বিতর্কিত স্থানে মন্দির, অন্যত্র মসজিদ

আগের সংবাদ

সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা জাপা

পরের সংবাদ

আমতলী-তালতলীর ১২২ সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: November 9, 2019 , 6:07 pm

বরগুনা জেলার আমতলী ও তালতলীতে ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল” এর প্রভাবে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আকাশ অন্ধকাচ্ছন্ন ও হালকা থেকে মাঝারী বাতাস বইছে। এ দুই উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২২টি সাইক্লোন শেল্টার। সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার জন্য দু’টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত এখনো অব্যাহত আছে।

এ অঞ্চল ১০ নম্বর মহাবিপদ সংক্ষেতের আওতায় থাকায় দুই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে জরুরী সভা করে ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল” এর প্রভাব মোকাবেলা ও সকল প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি’র জরুরী সভা করেছে। সভায় স্থাণীয়ভাবে দূর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। কার্যক্রমের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে টানানো হয়েছে সর্তকতা সংকেত পতাকা, সর্বত্র মাইকিং করে সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২২টি সাইক্লোন শেল্টার। আমতলী পৌরসভাসহ উপজেলায় ৭৩টি ও তালতলী উপজেলায় ৪৯টি সাইক্লোন শেল্টারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যালয়গুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাতের কোন এক সময় ঘূর্নিঝড় “বুলবুল” উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এরমধ্যে দুই উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে এলাকাবাসী। বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারী লোকজন শুক্রবার রাতেই আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনদের শুকনা খাবার চিরা, মুড়ি ও চিনি বিতরণ করা হয়েছে।

আমতলী পৌরসভার উদ্যোগে ১২টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনের জন্য বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার ও খিচুরীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান আমতলী পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকসহ উপজেলা প্রশাসন, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা আওয়ামীলীগ উপজেলার সর্বত্র মাইকিং করে যাচ্ছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আমতলী বিভিন্ন খেয়াঘাটের খেয়া ও ফেরী চলাচল। বন্ধ রয়েছে ঢাকা-আমতলীসহ অভ্যান্তরিন নৌ রুটের সকল নৌযান। বন্ধ রয়েছে দু’উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) ইউনিট টিম লিডার মো: রিপন মুন্সী জানান, আমি ও আমার ইউনিটের ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক একযোগে পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্নস্থানে সর্তকতা সংকেত পতাকা উত্তোলন, মাইকিং করে সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য অনুরোধ করেছি।

আমতলী থানার ওসি মো: আবুল বাশার বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় আমতলী থানার উদ্যোগে পূর্ব প্রস্তুতিমূলক সর্তকতা ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী প্রস্তুতি হিসেবে দা, কুঠার, করাত সংগ্রহে রেখেছি। যাতে রাস্তাঘাটে গাছপালা পড়লে তা কেঁটে পরিস্কার করে দিতে পারি।

চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আখতারুজ্জামান বাদল খান বলেন, আমার ইউনিয়নের বৈঠাকাটা সাইক্লোন শেল্টারসহ সকল আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনের মাঝে শুকনো খাবার বিরতণ করা হয়েছে। তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো: সেলিম মিয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় এ উপজেলায় সব প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাইন বিল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় বরগুনা জেলাসহ উপজেলার সকল সরকারী কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলার সারে ৭ হাজার রেডক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবকরা সর্বত্র মাইকিং করে জন সাধারণকে সতর্ক করে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ করছে। দূর্যোগ পরবর্তী চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয়েছে ৪২টি মেডিকেল টিম। সার্বক্ষনিক সহযোগিতার জন্য আমতলী-তালতলীসহ জেলায় ৭টি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।