেগম (৬৫), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রাজারগাঁওয়ের আবদুল জলিলের ছেলে মজিবুর রহমান (৫৫) ও তার স্ত্রী কুলসুম বেগম (৩০), হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ ঈশানপুরের মঈন উদ্দিনের স্ত্রী কাকলী (২০), জাহাঙ্গীরের মেয়ে মরিয়ম বেগম (৬) এবং সদর উপজেলার উত্তর বালিয়ার বিল্লাল মিয়াজির মেয়ে ফারজানা আক্তার (১৫), নোয়াখালীর মাইজদীর রবি হরিজন (২৩), মৌলভীবাজারের জাহেদা খাতুন (৩০) এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের একজন।
আহত যারা : আহতদের মধ্যে সুমী (২১), আবুল কাসেম (৪০), মনির (৪০), রাকিব (২৮), হাসান আলী (৭০), দুলাল মিয়া (৬৫), মঈন মিয়া (৩৫), হাফসা (১৪), আসমা (২৪), আশিক (৩২), বোরহান (৪০), আসমা বেগম (২৫), নাজমা (৩০), অজ্ঞাত (৩০) রাজন (২৮), রাহুল (১), জনি (২৪), অজ্ঞাত (৩০), অলিউল্লাহ (৩৬), আলমগীর (৪০), মুখলেস (৪৩), জজ মিয়া (২৬), মীম (৭), রাহিমা (৪৫), অজ্ঞাত (৪), লোকমান (২২), রুবেল (৩৫), আনোয়ার (৩৩), সুব্রত (৪৫), সুরাইয়া খাতুন (৬০), তারা হরিজন (৬৫), ইমন (১৮), সৈকত (৩৫), রায়হান (২০), সাহিদা (৪৫), রেনু (৩৫) এবং আবুল কালামকে (৩৫) প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের অধিকাংশকেই ঢাকা মেডিকেল, ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. শওকত হোসেন বলেন, আহতদের বেশির ভাগেরই হাত-পা ভাঙা, অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তাদের ঢাকা ও সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
৫ তদন্ত কমিটি : রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বেলা ১১টায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে চালক সিগন্যাল অমান্য করায় অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা ঘটে। এরপরও আমরা রেল মন্ত্রণালয়ে ২টি, রেলওয়ে বিভাগ ২টি ও জেলা প্রশাসক ১টিসহ মোট ৫টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এ বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে ত‚র্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক, সহকারী চালকসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। তিনি আরো বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। আর আহতদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।
হবিগঞ্জে শোকের মাতম : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৮ জনই হবিগঞ্জের বাসিন্দা। প্রিয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহত আল-আমিনের চাচা বানিয়াচংয়ের বড়ইউড়ি ইপির সাবেক মেম্বার কুতুব উদ্দিন জানান, আল-আমিন চট্টগ্রামে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। ১৯ দিন আগে তার এক ছেলের জন্ম হয়। ছেলের নাম রাখতে তিনি সম্প্রতি বাড়িতে আসেন। একমাত্র ছেলের নাম রাখেন ইয়ামিন। রনিহা (৬) ও নুছরা (৮) নামে তার আরো দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলের নাম রেখে চাচা মনু মিয়া ও ফুফাতো ভাই শামীমকে নিয়ে সোমবার রাতে উদয়ন ট্রেনে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। রেল দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। অপর দুজন গুরুতর আহত হন। নিহত আল-আমিনের কোনো ভাই-বোন নেই। অনেক আগেই মারা গেছেন মা-বাবাও।
বানিয়াচং উপজেলার তাম্বুলিটুলা গ্রামের সোহেল মিয়া জানান, তিনি ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম চট্টগ্রামের একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার তারা বাড়ি আসেন। সোমবার স্ত্রী ও ২ সন্তানকে নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। পথে ট্রেন দুর্ঘটনায় আড়াই বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে আদিবা আক্তার সোহা মারা যায়। আহত হন তিনি, তার স্ত্রী ও সাড়ে ৪ বছর বয়সী ছেলে নাছির। তারা এখন ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শহরের আনোয়ারপুর গ্রামের আব্দুল আহাদ জানান, তার চাচাতো ভাই আলী মোহাম্মদ ইউসুফ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী চিশতিয়া বেগম চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কর্মরত। স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে ইশা আক্তারকে বাড়িতে আনার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন। ট্রেন দুর্ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
