এবার চীনে দেখা গেল ‘মানুষমুখো’ মাছ

আগের সংবাদ

এগিয়ে নিতে হবে স্কুল ব্যাংকিং

পরের সংবাদ

অবৈধ নাগরিক ফেরতের উদ্যোগ

বিদেশিদের নজরদারির মধ্যে আনা অত্যন্ত জরুরি

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৮, ২০১৯ , ৯:০৩ অপরাহ্ণ

প্রায় ১১ হাজার অবৈধ বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব অবৈধ বিদেশিকে নিজ খরচে তাদের দেশে ফেরত পাঠাবে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিদেশিদের অবস্থান, সংখ্যা, কাজকর্ম এবং তারা কোথায় কী কাজ করছে, এই সামগ্রিক বিষয় খতিয়ে দেখা, নজরদারির মধ্যে আনা অত্যন্ত জরুরি। দেশে দিন দিন বাড়ছে অবৈধ বিদেশির সংখ্যা। রোহিঙ্গা ও বিহারি ছাড়া একটি গোয়েন্দা সংস্থার হিসাবে অবৈধ বিদেশির সংখ্যা মাত্র ২১ হাজার। কিন্তু বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বলছে, শুধু বিদেশি অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যা বাংলাদেশে ১০ লাখ। একাধিক বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, শরণার্থী রোহিঙ্গা, বিহারি এবং অবৈধ বিদেশি মিলিয়ে এ সংখ্যা হবে ৩০ লাখের বেশি। বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকদের অনেকের পাসপোর্টসহ কোনো কাগজপত্রই বৈধ নেই। এরপরও তারা গোপনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন পোশাক খাতে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ২০১৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫ লাখ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করেন। তারা তাদের দেশে এক বছরে ৩ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সমান। সরকারকে কোনো ভ্যাট বা কর দেন না তারা। অথচ এ দেশের নাগরিকের চেয়েও তারা বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ তারা নিজ দেশে পাঠাচ্ছেন। অবৈধভাবে বসবাসকারীদের মধ্যে পাকিস্তান, ভারত, নাইজেরিয়া, ঘানা, কঙ্গো, তাইওয়ান, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, লিবিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, চীন, তানজানিয়া, আফ্রিকা, উগান্ডা ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকরাই বেশি। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষাপটে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিদেশিদের ওপর কড়া নজরদারি থাকলেও বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ কখনই নেয়া হয়নি। শুধু ঘটনাক্রমে কোনো বিদেশি আটক হলেই তখনই নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কয়েক বছর আগে কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনায় বিদেশি নাগরিকদের জড়িত থাকার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকরা অস্ত্র, মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, জালনোট তৈরি, এমনকি জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গেও জড়িত। বিদেশিরা এ দেশে অপরাধের সাহস পায় কোথায়? নিশ্চয় এর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়ী। এদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানে যাওয়া দরকার। বাংলাদেশে কতজন বিদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নেই। এটি বের করা উচিত। দেরিতে হলেও সরকার উদ্যোগী হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ নাগরিককে ফেরত পাঠানোর এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। যারা বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদেরও চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।