আশুগঞ্জে বন্দুক যুদ্ধে ডাকাত নিহত 

আগের সংবাদ

অনুমতিহীন ব্যাংক হিসাবে অবৈধ অর্থ ছাড়

পরের সংবাদ

চার কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা

কাগজ প্রতিবেদক :

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৩, ২০১৯ , ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

দুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না রেলের। গড়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহে দুটি করে দুর্ঘটনা ঘটেছে গত ১০ বছরে। গত ১০ বছরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে প্রায় ৪০০ জনের। সে হিসাবে বছরে প্রাণ যাচ্ছে ৩৭ জনের। চালক ও গার্ডের কর্তব্যে অবহেলা এবং ভুল সিগন্যালের কারণে রেলওয়ের ৫০ শতাংশেরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাকিটা লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত থাকার ফলে। এ ছাড়া কর্তাব্যক্তিরা নতুন প্রকল্প নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। চলমান রেললাইন সংস্কারে তাদের নজর নেই।
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, রেললাইনের সঠিক যত্ন নেয়া হচ্ছে না। নেই সঠিক মনিটরিং। কিন্তু ৫০-৬০টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে রেলওয়ে। রেলের কর্মকর্তারা নতুন প্রকল্পের বিষয়ে যতটা আগ্রহী পুরাতন প্রকল্পে ততটা অনাগ্রহী। এ ছাড়া রয়েছে চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও ড্রাইভার, যাদের দায়বদ্ধতা নেই। আবার অনেক নতুন চালকই সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত না। এ ছাড়া শতবর্ষী মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন-কোচ, জরাজীর্ণ লাইন, সেই সঙ্গে রেল পার্টিতে নেই পাথর, নেই ফিসপ্লেট, নাট-বল্টু খোলা ইত্যাদিও রেল দুর্ঘটনার কারণ। তা ছাড়া মান্ধাতার আমলের সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও শতবর্ষী কালভার্ট-ব্রিজের উপর দিয়ে চলছে ট্রেন। যার ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের সাবেক এক মহাপরিচালক জানান, গত কয়েক বছর রেলের দুর্ঘটনা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। এ জন্য সুষ্ঠু মনিটরিংয়ের অভাব এবং রেলওয়ের সব শ্রেণির কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেন তিনি। এ ছাড়া নতুন রেল প্রকল্প নিয়ে কর্মকর্তাদের মাতামাতি বেশি, সে কারণে পুরাতন রেল লাইন সংস্কারহীনতা, রেলপার্টি, ইঞ্জিন ও কোচের যথাযথ পর্যবেক্ষণে রেলওয়ে ততটা মনোযোগী নয়। একই মত দিয়ে রেলওয়ের সাবেক একজন জি এম জানান, দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না করা, দোষীদের শাস্তি না দেয়ার ফলে রেলের সব ক্ষেত্রেই দায়িত্বহীনতা প্রকট হয়ে পড়েছে।
রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়া জাহান জানান, শুধু লাইন জরাজীর্ণের কারণে নয়, মুখোমুখি সংঘর্ষ, লাইনচ্যুত ও লেভেল ক্রসিংয়েও দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে চালক ও গার্ডের অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম জানান, ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে রেলওয়ে চেষ্টা করছে। আমরা লাইন সংস্কারের পাশাপাশি নতুন বগি ও ইঞ্জিন আমদানি করছি। রেললাইন মনিটরিং ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা সংস্কার করছি। তারপরও গতকাল ভোরে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল। কারণ অনুসন্ধানে আমরা ৫টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ৩টি রেল বিভাগ, ১টা রেল মন্ত্রণালয় এবং ১টি ডিসি ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি : এদিকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে ৫টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিতু মরিয়মকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ে তিনটি, রেলপথ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
৩ জন বরখাস্ত : এদিকে ঘটনার পরপরই তূর্ণা-নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের লোকোমাস্টার ও গার্ড পলাতক রয়েছে। তূর্ণার কর্তব্যরত লোকোমাস্টার ছিলেন তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে ও ওয়ার্কিং গার্ড আবদুর রহমান। তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।