শহরতলির বড়বহুলা গ্রামের আলমগীর আলমের ছেলে ইয়াছিন আলম বাবার সঙ্গে চট্টগ্রামে যাচ্ছিল সাগর ও দর্শনীয় স্থান দেখতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় সে মারা যায়। আহত হন তার বাবা পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর আলম। নিহত ইয়াছিন স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। সে স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য ছিল। ছেলেকে হারিয়ে তার মা হাসিনা আক্তার বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।
চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা গ্রামের ফটিক মিয়া তালুকদারের ছেলে রুবেল মিয়া তালুকদার স্থানীয় শানখলা মাদ্রাসার দাখিল শ্রেণির ছাত্র। বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়ানোর উদ্দেশে যাচ্ছিল সে। ট্রেন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর খবরে পরিবারসহ পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একই উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের সুজন মিয়া চাকরির ইন্টারভিউ দিতে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। সরকারি বৃন্দাবন কলেজে অনার্সে পড়ার পাশাপাশি হবিগঞ্জ আদালতে মোহরার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। আর চুনারুঘাট উপজেলার আহমদাবাদ ইউনিয়নের ছয়শ্রী গ্রামের আব্দুস সালামের স্ত্রী পেয়ারা বেগম সোমবার রাতে একাই বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। কিন্তু সুজনের আর চাকরির ইন্টারভিউ দেয়া হয়নি, পেয়ারা বেগমও পৌঁছাননি বাবার বাড়ি।
চাঁদপুরে কান্নার রোল : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় নিজের বাড়িতে ফেরার কথা ছিল মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুম বেগম (৪২) দম্পতির। এ জন্য সোমবার রাতে ট্রেনে করে চাঁদপুরে আসছিলেন। কিন্তু পথে দুর্ঘটনায় মারা যান তারা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাজীগঞ্জ উপজেলায় মজিবুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিন ছেলেসহ স্বজনরা আহাজারি করছেন। তাদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে ওই গ্রামের বাতাস। জানা গেছে, নিহত মজিবুর রহমান স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে সিলেটের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বসবাস করতেন। সেখানে কসমেটিকস পণ্যের ব্যবসা করতেন তিনি।
এদিকে একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের এসএসসি পরীক্ষার্থী ফারজানা আক্তার। তার বড় বোন শামু বেগম জানান, গত ৬ অক্টোবর খালাত বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সাত সদস্যের সঙ্গে সিলেট যায় ফারজানা। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মা বেবী বেগম ও ভাই ইউসুফ এই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের বাবা বিল্লাল হোসেন বেপারী কুয়েত প্রবাসী।
৮ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ চালু : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালী ও নোয়াখালী-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আখাউড়া ও লাকসাম থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শেষ করে দুর্ঘটনাকবলিত বগি সরানোর পর গতকাল বেলা ১১টার দিকে এই দুই রুটে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রায় আট ঘণ্টা এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটের ট্রেনের সূচিতে বিঘ্ন ঘটে, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে কোনো ট্রেনের যাত্রা বাতিল হয়নি বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, লাইন সংস্কারের কাজ শেষে চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা ও সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত উদয়ন এক্সপ্রেস সামনের দিকের অক্ষত নয়টি বগি নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছায়। আর মূল লাইন মেরামত শেষে বেলা ১১টার দিকে তূর্ণা নিশীথা ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তূর্ণা নিশীথার ইঞ্জিন সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বগিতে তেমন ক্ষতি হয়নি। আরেকটি ইঞ্জিন লাগিয়ে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।