ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের আঘাত সুন্দরবনে

আগের সংবাদ

পর্দা নামল লিট ফেস্টের

পরের সংবাদ

ভারতের আজ্ঞাবহ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ: আনু মুহাম্মদ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: November 9, 2019 , 8:50 pm

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে হওয়া চুক্তি-সমঝোতার কঠোর সমালোচনা করে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব এবং অর্থনীতির অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, বাংলাদেশ এখন ভারতের আজ্ঞাবহ হয়ে উঠেছে। শনিবার (৯ নভেম্বর) পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে বামজোটের এক গোলটেবিল আলোচনায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিকভাবে ভারতীয় কর্তৃত্বের নানা দিক তুলে ধরে তিনি এ ধরনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পেশাদারিত্ব, কূটনৈতিক দক্ষতা-অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা যায়। কিন্তু সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই যদি হয় ভারতের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকা, তাহলে রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিবর্তন ছাড়া জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সম্ভব না।
আনু মুহাম্মদ বলেন, অভিযোগ করলে প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, তথ্যপ্রমাণ ছাড়া অভিযোগ না করতে। সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেন জাতীয় স্বার্থবিরোধী, তথ্য-প্রমাণসহ বহুদিন ধরে সেকথা আমরা বলে আসছি। তিনি কর্ণপাত করেননি। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ভারত যা ইচ্ছা প্রকাশ করছে, বাংলাদেশ তাই মেনে নিচ্ছে। সর্বোপরি বাংলাদেশ একটি বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে।
গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়া দিল্লি সফরের সময় ভারতের সঙ্গে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা সই এবং তিনটি যৌথ প্রকল্প উদ্বোধন হয়। স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহার এবং এলপিজি রপ্তানির সুযোগ দেওয়া নিয়ে দেশে সমালোচনা হয়।
দুই দেশের মধ্যে সেসব চুক্তির বিষয়ে বামজোট ‘শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদীর মধ্যকার চুক্তি ও সমঝোতা: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বামজোটের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন।
দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাডার স্থাপনে সমঝোতা স্বাক্ষরের সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, এতদিন তিনদিকে ছিল কাঁটাতার। এখন সমুদ্র উপকূল নিয়ন্ত্রিত হবে ভারতের রাডার দিয়ে। উপকূলীয় অঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে।
চুক্তি-সমঝোতার সমালোচনা করে অর্থনীতির আরেক শিক্ষক এম এম আকাশ বলেন, বাংলাদেশ যদি ভারতীয় পুঁজির হোমল্যান্ডে পরিণত হয় তবে তার সাথে আমাদের জাতীয় পুঁজি কখনই পেরে উঠবে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ক্রমাগত সেদিকেই হাঁটছি। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা পানি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বিঘ্নিত করা যায় না। কিন্তু ভারত তাই করে আসছে। এই বিষয়টির সুরাহা করে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে হলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ফোরামে যেতে হবে।
সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, পুঁজি ও চিন্তার আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেতে হলে ভারতের বামপন্থিদের সাথে আমাদের যোগাযোগ ও ঐক্য বাড়াতে হবে।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান সরকার ও কূটনীতিকদের সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের পক্ষে যে ধরনের পেশাদারী প্রস্তুতি, কূটনৈতিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা দরকার তার বিরাট ঘাটতি রয়েছে। ফলে ভারতের পক্ষে চুক্তি-সমঝোতা স্বাক্ষর করা ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে বিশেষ কোনো তৎপরতা দেখা যায় না।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, গণসংতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভুঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম প্রমুখ।