ঘর-সম্পদ রেখে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে অনীহা

আগের সংবাদ

সাইক্লোন শেল্টারে ভোলার দুই লাখ মানুষ

পরের সংবাদ

বেতাগীতে বুলবুল আতংকে নদীপাড়ের মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৯, ২০১৯ , ৭:৪৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৯, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। এরই মধ্যে পায়রা এবং মংলা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। ঝুকিপূর্ণ উপকূলীয় জেলা বরগুনার অবস্থান পায়রা এবং মংলা সমুদ্রবন্দরের মাঝামাঝিতে হওয়ায় এ জেলায় ছয় উপজেলার মানুষের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আতংক বিরাজ করছে। বিশেষকরে বিষখালী নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা বেতাগী উপজেলার মানুষ রয়েছে চরম আতংকে। সবচেয়ে বেশি আতংক বিরাজ করছে বিষখালী নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষের মাঝে।

এখানকার মানুষের মনে বেশি আতংকের কারন জানতে চাইলে তারা ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের ‘সিডর’ এর সেই ভয়াল থাবায় ঝড়ে যাওয়া প্রানগুলোর কথা বলে কেঁদে ফেলেন অনেকেই। বিশেষ করে বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি, কালিকাবাড়ি, বদনিখালি ও ছোট মোকামিয়া এলাকার প্রায় ১৩-১৫ গ্রাম খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেখানে সিডরে অনেক মানুষ প্রাণ হারায়। এরপর আইলা, রেশমীসহ আরও অনেক দূর্যোগের স্বীকার বেতাগী। বিশেষ করে সরিষামুড়ি, কালিকাবাড়ি, গ্রামর্ধন, ক্যাওড়াবুনিয়া, ছোট মোকামিয়া, কেওয়াবুনিয়া, ঝোপখালী এলাকার মানুষগুলো ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার ঘূর্ণিঝড় ’বুলবুল’র আগমন। যেখানে বিষখালী নদীর পারঘেঁষে সরিষামুড়ি, কালিকাবাড়ি, ক্যাওড়াবুনিয়া, বেতাগী বন্দর, কেওয়াবুনিয়া, ঝোপখালী এলাকায় অনেক জায়গায় বেড়িবাঁধ নেই। ভেঙে বিলিন হয়ে গেছে সর্বনাশা বিষখালীর বুকে। এসব জায়গার মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে।

এদিকে আবহাওয়া বার্তার পূর্বাভাস শনিবার মধ্যরাতে যে কোন মুহুর্তে খুলনা ও বরিশাল উপকূলীয় জেলাগুলোতে আঘাত হানতে পারে “ঘূর্ণিঝড় বুলবুল”। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বললে জানা যায়, এ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ কৃষি নির্ভর বলে এখানকার কৃষকদের ক্ষেত থেকে এখন পর্যন্ত শীতকালীন সবজি ও আমন ধান ঘরে তুলতে পারেনি। এরমধ্যে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আসছে শুনে জানমাল নিয়ে আতংকে আছে তারা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাজীব আহসান জানান, দূর্যোগ মোকাবেলায় ইতিমধ্যে সব ধরণের প্রস্ততি গ্রহন করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি। প্রস্তত রাখা হয়েছে উপজেলার ৬৩টি সাইক্লোন শেল্টার। ইতোমধ্যে নিম্ন অঞ্চলের লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি এবং শুকনো খাবার মওজুদ রাখা হয়েছে। লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট’র নেতৃত্বে একটি টিম কাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় খোলা হয়েছে একটি নিয়ন্ত্রন কক্ষ। ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্টের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার সদস্য, পুলিশসহ সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।